Tanbirul Islam

September 16, 2021 0 By JAR BOOK

কবি ও লেখক পরিচিতি

Tanbirul Islam

Doctor

Kalikapur bonpara baraigram natore

হেলিপ্যাডের রঙ তামাশা

এত ভূমিকা দিতে ইচ্ছা করছে না….৩ ২ ১ ০ বলে ডিরেক্ট অ্যাকশনে চলে গেলাম।প্রথম কথা আমরা ভোজন রসিক তাই ডাইনিং দিয়েই শুরু করলাম আজকের লিখা…..১ম,২য়,৩য় বর্ষের জন্য অালাদা অালাদা ডাইনিং টেবিল….এটা ছিল হেলিপ্যাড হোস্টেলের ডাইনিং এর ফার্স্ট রুল…..ইয়ার অনুযায়ী টেবিল ভাগ থাকায় কেউ কারোটায় বসে না।অাবার যখন তরকারি নিতে হত সিনিয়র রা অাগে নিবে এমন নিয়ম।ডাইনিং এ ফার্স্ট ইয়ারদের যেতে হত ফুল প্যান্ট পরে….এটাও ছিল অারেক নিয়ম….কেউ লুঙ্গি তো দূরের কথা…থ্রি কোয়াটার প্যান্ট ও পরতে পারবে না…’rules is rules’…তখন চরম বিরক্ত হলেও…এসব রুল্স এর কথা মনে হলে এখন হাসি পায়…তারপর যথারীতি সেকেন্ড ইয়ারে উঠার সাথে সাথে প্রমোশন হয় ডাইনিং টেবিলেরও….পুরোনো সেই টেবিল হয়ে যায় নতুন জুনিয়রদের….ইচ্ছা হলেও গিয়ে বসা যায় না এক বছরের অভ্যস্ত সেই টেবিলে…কারণ ঐ যে ঐ একটাই…’ rules is rules’….তারপর কেউ বা নতুনত্ব কে মেনে নিয়ে চালিয়ে যায় ডাইনিংয়ে খাওয়া অার কেউ বা সিনিয়রিটির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ধরে রাখে বাইরের হোটেলগুলোর ব্যবসা। এই হলো ডাইনিং সমাচার।
এবার আসা যাক টয়লেট বাথরুমের দিকে,কারণ খাওয়ার পর তো একসময় বাথরুম করতেই হয়।আমাকে যদি কেউ প্রশ্ন করে মেডিেকলের হোস্টেলের সবচেয়ে সুন্দর বাথরুম কোনটা?নির্দ্বিধায় বলে দিব,সেকেন্ড ইয়ারে উঠে যে বাথরুম পেয়েছি ওটাই।কারণ এরচেয়ে ফর্সা,কিউট বাথরুম আর দেখিনাই হোস্টেলে।যাই হোক এত ভাবাভাবির কিছু নাই,বাথরুম ফর্সা হোক বা কালো লম্বা হোক বা খাটো মোটা হোক বা সরু… পয়ঃনিষ্কাশন তো করাই লাগবে।ব্লকের শেষ মাথায় বাথরুম হওয়ায় প্র্ত্যেক বাথরুমগামী ছেলেকে পাড়ি দিতে হয় দীর্ঘ ৩/৪ টি রুম….এ সময় বাথরুমগামী ছেলেটিকে শুনতে হয় নানান অমৃত বাণী।যেমন ধরুন কেউ বলবে কিরে শালা সারাদিন টয়লেটে কয়বার যাস/কি করিস এত/হেগে ভালো মতো পানি ঢালিস/হাগতে যাচ্ছিস হাগবি গলা ফাটিয়ে গান গেয়ে শব্দ দূষণ করিসনা আবার।সবচেয়ে করুণ দশা ছিল যাদের রুম বাথরুমের পাশেই তাদের হ্যান্ডওয়াশের।কারণ বাথরুম কার্য সেরেই সবাই এসে বলত দোস্ত হ্যান্ডওয়াশটা একটু দে।বিরক্ত হলেও কিংবা শতবার মনেমনে গালি দিলেও হ্যান্ডওয়াশ না দিয়ে কোনো উপায় ছিলনা।কোনো সময় তো আবার বলারও প্রয়োজনটুকু না মনে করে নিজ থেকেই হ্যান্ডওয়াশ নিয়ে নিত সদ্য বাথরুম কার্য সম্পন্ন করে আসা সুবোধ বালক।হ্যান্ডওয়াশ সমাচার এখানেই শেষ নয়……আরো আছে।ব্লকে প্রায়ই হতো জন্মদিন পালন মানে কেক কাটা আরকি,আর কেক কাটা শুধু কাটা তেই সীমাবদ্ধ থাকতনা চলে যেত মাখামাখি পর্যায়ে তারপরই শুরু হত হ্যান্ডওয়াশ অভিযান। সবাই রুমে তালা দিয়ে রাখত কারণ যার হ্যান্ডওয়াশ আগে পাওয়া যাবে তারউপরই হামলা শুরু।বাথরুম সি্ঙ্গারের পাশাপাশি টয়লেট সিঙ্গারের প্রতিভাও ছিল অনন্য।এমন কিছু গান আছে যেগুলোর সাউন্ড আমি ফার্স্ট বাথরুম থেকেই পেতাম কারণ আমার রুম ছিল ব্লকের কোণায়।মাঝে মাঝে কিছু গান আবার ভালো ও লেগে যেত সেগুলো আবার ইউটিউবে সার্চ দিয়ে ডাউনলোডও দিতাম।তখন মনে মনে ভাবতাম এমন ২/১ টা বাথরুম সিঙ্গার থাকাও কম বিনোদনের না লাইভ কনসার্টের স্বাদ পাওয়া যায়…পার্থক্য শুধু এইটাই কনসার্টে সিঙ্গারের চেহারা দেখা যায় আর সংমিশ্রণ থাকে নানারকম মিউজিকাল যণ্ত্রপাতির কিন্তু এখানে বাথরুমে থাকা ভাইটির মুখ দেখা যায় না তবে মাঝে মধ্যে বাঁশির আওয়াজ আর পানি গড়িয়ে পড়ার মিষ্টি মধুর শব্দ পাওয়া যায়।থাক সেসব কথা এবার আসি আরেক বন্ধুর কথায় প্রায়ই দেখতাম সে বাথরুমে যাওয়ার আগে স্প্রে মেরে নিত।মনে মনে ভাবতাম শালার গ্লুটিয়াল রিজনে কি এতই ব্লাড বেশি নাকি যে মশার কামড় ঠেকাতে বডি স্প্রে মারা লাগবে!!!হাসতে হাসতে একদিন কথাটা তাকে বলেই ফেললাম কিন্তু উত্তর শুনে আমি নিজেই বোকা বনে গেলাম।সে বলল আরে বোকা মশা আর কয়টাই বা কামড়াবে কিন্ত যে বাজে গন্ধ তার জন্য স্প্রে করি।মনে আমার উদয় হল আরেক প্রশ্ন….সেটাও বলেই ফেললাম। বললাম দোস্ত স্প্রের এই গন্ধ কতক্ষণ থাকেরে?সে বলল আরে গাধা এই গন্ধ আর তোর নিচের ফুটো দিয়ে যে পদার্থ বের হয় দুইটা মিলে এক অনন্য স্মেল তৈরি হয় যেটা তুই ফিল না করলে কোনোদিনও বুঝবি না।এই ঘটনার পর বন্ধুটি আর জীবনে স্প্রে কিনার সাহস করেনি কারণ তার যাবতীয় স্প্রে হয়ে গিয়েছিল জাতীয় টয়লেট ফ্রেশনার।
আবার এমন অনেক পাবলিক ছিল যারা মলমূত্র ত্যাগের পর ঠিকমত পানি ঢালতোনা….কেউ সেই ত্যাগকারীকে খুঁজে বের করতে ডি এন এ টেস্ট করতে পর্যন্ত লেগে যেত আবার কেউবা বলত ওখানে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়া হোক তারপর দশদিনের মধ্যে যার পশ্চাৎদেশে ফোঁড়া উঠবে এটা তারই কাজ।যাই হোক টাকার অভাবে কেরোসিনও কেনা হলনা আর ডি এন এ টেস্টিং ও করা হলোনা….. তাই কারো পশ্চাৎদেশে ফোঁড়াও উঠলনা।
এবার আশা যাক খালার ব্যাপারে….মিষ্টি সুরেলি কন্ঠের খালা আমাদের।হোস্টেল পরিষ্কারের যে খালা ছিল উনি রুমের সামনে এসেই এক লম্বা সালাম দিতেন….সালাম শুনেই বুঝতে পারতাম ৩/৪টা মুখস্থ লাইন এখন বলবেন তিনি….সেগুলো হল-
১.মামা আপনাদের বাথরুম খুবই নোংরা চার মামা মিলে ৪০ টাকা দিবেন সঙ্গে হারপিকের টাকাও দিবেন (যদিও এক হারপিকেই হত সবার বাথরুম পরিষ্কার কিন্ত দরজায় দরজায় এই টাকা চাওয়া থাকত অব্যাহত)
২.মামা আপনাদের পঁচা বাশি যে খাবারই হোক ফেলে দিবেননা আমাকে দিবেন ওগুলো বাসায় গিয়ে নিরামিষ করে খাব।
৩.মামা আপনাদের পুরোনো যে কাপড়ই হোক ফেলাবেননা, আমাকে দিবেন আমার বাসায় মোটা চিকনা বেটে লম্বা সব সাইজের মানুষ আছে কারো না কারো হবেই
৪.মামা সামনে ঈদ বকশিস দিবেন না????
যাই বলি না কেন খালাই ছিল হোস্টেল পরিষ্কার রাখার একমাত্র অবলম্বন।
যাই হোক সবশেষে সেই অমর বাণী না বললেই নয়….তা হল দোস্ত ৫ মিনিটের মধ্যে চারতালা কমনরুমে আয়…
আরেকদিকে রুমে থাকা আরেকজন বলে উঠে,দোস্ত ফরমাল নাকি নরমাল???
আসলে সব হোস্টেল এরই একটা নিজস্বতা থাকে

হেলিপ্যাড তার নিজস্বতার দিক থেকে অনন্য।