Mohammad Abrar Nayeem

September 18, 2021 0 By JAR BOOK

কবি ও লেখক পরিচিতি

Mohammad Abrar Nayeem

Freelancer

Imtex Victoria Park (1st Floor), Ranir Dighi Uttor par, Cumilla.

 

তোমার চোখে আকাশ আমার 

 

আবরার নাঈম চৌধুরী 

 

 

কান্দিরপাড়। কুমিল্লার প্রাণকেন্দ্র। অনেক মানুষের যাতায়াত এই কান্দিরপাড়ে। করোনা কালীন সময়েও কম ভিড় হয় না এখানে। কান্দিরপাড়ের কলেজ রোডে কয়েকটি কম্পিউটারের দোকান। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের পাশেই দুই থেকে তিনটি ফুড কার্ট। বিকেল বেলা এখানে প্রচুর ভিড় হয়। হবেই বা না কেন? এখানে যে সুস্বাদু বার্গার বিক্রি হয়। বার্গার পিপাশু মানুষের আনাগোনা এই ফুড কার্ট গুলোতে। কলেজ রোড থেকে পূর্ব দিকে হাঁটলেই রানীর দিঘির পাড়। বিশাল দিঘি। কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী দিঘি গুলোর একটি। পাশেই ভিক্টরিয়ান্স রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্ট ভালোই। সেই ভিক্টরিয়ান্সের ৪ বিল্ডিং পরেই “”একা ভবন””। ৮ তলা বিল্ডিং এর ভেতরটা বেশ বড়। সেই বিল্ডিং এর দ্বিতীয় তলার  পশ্চিম পাশের ইউনিটে থাকে নীলা ও তার পরিবার। উত্তর পাশের ইউনিটে শান্তা বেগম এবং তার পরিবার। “”একা ভবন”” এর নিচের তলায় গ্যারেজ। ওখানে  কাশেম মিয়া ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে ডিউটি করে। কারেন্ট চলে গেলে তার হুশ ফিরে। হুশ ফিরবেই বা না কেন? জেনারেটর চালু করার দায়িত্ব  মালিক তার হাতে তুলে দিয়েছেন। বিল্ডিং এর পাশেই একটি মুদি দোকান। হাশেম আর কাশেম দুই ভাই মিলে দোকান পরিচালনায় প্রতিদিনই ব্যস্ত থাকে। বিল্ডিং এর ছাদ অনেক বড়। ৮ তলার ছাদ থেকে পুরো কুমিল্লা শহর দেখা যায়। দেখা যায় আকাশের শুভ্র মেঘ,  পড়ন্ত বিকেলের রক্তিম আভা, পাখিদের নীড়ে ফেরা, সন্ধ্যে বেলায় সূর্য কাকুর বিদায় এবং এর সাথে মুক্ত বাতাস তো রয়েছেই। 

 

 

 

সোমবার। বিকেল বেলা। নীলা রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে। দৃষ্টি বহু দূর। উপরে আকাশ। তাতে আজ কালো মেঘের বিচরণ।   

কি হয়েছে নীলার? মন খারাপ? হয়তো তাই।আর?

-“”এই নীলা কি ভাবছ? আবীর বলল। 

-“”ওহ, তুমি?””

– “”কি ভাবছ? তোমাকে বিষণ্ণ মনে হচ্ছে””।

-“”না কিছু না””। 

নীলা আবার রেলিং ধরে বাইরে তাকায়। আবীর তার পাশে এসে রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে বলে -“”কি হয়েছে?””

আবীর নীলাকে ভালোই বুঝতে পারে। পারবেই বা না কেন? নীলার স্বামী যে আবীর।

নীলা ম্লান হাসি হেসে বলে -“” কিছু না””। 

-“” বল না, কি ভাবছ?””

উত্তরে নীলা কিছু বলল না। একটা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ল। 

নীলার মনটা ভীষণ খারাপ আবীর বুঝতে পেরেছে। নীলার মন খারাপ  থাকলে আবীরের মনটাও খারাপ হয়ে যায়।

-“”দেখ নীলা!””

-“”কি?””

-“”ঐ যে””। আবীর নীলাকে পশ্চিম দিকের আকাশের দিকে ইশারা করেছে। 

সন্ধ্যে হয়ে আসছে। সূর্য পশ্চিম দিকে অস্ত যাচ্ছে। সন্ধ্যে হয়ে আসছে। চারদিক অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। সূর্য অস্ত যাচ্ছে। আকাশের উড়ন্ত পাখিরা নীড়ে ফিরছে। 

নীলাকে কি আবীর ভালো বুঝতে পারে নাকি অন্য কেউ ও পারতো?  

 

 

 

ডাইনিং রুমের পর পরই পাশাপাশি দুটি বেড রুম। ডান পাশের বেডরুমের এক কোনে খাটে শুয়ে আছেন আলম সাহেব। তাকে ঘিরে বসে আছে নীলা এবং নীলার মা হোসনে আরা বেগম। কিছুক্ষন আগেই আলম সাহেব মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছেন। ডাক্তার ডাকা হয়েছে। ডাক্তার আর কেউ নয় নীলার চাচাত ভাই আবির।হঠাৎ ডোর বেল বেজে উঠলো। নীলা দ্রুত গিয়ে দরজা খুলে দেখে আদিব দাঁড়িয়ে। 

-“”কিরে? আংকেল অসুস্থ বললি ফোনে””। 

-“”হ্যাঁ, মাথা ঘুরে পড়ে গেছে””। নীলার চোখে মুখে ভয়ের ছাপ। “”আয় ভেতরে আয়””। 

আদিব ভিতরে গিয়ে দেখে নীলার বাবার অবস্থা সুবিধাজনক না। 

-“”নীলা! আংকেলের অবস্থা তো ভালো না, আমি ডাক্তার নিয়ে আসবো?””

-“”নারে, আবীরকে বলেছি আসতে, ও পথেই আছে””।

আবীরের কথা শুনলেই আদিবের হিংসে হয়। কারণ আবীরের সাথেই নীলার বিয়ের কথা বার্তা চলছে। আচ্ছা আদিবের হিংসে হয় কেন? তবে কি সে নীলাকে ভালোবাসে?  

-“”আচ্ছা, আবীর ভাই তো আসছেই, তাহলে আর চিন্তা নেই, আমি বরং যাই রে, এসাইনমেন্ট লিখতে হবে””। আদিব বলল। 

-“”ফাইনাল ইয়ারে এসেও তোদের শান্তি নেই””। নীলা বলল। 

-“”ট্রিপল ই ডিপার্টমেন্ট, বুঝিস ই তো””। 

-“”আমার মতো বিবিএ তে ভর্তি হলেই পারতি!””

-“”আচ্ছা এখন এসব বাদ দে, আমি যাই, আংকেলের খেয়াল রাখিস। আন্টি! যাই আমি””। বলেই আদিব চলে গেল। নীলার মা হোসনে আরা বেগম নীরবে তাকিয়ে রইলেন। তার কপালে চিন্তার ভাঁজ।  আবীরের কথা শুনতেই আদিব হঠাৎ চলে গেল কেন? ভাবলেন তিনি।       

 

 

 

 

আধা ঘণ্টার মধ্যেই আবীর চলে এলো। ঘরে ঢুকে নীলার মাকে সালাম দিয়ে নীলার বাবার পাশে বসে রক্তচাপ পরিমাপ করলো। 

-“”কেমন দেখলে বাবা!”” নীলার মায়ের জিজ্ঞেস। 

-“”চাচি, ভয়ের তেমন কিছু নেই।  কিছু ঔষধ লিখে দিচ্ছি, এগুলো খেতে হবে””। আবীর কাগজে লিখতে লিখতে বলল। 

নীলা এক পাশে দাঁড়িয়ে। আবীরের কথা শুনে তার মন থেকে ভয় কিছুটা গিয়েছে। 

-“”আমি আসছি তাহলে””। বলেই আবীর উঠে দাঁড়ায়। 

-“”আসছি মানে? তুমি আজকে খেয়ে যাবা””। নীলার মা বলল। 

-“”না, না””। 

-“”না মানে, আমি সোহানাকে ফোন করে বলে দেব। নীলা ওকে তোর রুমে নিয়ে যা””। 

সোহানা বেগম আবীরের মা।  

-“”এসো””। নীলা আবীরকে ওর রুমে নিয়ে যায়। 

আলম সাহেবের চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছেন। শরীর দুর্বল। হোসনে আরা বেগম রান্না ঘরে ঢুকলেন স্বামীর জন্য গরম সুপ আর রাতের খাবার তৈরির উদ্দেশ্যে।     

 

 

 

 

রুমে ঢুকেই নীলা দরজা আটকিয়ে দিল। আবীর নীলার খাটের উপর বসলো। 

-“”দরজা খোলা থাকুক?”” আবীর বলল। 

-“”কেন ভয় পাচ্ছ?”” নীলা মুচকি হেসে বলল। 

-“”না তা কেন পাবো””। 

নীলা আবীরের একদম কাছে এসে বসে। মনে মনে বলে, অবশেষে তোমাকে একা পেলাম। 

আবীর নীলার কোমল হাতটি ধরে বলল – “”তোমাকে আজ সুন্দর লাগছে। এই হাত আমি সারা জীবনের জন্য ধরতে চাই””। 

উত্তরে নীলা কিছু বলে না, লজ্জা পায়। “”কাল রাতে আমাকে ফোনে কি বলেছিলে?””

আবীর অবাক হয়। “”কি বলেছিলাম?

-“”ন্যাকা! যাও বলা লাগবে না””। বলেই নীলা হাত ছাড়িয়ে নেয়।

-“”ঘুরতে যাবে?”” আবীর বলল। 

-“”কোথায়?”” নীলার উৎসাহ প্রকাশ। 

-“”কক্সবাজার””। 

-“”ঠিক আছে আমি আদিবকেও বলবো, দেখি ও যাবে কিনা””।

-“”তুমি সবসময় ঐ বাঁদরটাকে টেনে আনো কেন?””

-“”ছিঃ আবীর এভাবে বলো না, ও আমার অনেক ভালো বন্ধু, আমার ছোট বেলার বন্ধু””।

-“” আচ্ছা, আচ্ছা আমার ভুল হয়েছে বলবো না এভাবে আর””। 

-“”আবীর! নীলা! খেতে আয়!”” ডাইনিং রুম থেকে হোসনে আরা বেগমের ডাক।

-“”চলো, মা ডাকছেন””। বলেই নীলা উঠে দাঁড়ায়। 

-“”চলো””। 

দরজা খুলে নীলা আর আবীর ডাইনিং রুমে চলে আসে। টেবিলে নানা পদের খাবার। মুরগির মাংস, রুই মাছ, চিংড়ি মাছ সাথে পোলাও।

 

 

 

হেডফোন কানে দিয়ে চোখ বন্ধ করে আদিব তার প্রিয় সংগীত শিল্পী তাহসানের গান শুনছিল আর গুন গুন করে গান গাইছিল। গান শোনা শেষ হলে কান থেকে হেডফোন খুলে বিছানা ছেড়ে উঠে বসে। আচ্ছা, আবীর ভাই নীলার বাসায় আসবে, তাতে আমার কি? ভাবে আদিব। নীলা তো আমার ফ্রেন্ড। না মানে, নীলাকে আবীর ভাইয়ের সাথে দেখলে হিংসা কেন হয়? খারাপ লাগে। কষ্ট লাগে। এমন কেন হয়? জানি না…… 

-“”আদিব! খেতে আয়!”” আদিবের মা  জাহানারা বেগমের ডাক।

আদিব রুমের ফ্যান লাইট বন্ধ করে ডাইনিং রুমের দিকে পা বাড়ায়। 

 

 

সকাল ৭টা ১৫ মিনিট। কান্দিরপাড়ের মোড়ে ভার্সিটি বাসের অপেক্ষায় আদিব দাঁড়িয়ে আছে। বাসে সবার আগে উঠে নীলার জন্য পাশের সিট রাখতেই হবে। প্রতিদিনের মত বাস চলে এল।ভার্সিটির সকল ছাত্র ছাত্রিরা হুড়ো হুড়ি করে বাসে উঠছে। তাঁদের সাথে যোগ দিল আদিব।   মাঝারি আকারের বাসের ড্রাইভার খুবই দক্ষ। 

মেয়েটা এত দেরি কেন করছে? ভাবে আদিব। আর ২ মিনিট পরেই বাস ছেড়ে দিবে। পকেট থেকে মোবাইল বের করে আদিব নীলাকে কল দিল।

-“”এই তুই কই?””

-“”এই তো বাসের পিছনে, রিক্সা থেকে নামছি””। 

-“”ঠিক আছে আয় জলদি””। বলেই ফোন কেটে দিল আদিব।

নীলা জলদি রিক্সাওয়ালাকে ভাড়া দিয়ে বাসে উঠে।     

 

      

 ক্লাস শেষ। ফুটবল মাঠের এক পাশে নীলা আর আদিব বসে আছে। নীলার হাতে চকবার আইসক্রিম। আদিবের হাতে পেপসি। 

-“”আচ্ছা, তোর সাথে একটা কথা শেয়ার করতে চাচ্ছি””।আদিব বলল। 

-“”বল্, কি বলবি””। 

-“”তুই রাগ করবি না তো?””

-“”রাগ করার মতো কথা হলে রাগ করবো না?””

-“”থাক তাহলে””। 

-“”আচ্ছা, বল্, করবো না। 

-“”সত্যি তো?””

-“”সত্যি””। নীলা আদিবকে আশ্বস্ত করে। 

-“”আমার না খুব হিংসে হয়, মানে আমি না নিতে পারি না””। 

-“”মানে?””

-“”আমি, মানে, তোকে আবীর ভাইয়ের সাথে দেখলে আমার খুব খারাপ লাগে, হিংসে হয়, ভালো লাগে না””, জানি না কেন? তুই জানিস নীলা?””

-“”কারণটা খুব সাধারণ। আমি তোর বেস্ট ফ্রেন্ড””। 

-“”যদি তাই হয়, তাহলে এই বেস্ট ফ্রেন্ডকে ছাড়া আমি কেমনে থাকব?””

-“”তুই আসলে কি বুঝাতে চাচ্চিস?””

-“”আমি কি তোকে ভালোবাসি?””

নীলা কিছু বলে না, কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে আদিবের দিকে। 

-“”আদিব! এটা সম্ভব না, তুই জানিস যে আবীরের সাথে আমার বিয়ের কথা বার্তা চলছে””।

আদিব একটা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে। 

-“”তোকে ভালো কে বুঝে?””

-“”কেন? তুই””। 

-“”তাহলে তোকে কে বেশি সুখী রাখবে?”” 

-“”চাইলেই সব পাওয়া যায় না আদিব””। 

-“”কেন?””

-“”আমাকে বিয়ে করে ভরণ পোষণের দায়িত্ব নিতে পারবি? তুই তো চাকরি করিস না””। বল পারবি? আবীর পারবে। কারণ সে ডাক্তার””। 

-“”ডাক্তার সে জন্য সে তোকে বিয়ে করার যোগ্য?”” 

-“”হ্যাঁ””। নীলার কণ্ঠে বিরক্তির সুর। আমি তাকে ভালোবাসি, সেও আমাকে ভালোবাসে””।

আদিব আর কিছু বলে না। নিশ্চুপ। 

-“”জানিস তোর সাথে আমার বিয়ের কথা আমার বাবা আমার মাকে বলেছিল””। 

আদিব ম্লান হাসি হেসে বলে-“”তারপর?””

-“”রাগ করিস না, আসলে আমাদের ফ্যামেলি স্ট্যাটাস তো এক না, মানে তোরা মধ্যবিত্ত, মানে বিয়ের সময় তো এসবও দেখে। তাই আম্মু আব্বুকে নিষেধ করে দেয়””। 

কথাগুলো শুনে আদিবের হৃদয় কেঁপে উঠে। উঠে দাঁড়ায় আদিব। 

-“” এই! কই যাচ্ছিস তুই?””

-“”কাজ আছে রে ধর্মপুরে, যাই””। 

-“”আধা ঘণ্টা পরেই তো বাস ছাড়বে, এই আদিব! এই আদিব!……””

 

 

 

মৃদু আন্ধকার রুম। টেবিলের এক কোণে ল্যাপটপে এমএস ওয়ার্ড অন। বিছানার এক কোণে অশ্রুসিক্ত চোখে বসে আছে আদিব। নীলার কথা গুলো আদিবের হৃদয়ে কাঁটা হয়ে বিধেছে। বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে টেবিলে বসে আদিব। এমএস ওয়ার্ডে আদিব লিখছে – 

প্রিয় নীলা,  

           জানো আজ আমার মনটা ভীষণ খারাপ। অবাক হচ্ছো? তুমি করে বলছি বিধায়? ভালোবাসার মানুষকে তো তুমি করেই বলে নীলা! 

হ্যাঁ, ভালোবাসি। প্রচন্ড ভালোবাসি। নীলা, আমি মানছি পৃথিবীতে চলতে টাকা লাগে সত্যি কিন্তু সুখে থাকতে হলে একজন প্রকৃত ভালোবাসার মানুষের প্রয়োজন হয়। আমি বলছিনা সেটা আমি। আমি হবোই বা কিভাবে? আমি তো মধ্যবিত্ত। না আমি তোমার কথায় রাগ করিনি। 

নীলা, তোমাকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন ছিল। স্বপ্ন ছিল বিয়ের পর আমরা একসাথে রান্না করবো। তোমার সব কাজে, সব পরিস্থিতিতে তোমার পাশে থাকবো। কিন্তু বাস্তবতা কত নিষ্ঠুর। স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল। বাস্তবতা আবীর নামক এক উচ্চবিত্ত ধনী পুরুষকে তোমার নামের পাশে বসিয়ে দিয়ে আদিব নামক মধ্যবিত্ত আবর্জনাকে তুচ্ছ করে সরিয়ে ফেলে দিল। 

নীলা, তোমার হাসির মাঝে আমি সুখ খুঁজে পাই। তোমার কান্নার মাঝে খুঁজে পাই দুঃখ। তোমাকে নিয়ে আমার মনের ক্যানভাসে রঙ তুলি দিয়ে স্বপ্ন গুলো আঁকতাম। আহ! স্বপ্নগুলো কত সুন্দর। কত মধুর। আজ সেই স্বপ্নগুলো তোমার চোখের আকাশ থেকে বিলীন হয়ে গেল, হারিয়ে গেল। প্রিয় নীলা, আমার নীলা, আমার আকাশটা চুরি হয়ে গেছে, সেখানে আবীর নামক একজনের আনাগোনা। নীলা, আমার আকাশটা চুরি হয়ে গেছে। সেই আকাশটা আমার একার ছিল না, ছিল তোমার। কিভাবে? কারণ তোমার চোখের আকাশটা আমার, আমার, শুধু আমার, তোমার চোখে আকাশ আমার……

 

আজ ভার্সিটি বন্ধ।সকালের নাস্তার পর নীলা ল্যাপটপ নিয়ে বসলে আদিবের একটি মেইল পায়। মেইলটি পড়া শেষে নীলা ছুটে যায় দরজার কাছে। দরজা খুলতেই নীলার কানে ভেসে আসে কান্নার শব্দ। 

 

সোমবার। বিকেল বেলা। নীলা রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে। দৃষ্টি বহু দূর। উপরে আকাশ। তাতে আজ কালো মেঘের বিচরণ।                  

                                                    (সমাপ্ত) 

 “