Pervin Akter

September 15, 2021 0 By JAR BOOK

কবি ও লেখক পরিচিতি

Pervin Akter

Teacher

Rangunia, Chattogram.

প্রবন্ধ 


১) ★★দুঃস্থদের সেবায় লেখকের করণীয়★★


“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””

——-পারভীন আকতার


  একজন লেখক,বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। জ্ঞান,মননশীল চিন্তাধারা আর দৈনন্দিন কাজে তাঁর মেধার প্রখরতা লক্ষ্যণীয়।একজন প্রকৃত উচ্চমার্গীয় সুচিন্তার লেখক দৃশ্যত মানবিকতা সম্পন্ন হয়ে থাকেন।তাঁর ভিতর মানুষের সুখে সুখী আর দুঃখে দুঃখী হওয়ার ব্যগ্রতা থাকে।আকাশের মতো তাঁর বিশাল মনে বাস্তবে আর কল্পনায় মানুষকে তিনি শ্রেষ্ঠ স্থান দেন।হয়তো মানুষের মাঝে ষড়রিপুর তাড়না আছে,বিপথে গিয়ে অনেকেই হারিয়ে যায়।তাঁদের সুপথে আনার দায় অনেকটা সৃষ্টিশীল মানুষদের হাতে এসে পড়ে।এমনতো নয় মানুষ নিজেই সব নিজের অভাব পূরণ করতে সক্ষম।অন্যদের ঐকান্তিক সহযোগিতা তার দরকার।আর এই ক্ষেত্রে লেখক হিসেবে নিজের সামর্থ্যানুযায়ী সমাজের অবহেলিত, অসহায় বিত্তবৈভবহীনদের সাহায্যের হাত বাড়াতে পারেন অনায়াসে যা ইহকাল আর পরকাল দুটোর জন্যই পূণ্যের আর আত্মতৃপ্তিতে চলবে লেখক সত্ত্বা।এতে সমাজ ও দেশের প্রতি মানুষ হিসেবেই যথাযথ দায়িত্ব পালনও হবে বৈকি।একজন লেখক চাইলেই নিজেকে মানবিক পরিচয়ে গড়ে তুলতে পারেন।


একজন লেখকের দুঃস্থদের করণীয়সমূহ নিম্মে বর্ণিত হলোঃ 

************************************


একজন লেখক দুঃস্থদের জন্য নিজে,বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় নিন্মের কাজগুলো অনায়াসে করতে পারেন।

—————————–

১)লেখকের বলিষ্ঠ লেখনীর মাধ্যমে  দুঃস্থ অসহায়দের মনে আশা জাগিয়ে রাখা।অল্প কথায় সুন্দর মনোগ্রাহী শব্দ চয়নে মনের শক্তি সাহসকে জাগিয়ে তোলা।


২) লেখার মাঝে এমন ব্যগ্রতা যোজনা করতে হবে যেন কেউ জন্মগতভাবে দুঃস্থ নয় বা এটা কোন অভিশাপ নয়।মানুষ চাইলেই শ্রম দিয়ে তা চাপিয়ে উন্নত জীবনে আসতে পারে।


৩) লেখকগণ নিজেদের মাঝে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুঃস্থদের আর্থিক,সামাজিক সহায়তা দিতে পারেন।বিভিন্ন শিক্ষাবৃত্তিসহ, নানা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে কারগরী দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরি করতে পারেন।


৪) দুঃস্থদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন।বিভিন্ন পরিচিত পরিমন্ডলে অসহায়দের জন্য বরাদ্দ থাকে।তা কাজে লাগাতে হবে।


৫) বিদেশী সাহায্যকারী সংস্থাদের সাথে সংযোগ স্থাপন করিয়ে দিতে পারেন যাতে তাদের বিভিন্ন সমস্যায় তারা কাজ করতে পারেন।


৬) “”দুঃস্থ মেধালয়”” এমন কিছু  ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারেন সমাজের বিত্তবান আর বিদ্যুৎসাহীদের নিয়ে।যেখান থেকে সুদ,জামানতবিহীন ঋণ নিয়ে নিজেরা সাবলম্বী হতে পারেন।


৭) সাপ্তাহিক বা মাসিক মিথস্ক্রিয়া আলাপন করে দুঃস্থদের মনের কথা, সমস্যা শুনতে পারেন।স্থানীয় গণমান্যব্যক্তিবর্গ,স্থানীয় সরকার সকলের উপস্থিতিতে আলোচনা ফলপ্রসূ করা সম্ভব।


৮) বিবাহ উপযুক্ত মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করে দিতে সহায়তা করতে পারেন।সহায় সম্বলহীন পরিবারে এ এক বড় বোঝা, কন্যা দায়গ্রস্ত বাবা মা তা কেবল উপলব্ধি করতে পারে।একজন লেখক নিজেকে বাবামায়ের আসনে বসিয়ে ভাবলে কাজটা খুবই মানবিক।


৯) অর্থাভাবে মেধাবী গরীব শিক্ষার্থী পড়তে পারছেনা,ভার্সিটিতে চান্স পেয়েও পড়ার সামর্থ্য নেই।তার দায়িত্ব কিছুটা হলেও একজন লেখক নিতে পারেন।আর বিভিন্ন ব্যাংক,এনজিও শিক্ষা বৃত্তি দেয় তা পেতে সহায়তা করতে পারেন।


১০)প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে গরীবদের মাঝে বিভিন্ন শিক্ষামূলক ডকুমেন্টরী প্রদর্শনে সহায়তা করতে পারেন।যেমন মিনা কার্টুন,রুপান্তর,গণশিক্ষার আসর, স্বাস্থ্যবার্তা,মাটিও মানুষ কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান ইত্যাদি। এসব তাদের মনকে জাগ্রত করবে আর উৎফুল্ল হয়ে কাজে উৎসাহী হবে।


১১)গ্রামে পালা গান,জারি সারি গান আর যাত্রা ইত্যাদির ব্যবস্থা করতে পারেন যাতে দুঃস্থরা বিনামূল্যে বিনোদন উপভোগ করতে পারে।স্থানীয়দের সাথে নিয়ে এসব কাজ সহজে আয়োজন করা যায়।



১২)বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ক্যাম্প চালু করতে পারেন স্থানীয় সরকারী বেসরকারী ডাক্তারদের বুঝানোর মাধ্যমে।সমাজের সম্মানজনক মানুষ হচ্ছেন একজন লেখক।তাঁর কথায় যৌক্তিক ভাবনা থাকলে তা অবশ্যই সবাই করতে আগ্রহী হবে বৈকি।


১৩) গ্রামের শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের উদ্ভুদ্ধ করে দুঃস্থ  শিশুদের বিনামূল্যে পড়ালেখার ব্যবস্থা করে দিতে পারেন।লেখক নিজেও পড়াতে পারেন সময় সুযোগ করে।


১৪)লেখকের সাধ্য আর সামর্থ্যানুযায়ী সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ থাকলে ভিটেবাড়ীহীন দুঃস্থদের  আবাসনের ব্যবস্থাও করে দেয়া সম্ভব।যেমন একটি বাড়ি একটি খামার,সবুজ পল্লী ইত্যাদি।



১৫)লেখক তাঁর লেখার মাধ্যমে স্বপ্ন দেখাবেন,স্বপ্নের পথে হাঁটাবেন।একদিন দুঃস্থরা নিজেদের আর অসহায় মনে করবে না,লেখার অনুপ্রেরণায় সামনে এগিয়ে যাবে।


১৬)দুঃস্থদের সবক্ষেত্রে সমান অধিকার একজন নাগরিকের যেমন। সেই লক্ষ্যে একজন লেখক সমাজেরই অংশ।তিনি খেয়াল রাখবেন কেউ যেন ন্যায্য অধিকার থেকে বৃন্তচ্যুত না হন।


১৭) স্থানীয়,উপজেলা, জেলা ভিত্তিক বিভিন্ন সহায়তা।দুঃস্থদের নাম যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্তকরণে একজন লেখক সহায়কভূমিকা পালন করতে পারেন।যেমনঃবয়স্ক ভাতা,বিধবা ভাতা,গর্ভবতী ভাতা,রেশন কার্ড,যাকাত ইত্যাদি।


পরিশেষে বলতে চাই, একজন লেখক জাতির দর্শনজাতক,উন্নয়ন ভাবনার সারথি। তাই তিনি চাইলেই সময় ও সুযোগ, নিজের মেধা কাজে লাগিয়ে সুন্দর, ক্ষুধা এবং দারিদ্র্যমুক্ত একটি সমাজ বিশ্বকে উপহার দিতে সক্ষম।সেই লক্ষ্যে মানবতার জয় টিকা লেপন করতে হবে এই বসুধার জলস্থল উপরিভাগে।পৃথিবীতে মানুষ হয়েই সবাই জন্মায়, দুঃস্থ আর অসহায় হয়ে নয়।পৃথিবীতে এসে সে যেন ছিন্ন হয়ে না যায় দুঃস্থের অবহেলার পোশাক পড়িয়ে যেন না দেয় এই সমাজ ব্যবস্থা, তার তরে মানবতার ফেরিওয়ালা হয়ে পাশে থাকবেন একজন লেখক।


পারভীন আকতার

কবি ও শিক্ষক 

রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম। 

০১৮৬৫৫৭৯৬২৬


 ২)★সৃষ্টিধর্মী ও সৃজনশীল কর্ম ও একাকী জীবন যাপন★

————————————-

———————————-


    —-পারভীন আকতার

————————————-


★★ সৃষ্টি শব্দটি সৃষ্টিকর্তাকে ঘিরেই জন্ম।পৃথিবীর, এই বিশ্ব পরিমন্ডল বিষ্ময়কর সৃজনশীল সৃষ্টি আদিম যুগ থেকেই আসা।মানুষ পৃথিবীতে পা রাখার পর থেকে প্রকৃত অর্থে সভ্যতার অগ্রসর।প্রতিটি আশ্চর্য উৎকর্ষ  মেধা মনন আর শারীরিক শক্তির প্রয়োগিক কার্যক্রমই বর্তমান আধুনিক সভ্যতার উত্তরণ।এখন কথা হচ্ছে মানুষ,প্রকৃতি নিদারুনভাবে সভ্যতার সুযোগ সুবিধা ভোগ করে কিন্তু তার কর্মকারকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন দিতে জানে না অনেক সময়।সৃষ্টিশীল,মননশীল কার্যকলাপ তাদের কাছে খেলনার বস্তু, পাগলের উঠোন আর বস্তাপঁচা আর্বজনার মতো।


★★ পৃথিবীতে তিন স্তরের ভাবনা নিয়ে মানুষ বাস করে।

প্রথম স্তরের ভাবনার মানুষজন শুধু নিজের কথা ভাবে,আত্মকেন্দ্রিকতায় চলে।তাদের চেষ্টা থাকে সর্বোচ্চ ভালোটা তারা গ্রহণ করতে পারবে বাকীদের কী হবে তার ভাবার দরকার নাই।এসব মানুষগুলো এই স্বার্থের ভাবনায় জীবন পার করে দেয়।বিনিময়ে সভ্যতা গড়ায় তাদের কোন অবদান লক্ষ্য করা যায় না।বরং অন্যের সৃষ্টি দিয়ে নিজেই সমৃদ্ধ হয়ে লাভ্যাংশটুকু নিয়ে সুযোগ বুঝে কেটে পড়ে।এসব মানুষকে মৃত্যুর পর সেখানেই জীবন শেষ। লাল পতাকা উড়ে। 


★★দ্বিতীয় স্তরের  ভাবনার মানুষ সারাক্ষণ হায় হুতাশ করে,জীবনের কোন লক্ষ্য তারা স্থির করতে পারে না।অন্যের উপর সর্বদা নির্ভরশীল হয়ে চলার চেষ্টা করে।অনেকটা গা বাচিঁয়ে বৃষ্টির ঝাপটা থেকে রেহাই পাওয়ার মতো।এসব মানুষের অজুহাত বেশি।কাজের চাপকে দায়িত্ব নয় বরং শাস্তি মনে করে।মন থাকে সবসময় চিন্তাগ্রস্ত আর সংসার বিশ্ব চলা নিয়ে চরম উদাসীন।তবে অন্যের দোষ ত্রুটির চুলছেরা গবেষক তারা।এতে কোন ছাড় নাই।এসব লোক জীবনেও নিজের মন মতো জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখে না।কোন রকম রয়ে সয়ে, অপরের ঘাড়ে মাথা নুয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে পারলেই তাদের বাসনা পূর্ণ।আর কিছুই লাগে না শুধু অন্যের দয়াটুকু দরকার।

★★তৃতীয় স্তরের ভাবনার মানুষ সবসময় অন্যের চিন্তা করে,কীভাবে নিজের মেধা মননকে কাজে লাগাবে মানুষের কল্যাণ করবে তা ভাবে।তারা ভাবে পৃথিবীতে অনেক মানুষ তার দলে থাকতে হবে।একজন বিজ্ঞ,মেধাবী দিয়ে দুনিয়া চলবে না।সবার মাঝে জ্ঞান,দক্ষতা,উন্নত উদার ভাবনা তৈরি করতে হবে।আর সেই লক্ষ্যে তারা সৃষ্টির যোজনায় সর্বদা মনোনিবেশ করেন।কে কী বল্ল তার দিকে কর্ণপাত নেই।অনেকেই মনে করে ভাবনার উচ্চ স্তরের মানুষ খুবই অহংকারী।কথাটা ভুল কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া।মানুষ যতই জ্ঞানের উচ্চ স্তরে বিচরণ করে ততই তারা নিজেকে গুটিয়ে নেয়,নিজেকে নিজের থেকেও তুচ্ছ মনে করে।একসময় এসব মানুষ নীরব হয়ে যান।কাজ ছাড়া কিছুই বুঝেন না।মানুষ যতই জ্ঞানী হয় ততই তার মন মস্তিষ্কের সকল দরজা খুলে যায়।আর এতো বাতাস সেখানে আসে ঝড়ের তান্ডব লেগে যায় মস্তিষ্ক মনে।এজন্যই তারা সর্বদা নিজস্ব ভুবন আলাদাভাবে তৈরি করে নেয়।তাদের চলা বলা সব হয় নিজের জগতের নিয়ামানুসারে।বাস্তবিক জীবন থেকে একটু ভিন্ন ধাঁচের।এজন্যই জ্ঞানীকে তাঁর সমকক্ষ ব্যক্তি ব্যতীত কেউ বুঝে না।কেউ কেউ বদ্ধ পাগলও বলে।তাদের কাজে একটু অস্বাভাবিকতা, ব্যতিক্রম থাকবেই।ইতিবাচক ধারণায় পুষ্ট থাকে বলে তারা কালোর ভিতরও সুন্দরতম কালো খুঁজে পান।পাথরের উপর শীলার ভাঁজের শৈল্পিক রূপ দেখতে পান।আকাশে পাখি উড়তে দেখলে তাঁদের মনের বলাকাও উড়ে সাথে।

★★তৃতীয় স্তরের ভাবনার মানুষদের সবচেয়ে বেশি অবদান সভ্যতার উন্নতি সাধনে।বাকী দুই স্তর তার সুফল ভোগ করে কেবল।যারা কাজে কর্মে অদম্য উচ্ছাস, অধ্যাবসায় করে জীবন চালাতে চায় না তারা সারাক্ষণই লেগে থাকে সৃষ্টিধর্মী সৃজনশীল মানুষদের পেছনে।যার কারণে গবেষণা,লেখালেখির,উদ্ভাবন কর্ম অনেকটা বাঁধার সম্মুখীন হয়।পরতে পরতে পরাস্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠে পরিবার,সমাজ আর রাষ্ট্র। আর এভাবেই তারা পরিবার,সমাজ আর রাষ্ট্রের দায়িত্বহীনতায় বিচ্ছিন্ন হয়ে একাকী জীবন যাপন করতে বাধ্য হয়।অথচ তাঁদেরই অবদান যুগযুগ ধরে সকলে পেয়ে আসছে  সভ্যতার যৌবন বয়সে।এখন চলছে পৃথিবীর সভ্যতার যৌবন কাল।এটা আরো কয়েক শতক দীর্ঘ হবে।অথচ যাঁদের কর্মনিষ্ঠায় ভালো কাজ হচ্ছে তাঁদের।কেউ মনে রাখে না দু’একজন ছাড়া।বড়ই স্বার্থপর এই পৃথিবী।উচ্চমার্গীয় চিন্তার মানুষের দুঃখ যন্ত্রণা চরম মাত্রায়, ভালোবাসা প্রেম,মায়া, বিপদে সহযোগিতা করার মানুষও অনেক সময় পাশে পাওয়া মুশকিল হয়।আর উদার ভাবনায় নিজেকে গড়ে তুলতে বেশি লেখাপড়ারও দরকার হয় না।প্রকৃতিই আমাদের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয়। এখান থেকেই প্রতিনিয়ত কোন টিউশন ফী ছাড়া আমরা শিখছি,ডিগ্রী পিএইচডি করছি।সৃষ্টি করছি সংকর থেকে উড়োজাহাজ শ্রমিক পর্যন্ত। সবাই একেক কাজে দক্ষ,প্রকৃতির পিএইচডি ডিগ্রীধারী।এসবকে ছোট করে দেখার কোন অবকাশ নেই।তাই সার্টিফিকেটের বড়াই করার দিন শেষ।কিচ্ছু নাই এতে।কী জ্ঞান,দক্ষতা,মেধা, সততা না সৃজনী কর্ম।তাইতো পৃথিবীতে ডিগ্রীধারীদের ছলাকলায় আজ পৃথিবী ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।যত অন্যায় অবিচার হচ্ছে সব উচ্চ শিক্ষিত মানুষদের দ্বারা হচ্ছে।কোন রিকশাওয়ালা, তরকারী বিক্রেতা দিয়ে বোমাবাজি, অস্ত্রবাজী,সন্ত্রাসী, কোটি টাকা লুটপাটের  মেধার জঘন্য প্রয়োগ হয় না।তারাতো এতো বিদ্যেধরী নয়।ফাঁক ফোকর জানার কথা না।আর এসব কিছু অসৎ মানুষের জন্য উচ্চমার্গীয় ভাবনার মানুষরা।আজ চরম ক্ষতিগ্রস্থ। সবাইকে এক পাল্লায় মাপা হচ্ছে।কবিকে পাগল বলছে,ছন্নছাড়া বলছে,গবেষককে উন্মাদ বলছে।আর এসব করছে ভাবনার প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের মানুষগুলোই।

★★জগত সংসারের কঠিন মারপ্যাঁচ থেকে সর্বদা নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখতেই একাকী জীবন বেছে নেয় স্বেচ্ছায় সরল বোকা নির্ভেজাল মানুষ। কী করবে,প্রেমের কবিতা লিখলে স্ত্রী বা স্বামী বলে, কাকে নিয়ে লিখেছো?নিশ্চয়ই খারাপ মেয়ে বা ছেলের পাল্লায় পড়েছো।অথচ এসব কবির কল্পনার দারুণ সৃষ্টি  যা ওদের হৃদয় ছুঁয়েছে বিধায় সন্দেহ করছে।আর এখানেই কবির কবিতা লেখার পাণ্ডিত্য সফলতা।কারো মনে প্রশ্ন জাগিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।এসব গোবেচারা মানুষদের সংসার সুখের হয় না।হতো যদি তার মতো চিন্তার মানুষ যদি সাথী হতো।সৃষ্টি সাধনা যাঁদের নেশা তাঁরা সব ছেড়ে দিতে পারে,একাকী জীবন কাটাতে পারে কিন্তু দৈব পাওয়া দান সৃষ্টি কর্ম ছাড়তে পারে না কখনোই।

★★ পরিশেষে বলি,জগতে যে ক’টা দিন কাটানো যায় সময়কে কাজে লাগাতে হবে।সৃষ্টির যোজনার কর্ম পৃথিবীতে দলিল রেখে যেতে হবে তবেই ভবিষ্যৎ আমাদের নিয়ে ভাববে, চিনবে। আমাদের ভাবনাগুলো একসময় তাদের কাছে অমূল্য আবিষ্কার হিসেবে পরিগণিত হবে।তাই সৃষ্টিধর্মী,মননশীল কাজে বাঁধা নয় বরং সাহস ও সহযোগী হউন।তাঁদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দিয়ে একটু ভালোবাসার চাদরে ঠাঁই দিলে সৃষ্টি হতে পারে অনেক বিস্ময়কর আবিষ্কার যা সামনের এগিয়ে চলা সভ্যতাকে আরো গতিশীল, নিরাপদ আর সুখের বসবাসের  যোগ্যতর করো গড়ে তুলবে।

“”আসুন হাতে হাত মিলাই,

সৃষ্টির মাঝে সুখ বিলাই।””


পারভীন আকতার

শিক্ষক,কবি ও প্রাবন্ধিক। 

চট্টগ্রাম।”