Mahmuda Islam

September 9, 2021 0 By JAR BOOK

 কবি ও লেখক পরিচিতি

Mahmuda Islam

Student 

Muksudpur,Gopalgonj 

আমি আর নিধি

সুইসাইড শব্দটা শুনলেই বুক ধরফরানি বেড়ে যায়। মনে পড়ে যায় ১০সেপ্টেম্বর,২০১৯ এর কথা।
আমার খুব কাছের একজন মানুষ যাকে সবটা দিয়ে ভালোবেসেছিলাম,আগলে রাখতে চেয়েছিলাম সারাটা জীবন। বলছি নিধির কথা।নিধি আমার খুব ছোট্ট বেলার বন্ধু, কিন্তু সম্পর্কটা শুধু বন্ধুত্ব তেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আমরা দুজন দুজনকে খুব বেশি ভালোবাসতাম।ও নিতান্তই একটু বেশি রাগি ছিল,খুব অল্পতেই রেগে যেত।মাঝেমধ্যে বোঝাতাম মাঝেমধ্যে নিজেই রেগে যেতাম।নিধি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে,ওর বাবা চাকরি করত আমাদের কোম্পানিতেই।বাবার পিএ হিসেবে। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে হলেও কেউ ধরতে পারতো না। নিধি ছিল খুব পরিপাটি, গোছানো একটা মেয়ে,ওর মায়াবী মুখটা দেখলে আমার সব ক্লান্তি, কষ্ট, রাগ দূর হয়ে যেত।


নিধি আর আমি ৩ বছরের ছোট-বড় ছিলাম। কিন্তু ও আমার থেকে খুব ভালো ছাত্রী ছিল আর আমি বড়লোক বাবার একমাত্র সন্তান তাই পড়াশোনা থেকে অন্য দিকেই জোকটা ছিল বেশি।আমরা প্রায়ই বাড়ির পাশের ছোট পার্কটায় আর না হলে মদন কাকার হাওয়াই মিঠাই এর দোকানে বসতাম।আমার ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও বসতাম শুধু নিধির জন্য।নিধি প্রায়ই আমার জন্য বিভিন্ন ধরনের খাবার বানিয়ে নিয়ে আসতো। মাঝেমধ্যে খেতাম মাঝেমাঝে খেতাম না।না খেলে ও খুব কষ্ট পেত আমি বুঝেও কখনো পাত্তা দিতাম না।


০৯/০৯/২০১৯ রাত ১১ঃ০০ টায় আমাদের ভিতর এ খুব ঝগড়া হয় কারণ টা ছিল ওর জন্মদিন নিয়ে।৮ তারিখে নিধির জন্মদিন ছিল কিন্তু সেটা আমি ভুলে গিয়েছিলাম এতে নিধির কোনো সমস্যা ছিল না।সমস্যা ছিল আমার বিয়ে। এরই মধ্যে বাবা আমার জন্য তার বন্ধুর মেয়েকে বউমা হিসেবে পছন্দ করে ফেলেছিল।খুব কথা-কাটাকাটি হচ্ছিল আমার আর নিধির মধ্যে। একপর্যায়ে আমি ওর ফ্যামিলি স্ট্যাটাস, ওর বাবা-মা আর ওর চরিত্র নিয়ে কথা বলে ফেলি।নিধির সঙ্গে সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও কখনো হাত ছাড়া ওকে খারাপ নজরে দেখি নি বা কোনো খারাপ কিছু নিয়ে কথাও হয়নি কখনো। কিন্তু খুব রেগে থাকায় কথাটা বলে ফেলেছিলাম। একপর্যায়ে ওর সাথে এতদিনের সম্পর্কের ইতিও টেনে নিয়েছিলাম।রেগে থাকায় ফোন বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ি।


পরেরদিন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠি সাধারণত আমি দেরিতেই ঘুম থেকে উঠি।সেদিন যে কি হয়েছিল আল্লাহই জানে। মন,শরীর খুব ভালো ছিল,রাগটা কমে যাওয়ায় ভাবলাম নিধিকে সরি বলি, আর সবকিছু স্বাভাবিক করে নেই।কিন্তু কে জানত ততক্ষণে আমার নিধি আমাকে একা করে দিয়ে আকাশের তারা হয়ে গিয়েছে। ফোনটা অন করে দেখি ১৫০ কল আর তার সঙ্গে একটা মেসেজ।এতগুলো কল দেখে একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম,আর মেসেজটা পড়ে ঘন্টাখানেক এর মতো চুপসে গিয়েছিলাম।আর এরই মাঝে আমাদের বাড়ির কাজের বুয়া জানালো,”ভাইজান এতক্ষণে ঘুম থেইক্কা ওঠলেন,জানেন পিএ কাকার মাইয়্যাডা গলায় ফাস দিয়া মইরা গেছে শুধু কি তাই হেয় বলে হাতের রগডাও কাইট্টা লাইছে।কেমনডা লাগে কন,কেন যে মাইনসে এইরম কাম করে।”—কথাটা বলে বুয়া চলে গেল।


আর আমি চিৎকার করে বলেছিলাম Suicide is not a solution নিধি It’s a wrong decision. I am sorry Nidhi please come back,আর তারপরে সেন্সলেস হয়ে ফ্লোরে পড়ে যাই।এরপর আর কিছু মনে নেই।


(এখন অন্তু মানসিক হাসপাতালের একজন রোগী। আর অন্তু হল এই গল্পের নায়ক)