Mabrurah afrin mou

September 18, 2021 0 By JAR BOOK

কবি ও লেখক পরিচিতি

Mabrurah afrin mou

Student

Bagerhat sadar

একমুঠো স্বপ্ন 

গ্রামের নাম তুলশীপুর | এই গ্রামে বাস করা মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে মৌ |মেয়েটির গায়ের রং কালো | পড়ালেখা ভালোই পারে | তবে পড়ালেখায় ভালো পারলেও গায়ের রং নিয়ে তাকে প্রায় ই সবার কাছে কথা শুনতে হয় | তার ছোটবেলা টা তার মা বাবার আদরেই কাটছিলো | কখনো ফুল পাখিদের সাথে খেলতো বা কখনো দূরে কোথাও গিয়ে প্রকৃতির সাথে মিশে যেত | মৌ এর বয়স যখন দশ বছর তখন তার মা তাকে ছেড়ে চলে যায় |মৌ এর দুই ভাই দুই বোন | ছোট ছোট পাঁচটি ছেলে মেয়েকে নিয়ে মৌ এর বাবার পক্ষে একা সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে | তাই সে পুনরায় আবার বিয়ে করে | মৌয়ের নতুন মা মৌকে একেবারেই সহ্য করতে পারেনা | মৌ কে দিয়ে সব কাজ করায় | বৌ এর চাপ সহ্য করতে না পেরে মৌয়ের বড়ো বোনকে বিয়ে দিয়ে দেয় আর মৌয়ের দুই ভাইকে অন্যত্র কাজে পাঠিয়ে দেয় |  কিছুদিন পর নতুন মার একটি সন্তান হলে তার অবহেলা যেন দ্বিগুন বেড়ে গেলো | তার বাবাও তাকে অবহেলা করতে শুরু করে |একদিন মৌ স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পর জানতে পারে তার নতুন মায়ের গয়না চুরি হয়েছে | অনেক খোঁজাখুঁজির পর যখন পেলোনা তখন নতুন মা মৌয়ের দোষ দিলো| কে জানতো তার নতুন মা ই গয়না চুরি করে তার দোষ দিচ্ছে | মৌয়ের বাবা মৌকে অনেক মারলো | দুপুরে খেতে ও দিলোনা  |  দুপুরের পর মৌ তার মায়ের কবরের কাছে গেলো | একটি ফুল দিলো এবং এক দৃষ্টিতে তার মায়ের কবরের দিকে তাকিয়ে থাকলো | যেন তার সব চাহনি এটা বলছিলো ,””মা তুমি থাকলে আজ আমার এই অবস্থা হতোনা | ওরা আমাকে খুব মারে , ওরা এমন কেন মা!”” যাই হোক ,এইভাবে কেটে গেলো আরো পাঁচটি বছর| মৌ একটু বড়ো হয়েছে ,,বয়স ১৫ কি ১৬ হয়েছে ,এরই  মধ্যে পড়ালেখায় অনেক সুনাম অর্জন করেছে | মৌয়ের বাবা ব্যাবসার প্রয়োজনে দেশের বাইরে গেছিলো | দুই – তিন দিন হয়েছে বাড়িতে ফিরেছে | তিনি বাসায় এসে জানান মৌয়ের বিয়ে ঠিক করেছে | মেয়ের চেহারা ভালোনা বলে দু লক্ষ্য টাকা যৌতুক দিতে হবে | মৌয়ের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে | মৌ  পড়ালেখা নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখে ,এভাবে সব শেষ হয়ে যাবে ! তাছাড়া যার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে তার বয়স ৪০ বছর ,বউসহ দুটো বাচ্চা ও আছে |অনেক টাকা পয়সা আছে বলে মৌয়ের বাবা বিয়েটা ঠিক করেছে |সন্ধ্যা বেলায় মৌ আসতে আসতে ওর আব্বুর রুমে গেলো | গিয়ে পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়লো | মুখ ফুটে কিছু বলতে পারলোনা ভয়ে | যে মেয়েকে সে দুই চোখে দেখতে পারতোনা , তাকে কাঁদতে দেখে সান্তনা দিতে গিয়ে নিজেই কেঁদে ফেললো | আগামীকাল মৌয়ের বিয়ে ,,বাড়িতে বিয়ের আয়োজন চলছে | গভীর রাতে মা  মরা মেয়েটি তার মায়ের কবরের কাছে গেলো | চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলো “”মা !মাগো ,তুমি আমাকে যেতে দিওনা মা !শক্ত করে ধরে রাখো আমাকে “”| ওর মা হয়তো সে কথা বুঝতে পেরেছিলো ,হয়তো বোঝেনি |হটাৎ মৌয়ের মনে হলো ,এইভাবে সব কিছু শেষ হতে পারেনা | ছোটবেলায় তার মাকে হারিয়েছিল ,নতুন মা আসার পর বাবার আদর থেকে বঞ্চিত হয়েছিল আর এখন বাকি জীবনটাও তার এইভাবে শেষ হয়ে যেতে পারেনা | বিয়ের দিন সবাই ঘুম থেকে ওঠার আগেই ও চেয়ারম্যান সাহেবের বাসায় গেলো | চেয়ারম্যানকে সব বললো |চেয়ারম্যান তাকে আশ্বস্ত করলেন | যথা সময় চেয়ারম্যান সাহেব লোকজন নিয়ে মৌয়ের বিয়ে আটকে দেয় এবং মৌয়ের বাবাকে  বোঝায় |  মৌয়ের বাবা তার ভুল বুঝতে পারলো | চেয়ারম্যান সাহেব মৌয়ের সাহসিকতার পরিচয় পেয়ে প্রশংসা করেন এবং তিনি মৌয়ের পড়ালেখার দায়িত্ব নেন | মৌ অনেক খুশি হয় | তার মনে হলো তার মা তাকে দূর থেকে দেখে মুচকি মুচকি হাসছে |ও আবার নতুন করে ফুল পাখিদের সাথে খেলা করবে | মায়ের কবর সাজাবে | পড়ালেখা করে অনেক বড়ো হবে | সমাজের মানুষ তার চেহারা নিয়ে কি বললো না বললো বা তার সৎমা তাকে নিয়ে কিছু বলুক বা না বলুক এখন আর তার মনের জোর ভাঙবেনা | সে বিশ্বাস  করে তার মনের এই জোর ই তাকে অনেক দূর নিয়ে যাবে ۔۔۔۔۔۔”