Mohommad Shamim Reza

September 8, 2021 0 By JAR BOOK

 কবি ও লেখক পরিচিতি

Mohommad Shamim Reza
Employees
1150/2 purbo tarapasha,Kishoreganj -2300

টান

মুহাম্মদ শামীম রেজা

বাড়িটা খালি খালি লাগছ।সত্যি বলত কী,বাড়িতে কবল আমি আর আমার গিনি আছি। বড় ছল ঢাকায়। একমাত্র ময়র বিয় হয় গিয়ছ। ছাট ছল ব্যাংকার। খালি লাগাটা স্বাভাবিক। এই য বললাম খালি খালি লাগছ, এর অর্থ নিজক সান্তনা দেয়া।বড় ছল আজ ফান করছিল। নির্বাচন কমিশন তার চাকরি হয়ছ। পাস্টিং নিজ এলাকায়। তব নিজ এলাকায় পাস্টিংয়র আনদ ফান করা নয়। আমাদর বাপ-ছলর কথাগুলা এ-রকম:
: বাবা আমার পাস্টিং এলাকায়, কি…
: এলাকায় পাস্টিং হওয়াত তুই খুশি না?
: ঠিক তা না বাবা, আপনার বউ থাকব গাজীপুর আর আমি কিশারগঞ্জ। আমার শ্বশুর বলছিলন নির্বাচন কমিশন তার লাক আছ। চাইলই তিনি গাজীপুর পাস্টিং করাত পারবন।
: আমি আর কী বলবা! জীবন তামার, সিদ্ধাÍ তামাকই নিত হব। যা ভালো মন হয় তাই কর। আমি তামাক সুখী দখত চাই, এর বশি কিছু না।
এই ছিল আমাদর বাপ-বটার কথাপকথনর সারাংশ। ছলরা যখন যা চয়ছ তাই পূরণ করত চষ্টা করছি। বড় ছল ইউরাপ পড়ত চয়ছিল, পড়িয়ছি। আজ নিজদর একাকীত্ব ঘাচাত স্বার্থপরর মতা ছলদর বঁধ রাখত চাই না। তব এলাকায় পাস্টিং শুন বশ উৎফুল্ল হয়ছিলাম। ঠিক ততটাই আশাহত হয়ছি যখন বুঝত পারলাম আমার ছলরই এলাকায় আসার ইছা নই। আমার এই ছলটাই আমাক ছাড়া ঘুমাত পারতা না। সাধারণত ছলরা তাদর মায়র ভক্ত হয়। আমার বড় ছল হয়ছ ঠিক এর ব্যতিক্রম। বাবা বলত ছল আমার অজ্ঞান ছিল। আমার গলা জড়িয় না ধরল তার ঘুম হতা না। এই নিয় আমার স্ত্রীর অনুযাগর কানো শষ ছিল না। ছল তখন শশব-কশার পরিয় কলজ পড়। একদিন দখি গিনি আমার নিঃশব্দ কাঁদছ। জিজ্ঞাসা করলাম ঘটনা কী? কাঁদছা কন?
: তামার ছল বাড়ি ফিরছ। তামার খাঁজ করল। অথচ একবারও জিজ্ঞাস করল না কমন আছি? ব্যাগ রখ সাজা তামার খাঁজ বরিয় গল। আমি আমার গিনিক সাÍ¡না দিয় বললাম, তুমি দখি আমাক হিংসা করা শুরু করছা। আজ উপলব্ধি করি, সময়র সাথ সাথ সম্পর্কর ধরন কতটা বদল যায়। ভাবি ছল আমার অনক বড় হয় গিয়ছ। নিজর সিদ্ধাÍ আজ স নিজ নিত পার। আমার গিনি অবশ্য সকাল থক মন খারাপ কর বস আছ। চাখর সামন তার ছল থাকব না, তা যন মানতই পারছ না। তাক কি কর বুঝাই, সময় পাল্টছ, এর সাথ সাথ পাল্টছ সম্পর্কর রসায়নও। মন মন বলি, দায়া কর ওরা যন সুখী হয়, আকাশ সমান সুখী হয়।

২.
আমি ইউনুস তালুকদার। চাটগাঁয় পতক নিবাস। বর্তমান গাজীপুর থাকি। ব্যক্তিগত জীবন দুই কন্যা সÍানর জনক। মাশাল্লাহ্ আমার দুই কন্যাই অতি মধাবী। স্ত্রী কন্যা নিয় বশ সুখই আছি বলা চল। তব বর্তমান আরও একজন সদস্য সংখ্যা বড় গছ। আমার বড় ময়র জামাই, জামাইয়র বাড়ি কিশারগঞ্জ। তব ছল ভালা। আমার বিয়াই সাহব শিক্ষিত মানুষ। ছলময়ক বশ ভালাই শিক্ষিত করছন। বিশষ কর আমার বড় ময়র জামাই ইউরাপ পড়াশানা করছ। সত্যি বলত কি, বিদশি ডিগ্রিধারী বলই আমি ময়ক বিয় দিয়ছি। অবশ্যই ময় ওখান থাকব না। শর্তযুক্ত বিয় আর কি! ময় আমায় কথা দিয়ছ ছল কখনাই তার এলাকায় অর্থাৎ কিশারগঞ্জ-মুখা হব না। অবশ্য ইতামধ্য তার প্রতিফলনও শুরু হয় গিয়ছ। ময়র জামাইয়র নির্বাচন অফিস চাকরি হয়ছ। পাস্টিং ছিল নিজ এলাকায় কি আমি তা পাল্ট দিয়ছি।
আজ সকাল বাপ-বটার মধ্য কথা হয়ছ। সই থক জামাইয়র মন খারাপ। আমার বিয়াই-এরও যা কাÐ। আর বাবা, তুমি ভাটির মানুষ, মাটির মানুষ, তুমি ভাটির জলরাশির মধ্য নিজক খুঁজ ফিরা না! এর মধ্য আবার ছলক টানা কন বাপু? আমি আমার ময়ক ছাড়া একদÐ থাকত পারি না।
আমি আমার ময় জামাইক ডাকলাম-
: আহাদ শান তা…
: জ্বি বাবা বলন।
: তামার পাস্টিং মন হয় গাজীপুর হছ। সপ্তাহখানক এর মধ্য চিঠি চল আসব।
: বদলির বিষয় সিদ্ধাÍ পরিবর্তন করছি। আপনার বিয়াই, মান আমার বাবা মন হয় এত কষ্ট পয়ছন। আর আমি তার মন কষ্ট দিত চাই না।
: দখ আহাদ, আমার আশার প্রদীপ বলত আমার দুটা ময়। তামার বাবার আরও ছল-ময় আছন। তারা ইছা করলই তাঁদর সাথ থাকত পার। বড় আশা কর অনক টাকা-পয়সা খরচ কর তবই তামার পাস্টিং পরিবর্তন করছি। আর আমি চাই না আমার ময় আমাক ছড় থাকুক।
আমি বশ অবাক এবং আশ্চর্য হলাম, আমার ময় জামাই দখি সিদ্ধাÍ পাল্ট ফলছ! কি তা তা হত পার না…
৩.
আউলা বাতাস না বইলে কি আর তারে বসন্ত বলা যায়? কিংবা ফাগুন এলে মনে আগুন লাগে, প্লাবন জাগে। বীথি বলতো ঠিকই তো! তার মনে রাজ্যের বিস্ময়! এমন চমৎকৃত কথা সে ইহজনমে শোননি, ভাবখানা ঠিক এমন। ছাব্বিশটি বসন্ত পার করে আজ যখন পুরনো কথা ভাবি কি বিস্ময় না লাগে! বিস্ময় লাগার কারণ আমার স্ত্রী বীথি। কলেজ জীবনের শষ মুহূর্তগুলোয় আমি যা বলতাম সে তাই মেনে নিত। অর্থাৎ আমার সিদ্ধান্তই বীথির সিদ্ধান্ত, বিষয়টা এমন দাঁড়িয়ছিল। ইউরোপ যাওয়ার আগে আমার মনে হলো বিয়েটা করেই যাই। মনে ভয় ছিল পরিবশ পরিস্থিতি যদি বিপরীত স্রোতে ঠেলে দেয়! বীথি রাজি হয়ে গেল। কিভাবে কিভাবে যেন তার বাবা-মাকে রাজি করিয়য়ে ফেলল। আর আমার বাবা-,মা আমি যা বলি তা-ই মন নিলেন। আমি এখন অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করছি বীথি আর আগের বীথি নেই। তার বাবার কথার বাইরে কিছুই বলে না।
আমি যখন বাবা হলাম, আমার বাবার সে কী আনন্দ! তিনি যেন শিশু হয়ে গেলেন। আমার সন্তানের জন্ম হয় আমার শ্বশুর বাড়িতেই। বাবা তাঁর নাতনী ঘুমানোর আগে ঘুমান না। আমার শিশু সন্তান কান্না করলে বীথির আগে বাবা টের পান। পরম মমতায় বীথিকে ডেকে তোলেন। আমি মনে মনে হাসি, অকৃত্রিম আনন্দের হাসি। এই হাসির মধ্যেও ব্যথাতুর হৃদয় জগে ওঠে। যেন বলে- ধিক আহাদ, ধিক!
সত্যি কথা বলতে কি আমি নিজেএও কিছুটা উচচভিলাষী মানুষ। আমার উচভিলাষ থেকেই উচচ শিক্ষিত মেয়ে বিয়ে করা, ইউরোপ যাত্রা। বিশষ করে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা না থাকাতে গ্রামের প্রতি খুব বশি টানও অনুভব করিনি।
অফিসে যাই, মন পড়ে থাক সদ্যজাত শিশু সন্তানের কাছে। তার চাঁদমুখ সবসময় চোখর সামনে ভেসে থাকে। তখন আমার ব্যথাতুর হৃদয় বলতে থাকে ধিক আহাদ, ধিক!
যখন মেয়ের জন্য মন আকুপাকু করে তখনই আমার বাবার কথা মনে পড়ে। আমার বাবারও নিশ্চয়ই এমন অনুভতি হয়।
ভাবছি আমি বদলি নেবো আমার নিজ এলাকায়। আমার বাবার কাছ, মায়ের কাছে।

দীর্ঘ নয়মাস চেষ্টার পর বদলি নিতে পেরেছি। আমার স্ত্রীযে রাজি করাতে পারিনি। আমিও থাকতে রাজি হইনি। বীথি ইচছা করলেই আমার সঙ্গেআসতে পারতো। আসেনি। নিজকে আর অন্যের প্রয়াজনে জলাঞ্জলি দিতে চাইনা। তাই জতুগৃহে ফিরে যাচ্ছি। এখন আমি ট্রলারের ছাদে বসে আছি। ভটভট কর ট্রলার এগুচ্ছে। দ্বীপর মতো ভাসমান গ্রামগুলো মনে হচ্ছে পেছনে দৌড়ে সরে যাচ্ছে। আমার আবেগ, ভালাবাসাও কী…?
বাড়ি যাছি আর ভাবছি, আমার সন্তানের চাঁদমুখখানি মনে পড়বে, ব্যথাতুর করবে আমার হৃদয় জগৎ। সত্যি বলতে কি বীথিকে খুব মিস করবো। ইছ করবে তার কাছে ছুটে যাই। কিন্তু বীথি নিজ ইচছায় আমার কাছে না এলে আমি আর তাকে ডাকব না। যদিও সমস্যা হয় দাঁড়াবে আমার সন্তান। তার চাঁদমুখ আমাকে ভাবাবে, কাঁদাবে। আমিও তো কারও না কারও সন্তান। সন্তানকে না দেখার কষ্ট আমাক বুঝতে শেখাবে এই ক’মাস আমার বাবা-মা’র কী পরিমাণ কষ্ট হয়ছে! হঠাৎ আমার মুঠোফান বেজে ওঠে । অজানা কারণে হৃদয় আন্দোলিত হয়। নিজেকে সংয্যত করায় ব্যস্ত হয়ে ওঠি। সাধু সাবধান! ফোন করেছে বীথি…
: বল বীথি…
: তুমি কি এখনও রেগে আছো?
: আমার কি রাগ করা বারণ?
: আমার ভুল হয়ে গেছে আহাদ। আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না।
: তো…?
: আমি আসছি। তোমার কাছে…

মুহাম্মদ শামীম রেজা
মুঠোফোন -০১৭১৮৫১৯৬২৫
email -shameemrezaa84@gmail.com”