Mehedi Robin

September 10, 2021 0 By JAR BOOK

কবি ও লেখক পরিচিতি

Mehedi Robin

ছাত্র

ফুলতলা,খুলনা

তরূর জলযোগ

বৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু শীত কাল। জালনার পাশটা হালকা খুলে রেখে বৃষ্টি আর গাছ গুলোর বন্ধুত্ব দেখতে ভালোই লাগছে।গাছের পাতার জল গড়িয়ে আবার মাটির সাথে বন্ধুত্ব করছে কি সুন্দর ভাবে। আর আস্তে আস্তে যেন ছোট হয়ে যাচ্ছি। এ বৃষ্টি শীত মামা কে এমন ভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে তা মনে হয় আমার আত্মিয় সজনদেরও আমি করি না। আর যদি বন্ধুরা কখনো ভূল করে চলে আসে তবে তো আর রক্ষা নেই। তখন মনে হয় একটা হেল্পার চলে এসেছে যা খুশী তাই করা যাবে। এখন বিছনায় যেয়ে আয়েশ করে শুয়ে থেকে বললেই সব হাজির হয়ে যাবে। সিগারেটের অ্যাশ ট্রে থেকে শুরু করে সে বেলার ভাত নামানোর কাজটাও ওর। আমারা হাতে গোনা পাঁচ ছয় জন হবো যাদের সাথে যে কোনো আবহাওয়ায় দেখা হবে। আরো আছে, কারো কাছের বন্ধুদের নাম বলতে থাকলে তা শেষ হবে না। বন্ধুত্ব ভগবান প্রদত্ত। তবে আমার দাদু বলেতেন যে.. ওহ দাদু হলেন আমার বাবার বাবা । তিনি ১০৫ বছর বয়সে মারা গিয়েছেন। আমি আর কত হবো তার হাটুর বয়সি ২৭/২৮, মা তো বলে আরো কম। আমি একটা ছোট খাটো চাকরি করি এতে আমাদের চলে যায়। আজ ছুটি, বাড়ির সবাই খুব মজায় আছে। ভালো ভালো রান্নার গন্ধ আসছে নাকে।মা-বাবা আমি রোকমেনি আর পুচকে টুকু দারুন সংসার আমাদের। আসলে বাবা মা এর কাছে বড় হওয়া যায় না কখনো।তবে তারাই আমার জন্যে রোকমেনিকে তুলে এনেছে তার ইহোকাল থেকে পরকালে। দাদু বলেতেন যে বেশি বন্ধুত্ব ভালো নয় মনের মতন এক দু জনই যথেষ্ট। তবে আমার বন্ধুত্ব করতে ভালো লাগে। কত বড় দুনিয়া, যেখানেই সব স্বর্গ নরক একসাথে । এই দুনিয়ার এত মানুষ এত জীব এত জড় এদের চেনা জানা আমার খুব শখ। বন্ধুত্ব করে আমরা একে অপরের পাশে থাকব সকলের সবটা জানবো। ভালো মন্দ সময় সবাই সবাইকে পাশে পাব । হ্যাঁ হ্যাঁ জানি যে এটা পৃথিবী। সুখের সাথে সাথে দুঃখের পাল্লাও ভারী করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি আমরা এখানে। কি আর করার বলো স্বর্গে যেমন শান্তি তেমন নরকে দুঃখ কষ্টও থাকা চাই। আর এটাই তো আমাদের পৃথিবী রূপ রসে ভরপুর নানান বৈচিত্র্য বেহেস্ত দোজখ সব এইখানেই সীমাবদ্ধ। আমার স্বর্গ নরকে বিশ্বাস করা ঠিক পছন্দ হয় না। আমার মনে হয় যারা এটা করে তারা যতটুক ভালো কাজ মন্দ কাজ করছে তা সব চাপে পড়ে। এরাই বেশি বড় লোভী। যারা ভবিষ্যৎ চিন্তা বাদ দিয়ে ইচ্ছা মতন পরিমান ছাড়া সময় অর্থের মুল্য না দিয়ে সব খরচ করে তারা উড়নচণ্ডে বা লক্ষ্মীছাড়া। কিন্তু যারা জেনে বুঝে ভেবে চিন্তু ফাঁকা স্থানে, কাঠের পুতুলের পায়ে,অদৃশ্যে সব দিয়ে দিচ্ছে শুধু স্বর্গ পাবার লোভে তারা কি তা আমি জানি না। এমন লোভ যা হিসাব ছাড়া তারপরও তার বেশি। তারমানে এ নয় আমি সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করি না। হ্যাঁ আমি করি সবাই করুক বিশ্বাস এটাই চাই। আমরা সবাই কোনো না কোনো ভাবে সৃষ্টি। সেই মহানকে পূজি, সালাম জানাই বারবার। কিন্তু তাকে নিয়ে ভয় পাবার কি এমন আছে? সে দয়ালু, সে তার সৃষ্টির ধ্বংস দেখতে পারবে না। সে আমাদের মতন ক্ষুদ্র তেজী বা ক্ষুদ্র চিন্তাধর নয়। সে বিস্তৃত । কিন্তু যেখানে কষ্ট নেই সুখ কি করে সেখানের মানুষ অনুভব করবে আমি বুঝি না। বৃষ্টি আর গাছ ও মনে হয় এমন এমন কথা বলতেছিল। না কি আমার কথা গুলা ওরা আর আমার পাশে বসে থাকা টুকু হা করে শুনতেছে বুঝলাম না। হঠাৎ চেঁচামেচির শব্দ বন্ধ হবার পর যেমন চুপচাপ পরিবেশ সবাই হঠাৎ তেমনই চুপ হয়ে গেলাম। তারপর সবাই আবার এক সাথে হেসে উঠলাম। এই মজা আমি স্বর্গে যেয়ে কেমন করে পাব কে জানে। প্রেমিকার বুকে মাথা রেখে যতো কষ্ট উগড়ে দিয়ে জড়িয়ে ধরে কান্নার শান্তি আর কোথায় পাব তাও জানি না। মনে হয় না স্বর্গে আমি ভালো থাকবো। নরকের যে বর্ণনা তাতে তো যেতে চাই না মোটেও। আমি এই পৃথিবীর বুকেই থাকতে চাই। হাজার একটা বছর বাঁচবো। শুধু যদি সব এমন থাকতো কারো বয়স না বাড়তো তবে কত মজা হতো। তবে এটাই পৃথিবী। হয়তো যারা চলে যাচ্ছে তারা নতুন কিছু হয়ে ফিরে আসে জীবন দাদার মতন। মৃত্যুতে এক মহা আনন্দ। হয় তো মৃত্যু পরে ঐ মেহগুন গাছের মতন বৃষ্টির সাথে প্রেম করবে নতুন জীবনে। এই মেহগুন গাছটা হয়তো আগের জন্মে কৃষ্ণ ছিল আর এ বৃষ্টি ছিল রাধা। তরূজলের প্রেম দেখে আমার তাঁর প্রেমের কথা মনে পড়ে গেল আর কি। রাধাকৃষ্ণ সে তো জন্মজন্মান্তরের বন্ধন। আমি আর টুকু দুই জনেই খুব মন দিয়ে তাদের কথা শোনার চেষ্টা করছিলাম। টুকু মাঝে মধ্যে লাফ ঝাপ দিয়ে এ দিক ও দিক ছোটাছুটি করছিল তারপর আবার দৌড়ে কোলে বসে আদর খাচ্ছিল। আর ম্যাঁও ম্যাঁও করে জরে জরে কি জানি ওদের কি সব বলছিল। আমি যা বুঝতেছিলাম তাতে মনে হচ্ছিল ওরা খুব একটা মজার কথা বলছে আর টুকু খুব মজা পাচ্ছে। হঠাৎ গাছের কান্নার শব্দ শুনলাম। গাছটা আর ঠান্ডা সহ্য করতে পারছে না কাঁপছে। একটা প্রাণ তার কাছের প্রেমকে চলে যেতে বলছে। ভাবতেই নিজের ভিতরটা কেমন জানি করে উঠলো।
গাছটা বর্ষাকে বলছে তুমি চলে যাও,আমার বৌ আমার সারা অঙ্গজুড়ে রান্নাবান্না করে অপেক্ষায় আছে। আমি মাটি থেকে অনেক রস তুলে নিয়েছি আমি বড় ক্লান্ত হয়ে পড়েছি তোমার ছোঁয়ায়। আমি আমার পরিবেশ আমার সমাজে বন্ধী আমি যে তোমার সাথে আকাশ ছুঁইতে পারব না। বৃষ্টি বলল আকাশ তোমায় ছুঁইতে হবে না, তোমার পাশে একটু জায়গা দেও ।
তারা কথা বলতেছে আর মনটা ভারী হয়ে উঠতেছে।বৃষ্টি জানি প্রথম প্রিয়ার একটা ছোঁয়া দিয়ে যাচ্ছে। যার সাথে খুব মনের মিল ছিল কিন্তু সে আর আমার হলো না। সে থেকে গেলো আমি চলে এলুম। তাকে নিয়ে এ ঘরে থাকা হলো না। আজ অন্য কেউ এ ঘর আলো করেছে কিন্তু তবু জানি কোথায় সে থেকে গেছে। তখনই টুকুটা মেঁও মিউ করে কি সব বললো বুঝলাম না। গাছটা তখন হাসতে হাসতে বলল ওর সাথে প্রেম হয়েছিল যুবক কালে আজ অসময় আবার এসেছে দেখা করতে। কিন্তু এ শেষ কালবয়সে শীতের বেলায় ওকে ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। আমার এ বছর এবারের মতন বয়স শেষ, বসন্ত এসে গেলে নতুন প্রাণে যদি ফিরতে পারি তখন যদি সে আবার আমায় চায় তখন ভেবে দেখা যেতে পারে । তখন আবার প্রেম করব তার সাথে। এখন আমি বন্ধি উড়েতে পারি না।এতেই আমার সুখ।ভালোবাসা হয়ে যায় কোনো কারন ছাড়াই তখন আমাদের কোনো দিন কাল স্থান শক্তির হিসাব থাকে না। কিন্তু আমি জানি আমি তাকে ছাড়তে পারব না তবে আমার পরিবার সমাজ আমার জীব জগতের জন্য তাকে কাছে একা ধরে রাখতে পারব না। আমি তাকে ছেড়ে চলে যেতে পারি কিন্তু ভুলতে পারি না। সে সবসময় আমার কাছে আমার শ্রেষ্ঠ প্রেমিকা। যার বুকে ডুব দিয়ে থাকা যায় যখন ইচ্ছা তখন তবে আমি আমার পরিবারকে না করতে পারি না। আমি আমার জন্মদাতার বিরুদ্ধে ঘোষণা করতে পারি না। তবে তা প্রেম থাকে না তা হয় শত্রুতা। কারন আমি জানি আমার জীবন দাতা সেই মহান শক্তি যার তুলনা হয়না। সে কারো খারাপ করতে পারে না। আমি আমার সকলের জন্য তাকে ছাড়তে পারি কিন্তু কোনো কিছুর মুল্যে তাকে ভূলে থাকতে পারি না। তার প্রতি প্রেম কমতি হয় না।
টুকু আবার ম্যাঁও ম্যাঁও করে উঠল। আমি যদি ভালোবাসা নিয়ে আরো বেশি সময় দিয়ে ভাবতে পারতাম তা হলে হয় তো তোকে আরো বেশি ভালো বাসতে পারতাম। জন্ম মৃত্যু বিয়ে প্রেম প্রিতি ভালোবাসা বন্ধুত্ব কর্ম পরিবেশ সমাজ নিয়ে ভাবতে ভাবতে পিছু ডাক শুনতে শুনতে ভালোবাসার সময়টাই পিছু ছেড়ে চলে এলাম। এসব ভাবতে ভাবতে বৃষ্টি বলল সময় হয়েছে ফিরে যেতে হবে সূর্যরাজকে জায়গা করে দিতে হবে জীবের দায়ে। তোমার আমার আবার নতুন জন্ম হবে বসন্ত কালে। প্রেমে পড়ব আবার আমার তোমার আপন সময়।
আমি ঠিক বুঝলাম না কিছু। টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়ছে আর আমি গেলাম চা বানাতে। চা এখন খুব দরকার। হঠাৎ দেখা হওয়া ঐ দুই প্রেমিক প্রেমিকার গল্প আলাপ ভালোই লাগছে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে হবে। আস্তে আস্তে আমার টুকুও ওদের বন্ধু হয়ে উঠেছে। আমিও চা টা নিয়ে যেয়েই প্রথমে জানতে চাইবো, এই তোমারা কেমন আছ?”