Rafeya Bosry Rupa

September 10, 2021 20 By JAR BOOK

কবি ও লেখক পরিচিতি

Rafeya Bosry Rupa

গ্রাম-বাঘাবাড়ি

থানা-শাহজাদপুর

জেলা-সিরাজগঞ্জ” 

বিরহের পাখি

তোমার কি সে–ই দিনের কথা মনে পড়ে?

যেদিন তুমি আমারে লালটুকটুকে একখানা  বেনারসী শাড়ি দিয়া,

হাতে চুড়ি, পায়ে আলতা,চোখে গাড় কাজল দিয়া

তোমার বাড়ির বউ বানাইয়া নিয়া আইলা |

বয়স তহন আমার কতই বা হইবো

এই ধরো সবে চৌদ্দ পনেরো,,,

বিয়া কি জিনিস তা আমি বুঝি নাই

ভয়ে কুঁকড়ে গেছিলাম,

তহন তুমি আমার এই হাতে হাত রাইখা কইছিলা-

ভয় কিসের গো তোমার, আমি তো আছি

তোমার সুখ দুঃখের সাথী |

চোখে গাড় কইরা কাজল দিলে নাকি আমায় খুউব মায়াবতী লাগে 

তাই ভালোবাইসা সব সময় চোখে কাজল দিয়া রাখোনের কথা কইতা |

গন্জো থেইকা আমার লাগি রেশমি চুড়ি কিন্না আইনতা,

গোপনে আমারে শাড়ি কিন্না দিতা,

অভাবের সংসার তাই-

কেউ জিগাইলে কইতে কইতা আমার বাপের বাড়ি থ্যাইকা দিছে |

কিন্তু আমার খুব ইচ্ছা কইরতো হগ্গলরে গিয়া দেহাইতে,

এই দেহ আমার সোয়ামি এইডা কিন্না দিছে |

শ্বাশুরি ননদের ভয়ে কিছু কইতে পারি নাই |

প্রায় রায়তে আমি তোমার লাগি সাইজা বইসা থাকতাম |

তবে এহন সাইজা আমি কারে দেহামু ??

তুমি তো হঠাৎ কইরাই আমারে ফালাইয়া চইলা গেলা ,

সাজোনের অধিকার টুকু নিয়া গেলা,

এমন এক দ্যাশে গেলা –

যে দ্যাশ থাইকা কাউরে ফিরায়া আনন যায় না |

আমার বয়স এহন কতই বা হইবো

প্রায় তিরিশ ছুঁইছুঁই,

তুমি চইলা যাওনের পর

আত্মীয়রা  আমারে কত্ত কইলো

ময়নার মা তুই আবার নিকা বইসা নতুন সংসার সাজা,

এই বয়সে ক্যামনে থাকবি এত হিংস্র জানোয়ার গো  ভীরে |


কিন্তু আমি নিকা বসি নাই,

হিংস্র জানোয়ার গো হিংস্র নজরের সাথে যুদ্ধ কইরা,

তোমার দেওয়া উপহার 

 ছোট্ট ছোট্ট তিনখান সোনার চাঁদের টুকরোর মুখের পানে চাইয়া,

তোমার স্মৃতি আঁকড়ে ধইরা থাকতে চাইছি |

ওরাই যে আমার বাঁইচা থাকোনের শ্যাষ অবলম্বন |


তুমি তো জানো ময়নার বাপ-

বৃষ্টি আমার একদম ভালো লাগে না,

তবে এহন লাগে-

আকাশ ভাইঙ্গা যহন বৃষ্টি ঝরে,

তহন ছুইট্টা যাই ভিজোনের লাগি,

কারণ, বৃষ্টি তে ভিজে কাঁদলে কেউ বুঝবার  পারে না |


ভাগ্যিস চোখের জলের কোন গন্ধ হয় না

নইলে তিমির রায়তে বিরহের পাখির চোখের জলের গন্ধে কোন সুখ পাখি ঘুমাইতে পারতো না,

দিন শ্যাষে মানুষ নির্দিষ্ট একখান মানুষের অভাব অনুভব করে,

আমিও রক্তে মাংসে গড়া একখান মানুষ,

আমারো কষ্ট হয়

আমিও তোমার অভাব অনুভব করি ময়নার বাপ-

একা থাকোনের যে কী যন্ত্রণা এটা সেই বোঝে

যার আপন মানুষ টা আর এই ধরনীতে নাই |


হতভাগিনী তো সেই

যার চোখ নামক আকাশ ভাইঙ্গা বৃষ্টি ঝরে ,

প্রতিটা রাইতে সেই বৃষ্টির জলে মাথার বালিশ ভেজে,

আমি তো সেই হতভাগিনী,

যার অন্তরের অম্বরে বজ্রপাত ঘটে দিবা নিশি,

যে বজ্রপাতের শব্দ কেউ শোনে না,

যে বজ্রপাতে পুইড়া ছারখার হয়ে যায় সবকিছু,

যহন ছোট ছোট পোলা মাইয়া গুলান আব্বা আব্বা কইয়া তোমারে খোঁজে,

তহন এমন দৃশ্য দেইহা বুকখান আমার ফাইট্টা যায় |

 বুকের ভেতর অনল ভাটার মতোন জ্বলে,

দাবানলের আগুনে বাঁইচা থাকোনের শ্যাষ ইচ্ছা টুকু মইরা যায়তে চায়,

নিরবতার চিৎকার কারো কানে পৌঁছায় না,

 কি দিয়া বুঝাই যে ওগো বাপ আর নাই এই দুনিয়ায়,


বিরহের জ্বালা সেই বোঝে

যে বিরহের নীড়ে বাস করে |


আমি এমন এক বিরহের পাখি

বিরহের জ্বালা আর সইতে নাহি পারি,

দাঁতে দাঁত রাইখা 

তোমার শ্যাষ স্মৃতি আঁকড়ে ধইরা থাকি,

ওগো লাইগা যে আমারে বাঁচতেই হইবো,

জীবন্ত লাশ হইয়া হইলেও |


তুমি ভালো থাইকো গো ময়নার বাপ

জায়নামাজে সিজদায় কাইন্দা এই প্রার্থনাই করি |

তুমি ভালো থাইকো, তুমি ভালো থাইকো |