Saddam Hossain

September 16, 2021 0 By JAR BOOK

কবি ও লেখক পরিচিতি

Saddam Hossain

Pupil Advocate 

36/1 kosaitoly len,  kosaitoly, Bongshal, Dhaka

অতিথি

 

এস,কে,সাদ্দাম হোসেন

 

বিমল বাবুর হার্ডওয়্যারের ব্যাবসা, সারা দিন ব্যাবসার কাজেই ব্যস্ত থাকে সে। একা একা বাড়ি আর ব্যাবসা সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় তাকে। ব্যাবসা তার রক্তের সাথে মিশে আছে এই ব্যাবসা শুরু করেছিলো তার স্বর্গীয় দাদা ঠাকুর। সেখান থেকে তার বাবা। বাবার মারা যাবার পর থেকে সেই একাই ব্যাবসাটাকে চালাচ্ছে। বাড়িতে বয়োবৃদ্ধ মা আর স্ত্রী কে নিয়ে তার সংসার।মা তেমন একটা চোখে দেখতে পায়না তাই বেশি সময় কাটে নিজ কক্ষে।স্ত্রী অবশ্য মায়ের দেখা শুনা করে কিন্তু স্ত্রী কে দেখার সময় বিমল বাবুর নেই বললেই চলে। স্ত্রীকে দেবার মত সবি আছে শুধু সময়ই নেই। স্ত্রী অবশ্য ইকটু- আকটু গান গায়তে পারে। তার ইচ্ছেতেই বিমল বাবু বসার ঘরে বড় একটা পিয়ানো বসিয়ে দিয়েছে সাথে হারমনি,তবলা,বাঁশি আর বিণা ও কিনে দিয়েছেন। স্ত্রীর সংসারে তেমন কোন কাজ না থাকায় সারা দিন গান চর্চা করেই সময় কাটে তার।অবশ্য একটা গানের মাস্টার ঠিক করে দেবার জন্য বহু দিন ধরেই বলছে বিমল বাবুর স্ত্রী। কিন্তু কাজের চাপে খোঁজ নিতেই পারেনি সে।অবশেষে দূর সম্পর্কের এক পিসেতো ভাইকে পাওয়া গেলো।ছেলেটা শিক্ষিত আবার বেশ গানের গলা। ভালোই হলো ব্যাবসার হিসাব-পত্র দেখা-শুনা একই সাথে গানের চর্চা যাকে বলে এক ঢিলে দুই পাখি শিকার করা।বাড়ি দোতলায় বিমল বাবু, স্ত্রী ও পাশের কক্ষে তার মা থাকে।গানের মাস্টারকে নিচ তলায় অতিথি কামরায় থাকার ব্যাবস্থা করে দেন।

প্রতি বরিবার অবশ্য বিমল বাবু বাড়িতেই থাকেন ওই দিন তার ছুটি।কিন্তু ছুটি শুধু নামে লম্বা ঘুমে সকাল হয় মাঝ দুপুরে।তারপর স্নান সেরে খেয়ে বসেন পুরনো না পড়া বই গুলো নিয়ে। বিকেল হলে আর বই নিয়ে বসে থাকা সম্ভব হবে না। তার এক মাত্র বন্ধু প্রনব চৌধুরী আসবেন তার বাড়িতে। সারা বিকেলটা দুজনে গল্প আর চায়ের আড্ডা তে কাটিয়ে দেন। বিমল বাবুর স্ত্রী অবশ্য মাঝে মাঝে এসে তাদের সঙ্গ দেন।কিন্তু দুই বন্ধুর গল্পে সে এককোণে হয়েই বসে থাকে। কি যে গল্প করে তারা হেঁসে উঠে তা বুঝা মুশকিল।

আজ চারটে বাজতে না বাজতেই প্রনব এসে হাজির। প্রবন কে দেখেই বিমল বাবু এক গাল হেঁসে বললো- কিরে এসেছিস আমি আরো ভাবছি আসিসনা কেন। প্রনব এগিয়ে এসে একটা ব্যাগ টেবিলে রাখে ফিসফিস করে বলে- আরে আরো আগেই আসতে পারতাম এটা আনতেই দেরি হয়ে গেলো বলেই একটা মুচকি হাসি দিলেন। বিমল বাবু বুঝলেন তার বন্ধু আজ কি নিয়ে এসেছে।বিমল বাবু- তাহলে চল আজ চিলেকোঠায় গিয়ে বসি।প্রনব ইশারা করে দুজনেই চিলে কোঠায় গিয়ে বেশ আরাম করে বসে সাথে দুটো গ্লাস আর প্রনব চৌধুরীর নিয়ে আসা হুসকির বোতল ও বোম্বে চানাচুর, আজ বিকেলটা বেশ জমবে। প্রনব চৌধুরী গ্লাসে হুসকি (মদ) ঢালতে ঢালতে- মদের খেতে খেতে সাথে একটা গান হলে খুব একটা খারাপ হতো না কি বলিস, ডাকবি না কি বৌদিকে। বিমল বাবু আরে তোকে তো বলাই হয়নি নতুন গানের মাস্টার এসেছে কাল, দাঁড়া তোর সাথে আলাপ করিয়ে দেই, বলেই বিমল বাবু চিলেকোঠা হতে ডাক দিলো কিশোর একবার এই দিকে আয়তো,, একটু পরেই কিশোর এসে- আমায় ডাকছো দাদা।বিমল- আয় এ হচ্ছে আমার বন্ধু প্রনব চৌধুরী আর প্রনব ও হলো কিশোর আমার পিসেতো ভাই নতুন গানের মাস্টার। প্রনব- তা বেশ করেছিস অতিথি হলো ভগবান, অতিথি সেবা করলে নাকি ভগবানের সেবা করা হয়, তা ভাই হবে নাকি একটু, বলেই একটা গ্লাস এগিয়ে ধরে সামনের দিকে, কিশোর মাথা নেড়ে না সূচক বলে। প্রনব চৌধুরী গ্লাস টা নিয়ে নিজেই ঢকঢক করে গিলে নেয়। তা ভাই শুনাও দেখি একখানা গান, কিশোর জানালা পাশে চেয়ারে বসে গান গায়তে থাকে,,,, এই আড্ডা চললো রাত অবদি।

বিমল বাবুর এখন অনেকটা চিন্তা মুক্ত পিসেতো ভাই অনেক কাজেই তাকে সাহায্য সহোযোগিতায় তো করেই তার সাথে সংসারে টুকিটাকি কাজ ও করে দেয় সে।সংসারে দায়িত্ব বলতে গেলে সে এখন একাই পালন করে, তাই বলে এমন নয় তার সেবা যত্নের কোন কমতি হয়, এই তো কয়দিন আগে জ্বরে সে প্রায় অজ্ঞান আবস্থা, বিমল বাবুর স্ত্রী নিজে খেয়ে না খেয়ে সেবা যত্ন করে তাকে সুস্থ করে তুলেছে।বিমল বাবু ও কোন কিছুতেই বাঁধা দেয় নি বরং ডাক্তার খবর দেয়া ঔষধ-পত্রের খরব সবি দিয়েছে। হাজার হোক অতিথি ভগবানের আরেক রুপ তার সেবা করা পূর্নের কাজ।

প্রনব চৌধুরী তিন মাস হলো কোলকাতা গেছে বন্ধু কোন খোঁজই সে নিতে পারে নি সে। তিন মাস পরে দেশে ফিরে সবার আগে সে তার প্রান প্রিয় বন্ধুকে দেখতে এলো। এর আগে যতবারই সে বিমল বাবুর বাড়িতে এসেছে, বিমল বাবু তাকে দেখা মিষ্টি করে একটা হাঁসি দিয়েছে। কিন্তু এতো দিন পরে বন্ধুকে দেখে তার সেই হাঁসি মাখা মুখটা বেশ মলিন হয়ে আছে। প্রনব চৌধুরী একটা পারফিউমের বোতল বন্ধু হাতে দিয়ে- কিরে কি হয়ছে তোর, চারপাশে একবার তাকিয়ে আবার বলে- বাড়িটা এতো ফাঁকা ফাঁকা কেন কাওকেই দেখছি না যে,, বিমল বাবু একটু হেঁটে জানালার কাছে গিয়ে আকাশে দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ছেরে মৃদুস্বরে বল- ভগবান প্রসাদ নিয়ে কৈলাশ চলে গেছে,,,,,,,

“”এস,কে,সাদ্দাম হোসেন””

03/09/2021