Mst. Nusrat Jahan

September 10, 2021 0 By JAR BOOK

কবি ও লেখক পরিচিতি

Mst. Nusrat Jahan

Student

137/8, green road, Jahanara garden, Farmgate, dhaka

বঙ্গবন্ধু

লেখাঃ মোছাঃ নুসরাত জাহান

 

গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
বঙ্গবন্ধুর প্রথম শিক্ষালয়।
সালটা যখন ‘৩৪
রোগ হলো বেরিবেরি
চিকিৎসা ও বিশ্রাম নিতেই হবে
হলো দুই বছর পড়াশোনায় বিরতি।

“”মুসলিম সেবা সমিতি””
সদস্য ছিলেন বঙ্গবন্ধু,
দরিদ্র ছেলেমেয়েদের সেবাকার্যে
গড়েছিলেন মহাসিন্ধু।

ভয় ছিল তাঁর কভু যদি হায়
হয়ে যায় এ সমিতি বন্ধ,
এত দরিদ্র ছেলেমেয়েদের
পড়াশোনার পথ হবে রুদ্ধ!

১৭ বছরের তরুণ এ যুবক
নিজ কাঁধে নিলেন দায়িত্ব –
ভার নিলেন সম্পাদকের
সভাপতি রাখতেন হিসাব অর্থের।

তাঁর জীবনের প্রথম এ পদ
এনেছিল দায়িত্বে সফলতা,
বিচক্ষণ এ তরুণ হয়েছিলেন
বাঙালি জাতির নেতা।”

একজন বিদ্যাসাগর

লেখাঃ মোছাঃ নুসরাত জাহান

 

বিদ্যার সাগর তুমি
সমাজ সংস্কারক,
গরীবের বন্ধু তুমি
বর্ণপরিচয়ের প্রণয়ক।

বিশাল তুমি হিমালয়ের মত
উন্নতমনের মানুষ,
গরীবের বন্ধু তুমি
ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ।

পদ্য সাহিত্যের উন্নতি
তোমারই হাত ধরে,
গদ্যের উন্নতিতেও করেছ সাধন
যতি চিহ্ন যুক্ত করে।

বাল্যবিবাহ, কৌলিন্য প্রথা,
চেয়েছিলে করতে বন্ধ,
বিধবা বিবাহ করেছ চালু
যে সমাজ ছিল অন্ধ।

মেয়েদের জন্য শিক্ষাবিস্তারে
সর্বদা করেছ সাধনা,
ঋষিতুল্য এ মহামানব
আর তো মোরা পাবোনা।

শ্রাবণের সন্ধ্যায় অমৃতলোক গমন
শোক সাগরে ভাসিয়ে,
দুশো বছর পরেও তুমি
রয়েছ বাঙালীর হৃদয়ে!!”

ঋণ

লেখা- মোছাঃ নুসরাত জাহান

ফোনটা তখন থেকে বেজেই চলছে। ক্রিং ক্রিং ক্রিং…….
আমি মনে মনে একটু বিরক্ত। উফ! এ সময় কে কল দিচ্ছে! বাবা ২ কেজি কৈ মাছ এনেছিল।সেগুলা কাটছিলাম তাই রিসিভ করতেও পারছিলাম না। ছোট বোনটা কলটা রিসিভ করে অামার কানে ধরে রাখল, সালাম দিলাম। ওপাশ থেকে ভেসে এলো, “”মা, নিশাত কেমন অাছ? “” কন্ঠ চিনতে ভুল হলো না! এভাবে স্নেহ জড়ানো কণ্ঠে মা বলে ডাকেন অামার কলেজ শিক্ষক ইকরাম ফরিদ স্যার। যদিও অামি এখন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, তবুও ইকরাম ফরিদ স্যার অামার খোঁজ খবর রাখেন। ওনার মেয়েটার মতোই ভালোবাসেন। এখন করোনা মহামারীর কারণে বাড়িতে ৬ মাস থেকে অাছি। রোজই মায়ের গৃহস্থালি কাজে সাহায্য করি। থাক ধান ভানতে অার শিবের গীত না গাই। স্যারের সাথে অামার কথোপকথনে অাসি।
“” অালহামদুলিল্লাহ, ভালো অাছি স্যার, অাপনি কেমন আছেন? “”
— মা একটু বিপদে পড়েছি! সাহায্য করো তো!
– অবশ্যই স্যার, বলুন
–তুমি কি হেকমত জেলেকে চিনো? বাড়ি সম্ভবত তোমােদের এলাকায়।
– না স্যার, চিনি না. কি হয়েছে বলুন তো
– অাসলে গত পরশু ওনার থেকে ৫০০ টাকার মাছ বাকিতে নিয়েছিলাম। মাছগুলো টাটকা ছিল তো! সাথে টাকা ছিল না।নিতে চাইলাম না।কিন্তু জেলে জোর করে দিলেন।বললেন যে টাকাটা পরে দিলেও হবে। কিন্তু অামার মায়ের শরীর খারাপ হওয়ায় হঠাৎ গ্রামের বাড়ি চলে অাসি। শহরে কবে ফিরব নিশ্চিত না। গরীব মানুষ, তাকে টাকাটা না দেয়া পর্যন্ত মনটা খচখচ করছে। শান্তি পাচ্ছি না। তোমাকে যদি টাকাটা বিকাশে পাঠিয়ে দেই তাহলে কি তুৃমি উনাকে টাকা দিতে পারবে??

স্যার প্রায় এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে গেলেন।

অামি বললাম, অবশ্যই পারব, স্যার।
– তোমাকে কষ্ট করাচ্ছি। এটুকু করো মা, বুঝোই তো মানুষের হায়াত মউতের কথা বলা যায় না। কারও ঋণ রেখে মরতে চাই না।

অবশ্যই তাকে টাকাটা দিব স্যার।
কথা বলা শেষে অাবারও মাছ কাটতে মনোযোগী হলাম।
পারিবারিক অনুষ্ঠানের ব্যস্ততার জন্য জেলের কথা ভুলেই গেলাম। কয়েকদিন পর ফেসবুকে হঠাৎ একটা পোস্ট দেখে স্তব্ধ হয়ে গেলাম।
পোস্টটি ছিল, “” সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রফেসর ইকরাম ফরিদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি””।
প্রচন্ড কষ্ট পাই! অাচ্ছা কেউ কি দুনিয়া ছাড়ার অাগে বুঝতে পারে?
এজন্যই কি স্যার সেদিন হায়াত মউতের কথা বলেছিলেন? প্রিয় শিক্ষকের সেবা করার সুযোগ টাও পেলাম না! তখনই জেলের কথা মনে পড়ল। এখনো খুঁজে বেড়াচ্ছি স্যারের শেষ ইচ্ছে পূর্ণ করার জন্য। দুনিয়ায় বুকে স্যারের কোন ঋণ থাকবে না, স্যারের অাত্মা শান্তি পাবে। এটা ভেবে অামিও শান্তি পাচ্ছি।”