Salamat Ullah

September 23, 2021 10 By JAR BOOK

কবি ও লেখক পরিচিতি

Salamat Ullah

Student

Ramu, Cox’s Bazar

বাবা থেকে সূচনা

রক্তের টান আপন প্রেমের এ ধরায়
বাবা তুমি মোর প্রথম ধারক ;
করিয়াছ বহন তব ধমনি শিরায়।
তোমার রক্ত সার করিয়া শোষণ
পুষ্ট হইলাম আমি তোমার গতরে;
দিয়েছিলে সেথায় ভালবাসার আসন।

বাবা তুমি মোর ভুবনের প্রথম বাহন
স্রষ্টা হইতে তোমাতে হইয়া সওয়ারি
ফেলিয়া চরণ ধরায় করিলাম পদার্পণ।
সৃজনকর্তার দেওয়া আমানত
মোর মায়ের গর্ভে রাখিয়াছ যতন করি
করোনি আমানতের খেয়ানত।

মা জননি মোর সূচনা, মহা খুশি
সিক্ত তোমার পরম ভালবাসায় ;
ব্যাথা যত তার চেয়েও পুলকিত বেশি।
মা ধারন করিল মোর অর্ধাঙ্গ
তোমার ভালবাসার সারে হইয়া সিক্ত;
সেই অর্ধাঙ্গ পূর্ণতা পাইয়া হইলাম পূর্ণাঙ্গ।

সন্তুষ্ট হইয়া তোমাদের প্রতি প্রভু আমার
কুদরতির পুরষ্কার ঘোষণা দিয়ে করিলেন,
তোমাদের বপিত বীজে প্রাণের সঞ্চার।
নিলাম আমি আশ্রয় মাতার গর্ভ নীড়ে,
করিয়াছ যতন মোর ঘর মাতার
আহার যুগাইতে তোমার ঘাম ঝরিয়া পড়ে।

তোমাদের ভালবাসার ফসল আমি
রবের কৃপায় ভূমিষ্ট হইলাম এ ধরায়;
তোমরা যে মহা খুশি জানে অন্তর্জামি।
বাবা তুমি ধরনীতে মোর প্রথম আশ্রয়
সোহাগ দিয়ে করিলে মোরে যতন
আপন বুকে দিলে আমায় ঠায়।

উজার করে দিল মা স্নেহে বুক আমার,
শক্তিহীন দন্তহীন আমি ছিলাম অসহায়;
মা’র বুকে যুগিয়েছ তুমি মোর আহার।
তোমার কাঁধে ওঠে হেঁটেছি তোমার পায়ে,
চড়ে বসেছি তোমার ঐ সুউচ্চ মাথায়;
চড়িয়াছি পিঠে ময়লা লাগিয়াছে তব গায়।

মোর উত্থান নিয়ে সদা বিচলিত তুমি
মাথায় নিয়েছ কত দুঃশ্চিন্তার ভার;
তোমার ভারের ভাগ নিতে পারিনি আমি।
নিত্য নতুন জামা পরিয়েছ মোর গায়
নতুন জুতা পরাইয়া দিয়াছ মোর চরণে ;
সর্বাঙ্গ মোর আবৃত্ত করিয়াছ ভালবাসায়।

অমূল্য এই মায়া মমতা আর স্নেহ ভালবাসা
আমার কাছে যেন শুধুই খেলনার সামগ্রী ;
করিয়া হেলা কাটিছে বেলা বাবা হারায় আশা।
স্বপ্নের বীজ আমাতে করিয়া তুমি বপন,
করিয়াছে কত পরিচর্যা যুগের পর যুগ;
আজো হয়নি যে তোমার ঐ স্বপন পূরণ।

এ কেমন জীবন করিলাম আমি গঠন;
করিয়া পুঁজি বাবার নিস্পাপ ভালবাসা
শেষ বয়সে আসিয়া ভাঙে তাঁর স্বপন।
বাবা তুমি চির জয়ী হারোনি কো তুমি;
ভেঙে মোর ঘুম গড়বো তোমার স্বপন-
ঘুচবে দুখ, মুছবে গ্লানি সহায় জগতস্বামী।

 

 

 

একজন সাহসী আমানতদার ব্যাক্তির পদোন্নতি 

কি হলো সুজন! গাড়ি থামালে কেন? স্যার! মনে হচ্ছে গাড়ির ইঞ্জিনে সমস্যা। হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল। বারবার স্টার্ট দেওয়ার চেষ্টা করছি কিন্তু স্টার্ট নিচ্ছে না। তাহলে এখন কি করা যায়? দশটা বাজতে আর মাত্র পনেরো মিনিট বাকি। আমাকে যে ঠিক দশটায় বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিত হতে হবে৷ অফিসের সব কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে বলে দেওয়া আছে যে, আজকে অফিসের কার্যক্রম বন্ধ রেখে ঠিক দশটায় বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতে হবে। আজকে আমাদের একটি নতুন প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা হবে এবং অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারীর প্রমোশন ঘোষণা করা হবে। তাহলে স্যার আপনাকে একটা সিএনজি নিয়ে চলে যেতে হবে। আপনার অপর গাড়ির ড্রাইভার তো আজ ছুটিতে আছে। সে তো এখন তার গ্রামের বাড়ি। আচ্ছা আমি আপনাকে একটা সিএনজি ঠিক করে দিচ্ছি। সে সিএনজির ড্রাইভারকে ফোন দেওয়ার দুমিনিটের মধ্যেই সিএনজি এসে হাজির। স্যার সিএনজি চলে আসছে আসেন। আব্দু সুবহান সাহেব সিএনজি তে উঠামাত্রই ড্রাইভার সিএনজি স্টার্ট দিয়ে সর্বোচ্চ গতিবেগে চালিয়ে একটি জায়গায় এসে থামল। সেখানে একটি কালো জ্যাকেট পরা লোক দাঁড়িয়ে ছিল। এখানেই ঘটে গেল এই গল্পের মূল ঘটনাটি।
ঘটনাস্থলটি হলো কক্সবাজর-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোডের হিমছড়ি পয়েন্টের প্রায় দেড়শ মিটার দক্ষিণে। আব্দু সোবহান সাহেব রয়েল টিউলিপ হোটেল থেকে গাড়ি নিয়ে কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্টে তাঁর ব্যক্তিমালিকানায় প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক ট্যুরিজম ও হোটেল প্রতিষ্ঠানের বিশেষ বোর্ড মিটিংয়ের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। নিরাপত্তার জন্য তিনি গতরাতে তিনি কক্সবাজার এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করে কিছুক্ষণ অফিসের এলাকা পরিদর্শন করার পর রয়েল টিউলিপ(সী পার্ল) হোটেলে অবস্থান করেছিলেন।
আব্দু সোবহান সাহেব ঢাকাতেই থাকেন। অধিকাংশ সময়ই ব্যবসায়িক কাজে দেশের বাইরে থাকেন। আজকের ঘটনার মূল হোতা তাঁরই ড্রাইভার সুজন। সেই বুদ্ধি করে আব্দু সোবহান সাহেবকে ব্ল্যাকমেইল করার জন্য পরিকল্পনা সাজিয়েছে। আব্দু সোবহান সাহেব সবসময় এখানে না থাকলেও জন্য কক্সবাজারের উক্ত অফিসে সবসময়ই দুইটা গাড়ি ও দুইজন ড্রাইভার থাকেন। অপর ড্রাইভার ছুটিতে থাকাতে সুজন ড্রাইভারের পরিকল্পনা সাজাতে আরো সুবিধা হল। সিএনজির ড্রাইভার আর রাস্তার পাশে কালো জ্যাকেট পড়ে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটিকে সে আগেরদিন রাতেই ম্যানেজ করে ছিল। কালো জ্যাকেট পড়া লোকটি গাড়ি থামা মাত্রই আব্দু সোবহান সাহেবের দিকে ছুরি হাতে এগিয়ে যায় এবং তাঁকে গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে বলে। আব্দু সোবহান সাহেব তাঁর হাতে থাকা ব্যাগ সহ বেরিয়ে আসলে তাঁর কাছ থেকে ড্রাইভার ঐ ব্যাগসহ মানিব্যাগ আর মোবাইল কেড়ে নেয়। পরে কালো জ্যাকেটপড়া লোকটি তাঁকে একহাতে চেপে ধরে অন্য হাতে গলায় ছুরি ধরে রাস্তার পূর্ব পাশে পাহাড়ের উপর গহীন জঙ্গলের দিকে নিয়ে যেতে লাগল। ঐ সময় বাইকে করে আব্দুল্লাহ অফসে যাচ্ছিল। তিনি দূর থেকে দেখলেন একটি সিএনজি রাস্তার বিপরীত পাশে দাঁড়ানো। আর স্যুট টাই পড়া এক ভদ্র লোকের গলায় ছুরি ধরে দুজন লোক গহীন জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বুঝতে পারলেন যে ভদ্র লোকটি বিপদে পড়েছেন৷ তিনি বাইক থামিয়ে তাদের পিছু নিলেন। আব্দুল্লাহকে দেখে তারা পালানোর চেষ্টা করলে সোবহান সাহেব তার অফিসের দরকারী কাগজ ও দলিলপত্র রাখা ব্যাগটি রক্ষা করতে ব্যাগটি হাতে টেনে ধরলেন৷ কালো জ্যাকেট পড়া লোকটি ছুরি দিয়ে তার হাতে পোঁচ দিয়ে ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে গেল। আব্দুল্লাহ বুঝে উঠতে পারছিলেননা যে তিনি কি সোবহান সাহেবকে নিয়ে হসপিটালে যাবেন নাকি ঐ লোকগুলোর পিছু নিবেন। সোবহান সাহেব আব্দুল্লাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “” ও ভাই! আমার ব্যাগটি নিয়ে গেল, হায়! আমার সব শেষ। ব্যাগটি এনে দিতে পারেন কিনা দেখেন প্লিজ।”” আব্দুল্লাহ আর কাল বিলম্ব না করে দৌড়ে গিয়ে জ্যাকেট পড়া লোজটিকে জড়িয়ে ধরলে লোকটি তাঁর হাতেও পোঁচ দেয়, তবে আব্দুল্লাহ আগে থেকে সতর্ক থাকায় বেশী জখম হয়নি। পিছন দিক থেকে অপর লোকটি তাঁকে জড়িয়ে ধরলে আব্দুল্লাহ ডান পায়ে পেছন দিকে তার তল পেটে লাথি মারতেই সে মাটিতে পড়ে গেল। তারপর জ্যাকেটধারী লোকটিকে পায়ে পায়ে কল লাগিয়ে মাটিতে উপুড় করে ফেলে দিলো এবং ছুরি টা ছিনিয়ে নিয়ে দূরে নিক্ষেপ করল। তারপর লোকটির নাকে এবং মুখে কয়েটি ঘুষি মারাতেই সেও নিষ্ক্রিয় হয়ে মাটিতে পড়ে রইল। এরপর তিনি ব্যাগটি নিয়ে সোবহান সাহেবের কাছে আসলে দেখেন ভদ্রলোকের হাত দিয়ে প্রচুর রক্ত পড়ছে। আব্দুল্লাহ তাড়াতাড়ি পকেট থেকে টিস্যু পেপার বের করে উনার হাত মুছে দিয়ে তার ব্যবহারের রুমাল দিয়ে হাত শক্ত করে বেঁধে দিলেন। তাঁকে বললেন, “”আপনি কোথায় যাবেন স্যার?”” আমার অফিসে যেতে হবে শীঘ্রই। কিন্তু আপনাকে যে হসপিটালে নিতে হবে আগে। চলেন আমার সাথে। বাইকে আমার পেছনে উঠে এক হাতে আমাকে ধরে বসেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনাকে হসপিটালে পৌঁছে দিব। আচ্ছা চলেন ভাই। হসপিটালের ডাক্তার বললেন উনার জন্য ইমারজেন্সি এক ব্যাগ ব্লাড লাগবে। আব্দুল্লাহ জিগ্যেস করলেন, “”উনার ব্লাড গ্রুপ কী?”” বি পজিটিভ(B+)। তাহলে আর দেরী না করে আমার রক্তের সাথে ক্রস ম্যাচিং করে দেখুন, উনার সাথে মিলে কিনা। আমার ব্লাড গ্রুপও বি পজিটিভ। আমি লাস্ট ব্লাড ডোনেট করেছি প্রায় চার মাস হচ্ছে। ক্রস ম্যাচিং ও মিলে গেলে আবুল্লাহর দেওয়া ব্লাড সোবহান সাহেবের শরীরে সঞ্চালন করা শুরু হয়। এখন বাজে এগারোটা। আব্দুল্লাহ সোবহান সাহেবের কাছে গিয়ে বললেন, “”স্যার আপনি শুইয়ে থাকুন। ব্লাড প্রায় এক ঘন্টা মতো চলবে। আমি পুলিশকে ফোন করে এই ঘটনা সম্পর্কে জানিয়ে রেখেছি। আশা করি আসামিরা ধরা পড়ে যাবে। আপনি আপনার অফিসের কাউকে ফোন করে জানিয়ে দিন আপনার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে।”” ভাই আমার ফোন তো ওরা নিয়ে ফেলছে, আমি এই অফিসের কোন ফোন নম্বর মুখস্থ রাখিনি যে কোনভাবে যোগাযোগ করব। ইশ! আমি তো জানতাম না যে তারা ফোনও নিয়ে গেছে। নয়ত আমি ফোনও নিয়ে আসতে পারতাম। আচ্ছা সমস্যা নাই তারা নিশ্চিত ধরা পড়বে। যে মাইর দিছি ঐ জায়গা থেকে তারা নড়তে পারবেনা৷ আচ্ছা, স্যার আমাকে যেতে হবে। আমার অলরেডি অফিসে এক ঘন্টা দেরী হয়ে গেছে৷ আজকে ঠিক সময়ে অফিসে পৌঁছাতে না পারার কারনে হয়ত চেয়ারম্যান আমাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে পারেন। আজ চেয়ারম্যান সাহেব উপস্থিত থাকার কথা। এ ঘটনা সম্পর্কে বলে হয়ত অন্যদিন হলে পার পাওয়া যেত। কিন্তু আজ তো অফিসে উপস্থিত থাকা সবার জন্য বাধ্যতামূলক। জানিনা আমার কপালে কি আছে! সোবহান সাহেব বললেন, “”আপনি চলে গেলে আমার কি হবে ভাই। আমার সাথে আমার গাড়ির ড্রাইভারই শুধ ছিল। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বিশ্বস্ত এই ড্রাইভার ছাড়া আর কাউকে সাথে রাখিনি। এখন আমার মনে হচ্ছে সেই আমার এই ক্ষতিটা করলো। সে এতক্ষণে আমার গাড়ি নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছে।”” আপনি চিন্তা করবেননা। আপনি হসপিটালে রেষ্টে থাকুন। আমাকে এখন অফিসে যেতেই হবে। অফিসে আমার ড্রয়ারে অফিসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আছে, সেগুলো চেয়ারম্যান স্যারের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। কিন্তু আব্দুল্লাহ ভাই! আপনিও তো হাতে আঘাত পেয়েছেন মনে হচ্ছে। লাল হয়ে গেছে। জি স্যার, ঐ লোকটি আমাকেও হাতে পোঁচ দিতে চেয়েছিল। আমি আগে থেকে সতর্ক থাকায় বেঁচে গেছি। তেমন লাগেনি। এটা সমস্যা না স্যার, আমি চিন্তা করতেছি আমি এই মুহুর্তে অন্যের আমানতের খেয়ানত করতেছি। সোবহান সাহেব কৌতুহলের সাথে বললেন, “”কিভাবে?”” এই যে এখন বাজে এগারোটা বিশ মিনিট। অলরেডি এক ঘন্টা বিশ মিনিট সময় যা আমার অফিসে দেওয়ার কথা তা আমি এখানে ব্যয় করে ফেলেছি। এতে হয়ত আপনার একটু হলেও উপকার হয়েছে কিন্তু আমার অফিসের চেয়ারম্যানের আমানত তথা ঐ এক ঘন্টা বিশ মিনিট, যা তিনি আমার কাছ থেকে মাসিক বেতনের বিনিময়ে পাওয়ার অধিকার রাখে, তা আমি এখানে ব্যয় করাতে তাঁর কোন উপকার হয়নি। বরং ক্ষতি হয়েছে। ক্ষমা করবেন স্যার, আপনি চিন্তা করবেননা। আমি অফিসে গিয়ে দরকার হলে স্যারের সাথে দেখা করে ছুটি নিয়ে আপনার কাছে আবার আসব। আপনি কিছু মনে করবেননা স্যার, আপনার আপত্তি না থাকলে আপনার সাথে আমার একটি ছবি তুলে নিয়ে যাবো, যাতে এই ঘটনা সম্পর্কে অফিসের বসদেরকে বা চেয়ারম্যান স্যারকে বিশ্বাস করাতে পারি। আরে ভাই আপত্তি কিসের। আপনি আজ আমার আপন ভাইয়ের মত উপকার করেছেন। আপনার এ ঋণ শোধরানোর ক্ষমতা আমার নাই, যদিও আমি কোটি কোটি টাকার মালিক। টাকা বা অন্য কিছু দিয়ে এ ঋণ শোধরানো যাবেনা ভাই। আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন৷ আপনি তাহলে আর সময় নষ্ট না করে অফিসে চলে যান। আপনার কোন ভিজিটিং কার্ড থাকলে আমাকে দিয়ে যাবেন ভাই? জি অবশ্যই স্যার, এই নিন৷ সোবহান সাহেবে কার্ডটি হাতে নিতে নিতে বললেন, “”আপনি আমার এত উপকার করার পরও স্যার বলে সম্বোধন করে যাচ্ছেন, এতে আমার নিজেকে আরও বেশি অসহায় মনে হচ্ছে। সোবহান ভাই বলে ডাকলে খুশি হতাম।”” ও আচ্ছা আচ্ছা। আসলে কর্পোরেট জব করি তো অফিসে এ শব্দটি দ্বারা প্রতিনিয়ত একে অপরকে সম্বোধন করতে করতে অভ্যাস হয়ে গেছে। আচ্ছা ঠিক আছে আমি তাহলে এখন যাই৷ আবার দেখা হবে ইনশাআল্লাহ।
আব্দুল্লাহ অফিসে এসে দেখলেন অফিসের সবার মধ্যে কেমন জানি অস্থিরতা আর কৌতুহল বিরাজ করছিল৷ বোর্ড মিটিংও নাকি বসে নাই। বসবেই বা কী করে। মিটিংয়ের মধ্য মণি চেয়ারম্যান স্যারই তো নিখোঁজ। সিইও স্যারের সাথে আব্দুল্লাহর দেখা হলে তিনি আব্দুল্লাহকে অফিসে আসতে বিলম্ব হওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি কিছুক্ষণ আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা উল্লেখ করেন এবং সাথে সাথে মোবাইল বের করে ভুক্তভোগীর সাথে হাসপাতালে তোলা ছবিটা দেখিয়ে বললেন, “”দেখেন তো স্যার এই ভদ্রলোকটিকে চিনতে পারেন কিনা?”” আরে ইনি তো আমাদের চেয়ারম্যান স্যার। সাথে সাথে তিনি আব্দুল্লাহ কে সাথে নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। সাথে আরো কিছু উর্ধ্বতন কর্মকর্তা গাড়িবহর নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। হাসপাতালে যখন আব্দুল্লাহ আর আব্দু সোবহান সাহেবের দেখা হলো তখন সোবহান সাহেব বিছানা থেকে উঠে পড়লেন। রক্ত সঞ্চালন অলরেডি সম্পন্ন হয়ে গেছে। তিনি দু’ হাত বাড়িয়ে আব্দুল্লাহকে নিজের দিকে ডেকে নিলেন। আব্দুল্লাহ লাজুক লাজুক চেহারায় তার সাথে গিয়ে বুক মিলাতেই সোবহান সাহেব কাঁদো কাঁদো মৃদু গলায় বলতে লাগলেন, “” আমি আরো কিছুক্ষণ আগে এই সৎ সাহসী মহৎ ও আমানতদার মানুষটিকে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারতাম, যদি আপনার ভিজিটিং কার্ডটি আপনি হাসপাতাল থেকে প্রস্থান করার আগেই চোখ বুলাতাম। আব্দুল্লাহ বললেন, “”দুঃখিত স্যার আমি আপনার অফিসে জয়েন করেছি মাত্র সপ্তাহ দুয়েক হলো মাত্র। আপনাকে বা আপনার কোন ছবি আগে কখনো দেখিনি তাই চিনতে পারিনি।”” সমস্যা নেই আব্দুল্লাহ ভাই, আপনি আমাকে না চিনেও নিজ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তুমি যে আমাকে দুষ্কৃতকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করলে এটা আমার জীবনের অনেক বড় সৌভাগ্য। তোমার ভিজিটিং কার্ড দেখার সাথে সাথেই আমি একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। “” তারপর তিনি উপস্থিত সবার উদ্দেশ্য আরো বললেন, “” আপনার সবাই শুনুন, আজকে মিটিংয়ে আমি যথাসময়ে উপস্থিত থাকতে পারিনি বলে দুঃখিত। যদিও আগামীকাল আমার সিঙ্গাপুরের ফ্লাইট, আমি সেটা কেন্সেল করলাম। আগামীকাল ইনশাআল্লাহ এই মিটিং টি সম্পন্ন হবে। এবং আগামীকালও অফিসের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে, আজকে এই মুহুর্তে প্রোমোশন বিষয়ক একটি সিদ্ধান্ত আমি অগ্রীম ঘোষণা করছি যে, আজ থেকে এই আব্দুল্লাহ কক্সবাজারের এই অফিসের একজন রিসিপশন অফিসার থেকে ডিরেক্টর পদে উন্নীত হলেন। “”