Jamshed Kanak

September 16, 2021 0 By JAR BOOK

কবি ও লেখক পরিচিতি

Jamshed Kanak

writer

67/2 jonaki road,,mirpur.

পুণর্মিলনীতে পুনরাম্ভ 


ভার্চুয়াল এই টাইমে একটা বিরাট সুবিধা মানবজাতি ভোগ করছে,,যদিও এর কিছু নেতিবাচক প্রভাবও বিদ্যমান রয়েছে এবং ট্যাকনোলজির development এর সুবাদে কিছু অমিয় ও শাশ্বত বাণী এখন ভ্রান্ত বলে বিবেচিত হয়ে গেছে।

আজ থেকে ২০/২৫ বছর আগেও যেই অমিয় বাণীটা স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষাপত্রে ১০ নম্বরে সর্বোচ্চ সাত নম্বর পেতে ভাবসম্প্রসারণ করত,,রাজ জেগে জেগে তন্দ্রালু ও ঢুলুঢুলু চোখে ঐ বাক্যটির ভাব সম্প্রসারন ঠাডা মুখস্ত করত….সেই universal truth বাক্যটা,,,মানে সেই অমিয় বাণীটা এখন একেবারেই একটা অকার্যকারী ও অর্থহীন পংক্তি হিসাবে বিবেচ্য।

সেই অমিয় বাণীটা হলো জনৈক ইংরেজ  দার্শণিক কবি-কর্তৃক কথিত-লিখিত এবং ঐ সময়কার ছাত্রসমাজের সর্বমহল কর্তৃক বহুল পঠিত ও পরিচিত একটা বাক্য….

“out of sight out of mind…!!”

এই বাক্যটি তার মূলভাব বা অন্তস্থ অর্থ থেকে যদিও বিচ্যুত হয় নি,,,কিন্ত বাক্যটির পটভূমি বর্তমানের এই ডিজিটাল ও ভার্চুয়াল যুগে শিক্ষার্থীদের সমকালীন সময়ের প্রেক্ষাপটে নেহায়েতই হাস্যরস ও কৌতুক উদ্রেককারী একটা খনার বচন কিংবা প্রবাদ প্রবচন বৈ অন্য কিছু নয়..!!

দ্বিতীয়ত,,,

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষাপত্রে ১০ নম্বরে সর্বোচ্চ সাত নম্বর পেতে ভাবসম্প্রসারণ মুখস্থ করত……..এই কথাটির অর্থ হলো,,আজ থেকে ২৫/৩০ বছর আগে শিক্ষকজাতি সাহিত্য বিষয়ক কোন প্রশ্নের উত্তরে কখনোই শতকরা ৮০% নম্বর প্রদান করতে কোন এক অলিখিত কিন্ত অতি অবশ্য-পালনীয় সংবিধান কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত ছিলেন।

সেই সময় সাহিত্যে বা literacy বিষয়ে রচনামূলক এবং বিশ্লেষণ ও বর্ণনাধর্মী প্রশ্নের উত্তরে কোন শিক্ষার্থী পি.এইচ.ডি. এর থিসিস পেপারের মত উত্তরপত্র সাবমিট করলেও শতকরা ৭০% এর অধিক নম্বরপ্রাপ্তির যোগ্যতা রাখতেন না।

এটা ছিল প্রাগতৈহাসিক যুগ হতে মেনে আসা একটা এতিহ্য এবং সেই এতিহ্য কর্পূরের মত হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে এইতো তিন দশক আগে।

অধুনা ভ্রান্ত প্রমানিত হওয়া সেই শাশ্বত-ধ্রুব বাক্যটিতে বলা হয়ছে,,

যদি কেহ কাহারো চোখের আড়াল হয়,,তবে সে চোখের আড়াল হবার পরিপ্রেক্ষিতে মনেরও আড়াল হয়ে যায়।

কিন্ত,,,,

বর্তমানের প্রজন্ম এই কথাটাই বুঝতে অপারগ যে,,,

কেহ কাহারো চোখের আড়াল কিভাবে হতে পারে,,!!

কিংবা সুপার ন্যাচারাল কোন ক্ষমতা ছাড়া কারো পক্ষে কি উপায়ে এবং কৌশলে চোখের আড়াল হওয়া সম্ভব..!!

গুগল ম্যাপে ট্রেস করে switched off মোবাইলওয়ালা লোকটিকেও এক ক্লিকেই এখন find out করা যে কোন নাবালক শিশুর পক্ষেও  অতি সহজ একটা পোলাপানের কর্ম।

উপরন্ত,,,,

বর্তমানের প্রজন্মের নিকট যে কারনে একেবারেই হিব্রু ভাষায় রচিত ও লিখিত মনে হয় দুর্বোধ্য ও অবোধ্য এই বাক্যটিকে,,,,,,,তার নেপথ্যের কারনটা হলো,,,

চোখের আড়াল যদি সত্যি সত্যিই কাউকে মনের আড়াল করতে পারত;তাহলে এখনকার সময়ে এই যে তিন/চার দশকের দীর্ঘসময়ব্যাপী একে অন্যের কাছ থেকে চোখ ও মন উভয়ের আড়াল হয়েও তবে কেন ও কি উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্যোশাল মিডিয়ায় একে অন্যের হারিয়ে যাওয়া শৈশব ও কৈশোর বন্ধুকে খুঁজে বের করছে,,??

এমনকি ভুলে যাওয়া শৈশব-কৈশোরের বন্ধুকে,,প্রথম প্রেমিক/প্রেমিকাকে,,,বহু বরষ আগে তালাক হয়ে যাওয়া স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে খুঁজে বের করে নবভাবে বন্ধু হচ্ছে,,পরকীয়া করছে,,শালীন বন্ধুত্ব করছে ইত্যাদি ইত্যাদি….!

এসব অকাট্য যুক্তিতে প্রমান হয়ে যায় যে,,,

in fact,,out of sight never can make someone out of mind..!!

তাই এখনকার প্রজন্ম এই দুটো কথাকে ডাহা মিথ্যা কথা মনে করে পাত্তাই দেয়না।

যদিও বাংলাদেশ শিক্ষাক্রম ও টেক্সটবুক কর্তৃপক্ষ প্রাচীন ও সম্রাট হালাকুু খাঁ/চেঙ্গিস খানের মঙ্গোলীয় শিক্ষাব্যবস্থার একান্তই অনুরাগী হয়ে এই বাক্যটিকে এখনো কারিকুলামের অন্তর্ভুক্ত রেখেছেন…কারন শিক্ষাক্রম ও বোর্ড কর্তৃপক্ষ ঐ দার্শনিক সাহেব ও তাঁর অমিয় বাণীটির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তে একদম বরাক বাঁশের মত অনড় অবস্থানে অটুট।

আমারে দিব না তোমায় ভুলিতে,

জনমে-জনমে,ইহজনমে অথবা পরজনমে..!!

ভুলিয়া গেলেই আমার কুক্ষীগত মসনদ হবে শশ্মাণে..!!

উল্লেখ্য যে,,বিশ্বাস হয় না তবুও কারো করো মুখে শুনতে পেয়ে এখন প্রায় বিশ্বাস ই হয়ে গেছে যে,,,,মঙ্গোলীয়ার স্কুল/কলেজ/বিশ্বিদ্যালয়ের টেক্সটবুকে এখনো পড়ানো হয়,,পৃথিবী নয়,,বরঞ্চ সূর্যই পৃথিবীর চারিপাশে পরিভ্রমণ করে।  

তাদের এরকম অনড় অবস্থান নেবার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তিটা হলো….উপরোল্লিখিত পদ্য পংক্তিত্রয়।

তবে বর্তমান প্রজন্ম ঐ অমিয়বাণীতে লুক্কায়িত দুটি message to the readers এর ব্যাপারে খুবই confused বিধায় ইংরেজ দার্শণিকের ঐ দর্শণটাকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না।

তাদের অকাট্য যুক্তি হচ্ছে…..

firstly,,,

সুপার ন্যাচারাল ক্ষমতা ব্যতিরেকে কোন বনী আদমের পক্ষে out of sight বা নয়নের আড়ালে অবস্থান করা সমকালীন গ্লোবালাইজেশন ওয়ার্ল্ডে সম্ভব নয়।

নেহায়েতই ভীড়-বাট্টা বা নিয়তির কোন বৈরীতায় অথবা স্বভাবগত প্রকৃতির কারনে যদি কেহ কাহারো চোখের আড়াল হয়ে যায়~ও বা,,তবে স্যোশাল মিডিয়া মুহূর্তেই তাকে আঁখি-সম্মুখে উপস্থিত করে ফেলে আর নূর-সৃজিত ফেরেশতাকুলের হেডমাস্টার জ্ঞাণীতম মাখলুক আজাজিল-ইবলিশের চেয়েও মহাজ্ঞাণী গুগল মামা নিমিষেই ঐ আঁখির আড়াল হওয়া লোকটার ভৌগোলিক অবস্থানও জানিয়ে দেয়।

তবে বিস্ময়কর একটা ব্যাপার হলো,,,,

এতবড় টেকনোলজিবাজ বর্তমান জেনারেশন একথাটার থোরাই পরোয়া করে যে,,

সর্বদ্রষ্টা ঈশ্বরও সার্বক্ষণিক পৃথিবীর সকল প্রাণীকে নজরবন্দী করে রাখতে সক্ষম এবং রেখেছেনও…!!

its really amazing that,this generation belong to a huge complicated knowledge while the simplest knowledge is not known to them nor believable..!!

& secondly,,,

out of sight হলেই যদি out of mind হতো,,,তাহলে সমগ্র বিশ্বব্যাপী স্যোশাল মিডিয়ায় বর্তমান সময়ে কেন তবে শৈশব-কৈশোরে হারিয়ে ফেলা প্রিয়জন ও প্রিয়মুখগুলোর সন্ধান পেতে,,get together/reunion করে physically একে অন্যের কাছাকাছি আসতে বা সান্নিধ্য পেতে এতটা মরিয়া,,এতটা হন্যে….!!

দুটি যুক্তিই কিন্তু অকাট্য ও যৌক্তিক। 

সেজন্য সরকারী টেক্সবোর্ড জবরদস্তি করে প্রবীণকে যতই ভুলতে না দিক,,,এখনকার গুগল মামার ভাগ্নে প্রজন্ম প্রবীনকে মনেই করবে না..!!

এরকমই শৈশব/কৈশোরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বেশ কিছু প্রৌঢ়ব্যক্তিবর্গ ঐ দিন রাজধানীর উপকন্ঠে একটা রিসোর্টে ssc-91 এর একটা reunion পার্টিতে একত্রিত হয়েছিল।

ssc-91এর reunion পার্টি মানে হলো ঐ reunion এ অংশগ্রহণকারী সকলেই ১৯৯১ সালে এস.এস.সি. পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয়েছিলো।

ঐ পার্টিতে প্রবাসী জুজু-র সাথে প্রায় তিনদশক পরে সাক্ষাৎ হয়েছিল তার শৈশবের স্কুলবন্ধু জালালের।

সেখানে জুজু-র কলেজবান্ধবী ডলিও উপস্থিত ছিল।

ডলির সাথে জুজু-র সর্বশেষ সাক্ষাৎ ঘটেছিল ধানমন্ডির স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের একটি ব্রাঞ্চে।তখনও জুজু প্রবাসী হয়নি,,FDDL নামে একটি ডেভেলাপিং ফার্মে job করছে এবং ডলিও সবেমাত্র ব্যাংকে অফিসার পোস্টে যোগদান করেছিল।

তবে সেই শেষ দর্শণ এবং অদ্যকার দর্শণ এর মধ্যকার duration হলো না করে হলেও দুই দশকের অধিক।

আর জালালের সাথে জুজু-র শেষ দেখা ছিল ক্লাস সেভেনের প্রথম টিউটোরিয়াল পরীক্ষা দেয়া পর্যন্ত।

জালাল ছিল স্কুলের 1st boy আর জুজু ছিল 2nd boy….!!

সপ্তম শ্রেণীর 1st টিউটোরিয়াল পরীক্ষা চলাকালীন সময়েই জালাল মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়ে ক্যাডেট কলেজে এডমিশন নিয়ে চলে যায় এবং ১৯৯১ ইং সালের এস.এস.সি. পরীক্ষায় তখনকার বাংলাদেশের চারটি শিক্ষাবোর্ড হতে সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে এবং hsc-93 তেও সে ষ্ট্যান্ড করে (প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে প্রথম ২০ জনের মাঝে স্থানপ্রাপ্ত )…!!

তবে তারা সপ্তম শ্রেণীর পর হতে অদ্যাবধি পরস্পরের নয়নের আড়ালেই ছিল,,দৈনিক পত্রিকা এবং রেডিও-টিভি মারফৎ জুজু তার শৈশব বন্ধু জালালের ব্যাপারে এভাবেই অবগত ছিল।

তবে ডলি জুজু-র কৈশোরোত্তীর্ণকালীন সময়ে প্রথম তারুণ্যের বান্ধবী।

ডলি এবং জুজো-র মধ্যকার পরিচয়পর্বটিও বেশ সিনেমাটিক ছিল।

তবে এই সিনেমাটিক কাহিনীর টুইষ্টটা পাঠককে সরাসরি জ্ঞাত না করে ssc-91 এর reunion পার্টিতে নিয়ে গেলে কৌতুহলী ও উৎসুখ পাঠকবৃন্দের নাটকীয় আবহে সব জানা হয়ে যাবে।।

ssc-91 এর reunion পার্টিতে তখন জম্পেশ আড্ডা চলছিল।

স্বভাবতই সেই পার্টিতে জালালের উপস্থিতিটা ছিল মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির কোন উৎসব অনুষ্ঠানে হঠাৎ করেই vvip/cip ধরণের কোন পাবলিক ফিগারের অনাহুত উপস্থিতি ঘটার মত কোন ঘটনা।

কারণ ssc-91 এর পরীক্ষায় প্রায় চার লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীর মাঝ থেকে যে ছেলেটি চারটি বোর্ডেরই সম্মিলিত মেধা তালিকায় 1st boy হয়েছিল,,সে এই জালাল।

ঐ পার্টিতে breaking news এর মত একটা কথা ইথারে ইথারে ভাসতেছিল।

কথাটা হলো,,

জালাল ঐ পার্টিতে উপস্থিত হবার পরপরই তার মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন কোন সহপাঠীর সাথে বহুবর্ষ পর হঠাৎ করেই সাক্ষাৎ হতে জালাল তার সহপাঠীর সাথে hand shake করতে করতে স্মৃতিকাতর হয়ে তার সেই ক্যাডেট সহপাঠী বন্ধুর সাথে তাদের তখনকার প্রধান শিক্ষক সাহেবের ব্যাপারে স্মৃতি রোমন্থনপূর্বক একটা কথা বলে,,,যেই কথাটার মূল প্রতিপাদ্য বা theme এখন পার্টির সবার নিকট আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

বহিরাগত কারো কাছে হঠাৎ করে যদি ঐ reunion পার্টিটাকে নিখাদ মিলনমেলার বদলে কোন শিক্ষাসফরও মনে হয়….তাতে বহিরাগত লোকটিকে দোষ দেওয়া চলে না।

যাই হোক,,,

স্মৃতি রোমন্থনকালে জালাল তার সহপাঠীকে হঠাৎ ই নস্টালজিক হয়ে কথাচ্ছলে বলে…..

জালালঃ

Principal Salimullah Sir used to call me into his office. One day he asked what I learned from Della and Jim,,,,,তখন আমি নোটের মুখস্ত বললাম। 

উনি বললেন,,,,,,””আমি তোমার ইংলিশ টিচার না।”” 

তারপর বন্ধুর মত আলাপ করলাম। 

আরো কিছু কথা বলেছিলেন,,,যা আমার সারা জীবন মনে থাকবে।পরে কখনো সবাইকে বলব।

জালাল এবং তার ক্যাডেট-সহপাঠী-র তখনকার বাক্যালাপচলাকালীন সময়ে তাদের পাশেই জটলা করে দাঁড়ানো ছিল ডলি এবং জুজু।

জালাল আর জুজো একেবারে পরস্পরের শৈশব বন্ধু হলেও,,,ডলি জালালের mutual friend এবং পূর্বেই বলা হয়েছে জুজুর কলেজ বান্ধবী হলো ডলি।

জুজু এবং ডলি HSC জীবনে “”টপমোস্ট কোচিং সেন্টার”” নামে একটা কোচিং সেন্টারে পড়াকালীন সময়ে একে অন্যের সাথে পরিচিত হয়েছিল।

ডলি HSC পড়তো মিরপুরের গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরী ইনস্টিটিউট কলেজে আর জুজু নিউমার্কেটের মিরপুর রোডস্থ ঢাকা কলেজে।

‘টপমোস্ট কোচিং সেন্টারে’ তারা তখনকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ছাত্র জনাব শামসুল আলম স্যারের কাছে physics,, chemistry,, mathematics এই তিনটি বিষয় প্রাইভেট পড়তো।

সেই কোচিং শিক্ষক পরবর্তীকালে শিক্ষকতা পেশা বাদ দিয়ে হাউজিং ও রিয়েল এস্টেট ব্যাবসা শুরু করে এখন তিনি দেশবরেণ্য CIP,,,হাইপেরিয়ন গ্রুপের CEO…!!

জিম-ডেলা প্রণয়োপ্যাখ্যানের ব্যাপারে জালালের মুখ-নিঃসৃত স্মৃতিকথাগুলো শুনে ডলি তৎক্ষণাৎই জুজুর মুখের পানে তাকালো,,,চকিতেই অন্যদিকে চেয়ে থাকা মুখটাকে জুজুর দিকে ফিরিয়ে।

তৃষিত চাতক বারিদের প্রতীক্ষায় থাকতে থাকতে হঠাৎ করেই আকাশে ভাসমান মেঘ দেখলে যেমনটা প্রশান্তিময় ও সব পাওয়া দৃষ্টি হেনে উড়ন্ত মেঘমালার দিকে দৃষ্টি হানে,,মনে মনে স্বপ্নের জাল বোনে,,,যে স্বপন চাতকের আঁখিপাতে দৃশ্যমান হয়,,,ঠিক তেমনি মাদকতা ও মোহগ্রস্ততাপূর্ণ চোখ করে ডলি তাকিয়েছিল জুজুর দিকে।

ব্যাপারটা জুজুর চোখ এড়ালো না,,তবে অকস্মাৎ ডলির এমন করে জুজু’র দিকে তাকানোর ব্যাপারটাও জুজুর দৃষ্টি এড়ালো না।

তবে ডলির চাহনী যে ঠিক স্বভাবিক চাহনী ছিল না,,এটা জুজু নির্ঘাৎ বুঝেছিল।

ডলির অমন গভীরভাবে জুজু’র পানে তাকানোর কি কারন থাকতে পারে কিংবা এই তাকানোর ক্লাইম্যাক্সটা আসলে কি,,সেটা জুজুর মস্তিষ্কের নিউরণে কিলবিল করছিল,,কিন্তু কোন সদুত্তর পেল না বা নিথুয়া পাথারে ভাসমান অবস্থা থেকে কুল-কিনারা পাচ্ছিল না।

তখন জুজু ভাবলো,,

জালালের কথায় নিশ্চয় এমন কোন interesting topic/issue ছিল,,যে টপিকের কারনে জালালের কথা শেষ না হতেই,,তার কথার রেশ ধরে জুজু-র দিকে তাকিয়ে ডলি ওভাবে একটা confusing look-এ তাকিয়েছিল।

জালাল,জুজু,ডলি প্রমুখদের সকলের হাতেই তখন কফি ছিল।তারা কফি পান করছিল ও আলাপচারিতা করছিল।

অমন সময় জুজু ডলির এরকম রহস্যময় একটা লুকে তার প্রতি তাকানোর কারনের কোন একটা কুল-কিনারা পেতে জালালের দিকে তাকিয়ে সরাসরি জালালকে বললো….

জুজুঃ

we’re so much  thirsty to listen to…!!!

What’s your answer to sir regarding Della & Jim…so essential to know….my friend…!!

জুজুর কথাতে এইবার ডলি লাস্যময়ীদের মতো শব্দ করে হো হো স্বরে হেসে উঠলো।

ডলির প্রথমবার মৃদুমন্দ হাসির কারনটা জুজু তখনো বুঝে উঠতে পারেনি,,,এখন আবার জলির এভাবে হেসে উঠাতে জুজোর নিকট ব্যাপারটা পুরোপুরি ঘোলাটে লাগতে লাগল।

প্রথমবার ডলি যখন মৃদুমন্দভাবে হেসেছিল,,সেই হাসির পিছনে একটা অধ্যায় ছিল,,!!

আর পরবর্তীতে হো হো করে হাসির কারন হলো;ডলির সেই প্রথমবারের confusing হাসিতে জুজুর panicked হয়ে যাওয়াটা ডলি বুঝতে পেরেছিল।।

এবং বুঝতে পেরে একটু বেদনাহতও হয়েছিলো,,,সবার অলক্ষ্যে সে একাই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনে মনে বলেছিল…….

পাগলটা সবকিছুই ভুলে গেছে…!!!।

কি ভুলে গেছে প্রবাসী জুজু,,,,যা মনে করে সুখানুভূতিতে ভাসে এখনো এক প্রৌঢ়া…!!

ডলি,জুজুরা কলেজের সময়গুলোতে টপমোস্ট কোচিং সেন্টারে তখনকার চালাক টাইপ এক ভার্সিটি পড়ুয়া ছাত্রের বিকট প্রাইভেট পড়ত~~সেই কথা পাঠককুল পূর্ব থেকেই অবগত আছেন।

চালাক টাইপ ঐ ছাত্র থেকে হওয়া শিক্ষক সাহেব বেশ ভালো প্রাইভেট পড়াতেন।

উনার পাঠদান ব্যবসাটা যেন আরো ফুলে ফেঁপে অধিকতর চাঙ্গা হয়,,,সেজন্য উনি দশজনের ব্যাচে সর্বদা ৬:৪ অনুপাতে প্রতিটি ব্যাচে ছাত্রছাত্রী set up করে ব্যাচ বানাতেন।

মানে,,,

স্যার যে ব্যাচ সৃজন করতেন সেখানে মানব-মানবীর সংখ্যার মাঝে তারতম্য ঘটিয়ে রাখতেন ইচ্ছে করে,,,,!!

মানব-মানবীরা দুজন দুজন করে নিজেরা জোড়া মিলে যেন উনার ব্যাচ কোনমতেই নিষ্প্রান করে ফেলতে না পারে..!!

কারন,,,

তখন আমাদের সিংহভাগেরই নিজের পড়াশনার চেয়ে অন্য কোন পাঠকারী অথবা পাঠকারিনী স্যারের যে ব্যাচে পড়ে,,সেই ব্যাচে হামেষা নজরদারী রাখা জরুরী ছিল বেশি।

তাছাড়া এখনকার মত hidden camera সিস্টেমের ব্যাবস্থা তখন কল্পনারও বাহিরে ছিলো।

কোন ব্যাচ থেকে কোন শিক্ষার্থী যেন নিস্পৃহ হয়ে ব্যাচে পড়া বন্ধ করে না দেয়,,সেজন্যও স্যারের ডিপ্লোম্যাসি ছিলো উইনস্টন চার্চিলের ডিপ্লোম্যাসি অপেক্ষাও এক কাঠি সরেস…!!

স্যার যেহেতু তখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং কোন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শ্রেণীভুক্ত কেহ নন,,,তাই ঐ স্যারের নিকট যারা পড়তো তারা প্রায় সবাই ছিলো আশেপাশের মেয়েরা এবং অপেক্ষাকৃত underrated কলেজের স্টুডেন্টগুলো।

ডলির কলেজ মিরপুরের গার্লস আইডিয়াল কলেজ আজ থেকে ২৫/৩০ বছর আগের শুক্রাবাদের নিউ মডেল,,পুরান ঢাকার কবি নজরুল,,মিরপুরের বাংলা কলেজ বা মিরপুর কলেজ প্রভৃতি কলেজগুলো তখন ঢাকা শহরের underrated কলেজ বলেই গন্য হতো,,,!!

যদিও এসব কলেজগুলোর সবই এখন সময়ের প্রয়োজনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ হয়ে গেছে।

স্যার এক্ষেত্রে বুদ্ধি করে যে কাজটা করতেন সেটা হলো,,,,স্যারের নিকট মুষ্টিমেয় যে ক’জন ঢাকা কলেজ,,নটরডেম কলেজ,,হলিক্রস কলেজ,,,ভিকারুননিসা নূন কলেজের ছাত্রছাত্রী পড়তে আসত,,,তাদের সবাইকে তিনি একটি ব্যাচে একাট্টা না করে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাচে সেট করে একাধিক ব্যাচ তৈরী করতেন,,!!

আর ঐসব underrated ইনস্টিটিউডের ছাত্রছাত্রীগুলো ঐ A+ গ্রেডের কলেজের স্টুডেন্টদের সাথে সান্নিধ্য ও সখ্যতা রাখতে চেস্টা করত দুটি কারনে,,,!!

প্রথম কারন ছিলো,,

ঐসব ক্ষ্যাতনামা কলেজের ছাত্র/ছাত্রীদের নিকট থেকে উন্নতমানের নোট সংগ্রহ করা ।

আর দুই নম্বর কারন ছিলো,,,

ঐসব ছাত্রছাত্রীদেরকে তাদের স্কুলের শিক্ষকগন কর্তৃক দাগান্বিত প্রশ্নগুলোর সমন্বয়ে পরীক্ষার আগে আগে সাজেশন সংগ্রহ করা।

তখনকার সময়ে ঐরকম একটা বিখ্যাত কলেজের কুখ্যাত ছাত্র ছিলো জুজু।

এখানে বিখ্যাত কলেজটা হলো ঐতিহাসিক ঢাকা কলেজ আর ছাত্র হিসাবে জুজুকে কুখ্যাত পদবীতে সম্বোধিত করার কারন হলো,,,,অতি উন্নত কলেজের অতি উন্নত ছাত্র জুজু তার দুবছরের কলেজ জীবনে সর্বসাকুল্যে দুইমিনিট ক্লাশ করেছিল,,,!!

এবং ঐ বিখ্যাত কলেজ থেকে কতটা কুখ্যাত শিক্ষার্থী ভূমিষ্ট হতে পারে,,,তার নমুনা এবং প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল HSC-93 এর ফাইনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হবার পরে..!!

তবে জুজু দুই বছরে যেই দুই মিনিট ক্লাশে উপস্থিত ছিল,,সেটাও আবার বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল তাহেরের জেষ্ঠ্যপুত্র যীশুর প্রলুব্ধকর প্ররোচনায়।

যীশুও সম্ভবতঃ দুই বছরের কলেজ জীবনে সর্বোচ্চতম দুই দিন ক্লাসরুমে উপস্থিত ছিল।

তবে যীশু কারো মারফত( সম্ভবতঃ তারেক/banker )জানতে পেরেছিল যে,,

তখনকার মিস ইউনিভার্স সুস্মিতা সেনের একদম কপি-পেস্ট বডি ও ফিগারের একজন সদ্যই নিয়োগপ্রাপ্তা ইংলিশ ম্যাডাম কলেজে এসেছেন লেকচারার হয়ে।

তাই ইংলিশ ক্লাশ করতে নয়,,বরং ইংলিশ ক্লাস গ্রহণকারিণীকে এক পলকের জন্য চোখের দেখা দেখতে জুজু তার মহামূল্যবান সময় থেকে দুইটি মিনিট সময় ভুলে অপচয় করেছিল।

অপচয় বলা হচ্ছে এই কারনে যে,,,

ঐ ইংলিশ ম্যাডামকে জুজু’র নিকট কিউট ও সুইট মনে হয়নি,,যদিও তিনি ছিলেন so well-gorgeous dressed & make up এর highest level এ…!!

ক্লাসে ম্যাডাম প্রবেশ করার মিনিট দুই পরেই জুজু হিসু-ইস্যুতে ক্লাস থেকে বাহির হয়ে সিধা পুকুরপারের ক্যান্টিনে এসে আড়াই টাকা দিয়ে এক স্টিক বাংলা ফাইভ ( 555 ) কিনে ফুঁকতে শুরু করে।

কিন্তু দুইবছরের কোচিং চলাকালীন সময়ে জুজু শুধু ঢাকা কলেজের ছাত্র হবার বদৌলতে ঐসব underrated কলেজের বন্ধু-বান্ধবীদের চোখে বরাবরই বেশ সমীহ ও সম্মানের পাত্র ছিলো।

সবাই ওকে সবজানা খুব genius ছাত্র ভাবত।

জুজুর ব্যাপারে তাই স্বাভাবিকভাবেই তাদের সবাই খুবই উচ্চধারনা পোষণ করত,,,,যদিও আসল চেহারা প্রকাশ পেয়েছিল ফাইনাল পরীক্ষার পরে।

উপরন্তু জুজু স্বনামধন্য স্কুল থেকে পঞ্চম ও অস্টম শ্রেনীতে বৃত্তিপ্রাপ্ত,,,,তাই সবজানা সুপারম্যান টাইপ ছাত্র হিসাবেও জুজুর একটা এক্সট্রা পরিচিতি ছিল কোচিং সেন্টারে পড়তে আসা বন্ধুমহলে।

কিন্ত বাস্তবতা ছিল এসকল ভাবনার পুরোই বিপরীত।

জুজু তখন নিয়মিতই মাঝরাতের আগে বাসায় ফিরে না,,,!!

বলাকা,,বিনাকা,,,এবং অধুনা বিলুপ্ত মল্লিকা প্রভৃতি সিনেমা হলসমুহে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে নিত্যদিনই,,,,!!

বিভিন্ন পালা পার্বনে কলেজের গেইট বরাবর গোল্ডেন গেইট মার্কেটের ২য় তলায় গ্যালাক্সি বারে ঢুঁ মারে,,,,!!

দৈনিক একই বাংলা সিনেমা বারবার করে দেখে,,,কোন কোন দিন দিনের তিনটি শো চলাকালীন সময়েই জুজুকে তার দলবলসহ সিনেমা হলেই পাওয়া যায়।

তখন সদ্যই সালমান শাহ আর মৌসুমী অভিনীত কেয়ামত থেকে কেয়ামত সিনেমার দেশব্যাপী ক্রেজ চলছে।

মানুষজন মার্কেটে,,,পাবলিক প্লেসে,,বাসে,, ট্রেনে মৌসুমী,,,সালমান শাহ এর চর্চায় দিন কাটায়।

হয়তবা বাংলাদেশে বাংলা সিনেমার এরকম মাতম বর্তমান প্রজন্মের নিকট রূপকথা মনে হতে পারে,,,তবে কথাগুলো রূপকথা বা মিথ্যা কথা নয় মোটেই। 

জুজু তখনো ডলির ওভাবে হাসার নেপথ্য-কারন অন্বেষনে পেরেশান ছিল ভিতরে ভিতরে।

সেই পেরেশানীর প্রভাবেই ক্যাডেটের সহপাঠীকে বলা জালালের কথার সূত্র ধরে জুজু তাকে পুণরায় যে প্রশ্নটা করেছিল তার উত্তরে জালাল বলল….

জালালঃ

He had a heart of gold….. And he was supremely biased towards 25th Batch for obvious reasons…

But no complains here…. MCC started rock because of that…!

জালালের দেয়া জবাবে জুজোর মাথায় লেগে থাকা জট খুললো না।

তাই জালালের জবাবের পরপরই  জুজু আবার ডলির দিকে ভ্যাবাচ্যাকা দৃষ্টিতে তাকাল।

জুজুর এই ভ্যাবাচ্যাকা দৃষ্টিপাতের অর্থ ডলির নিকট অবশ্য সুষ্পষ্ট ছিল।

ডলি জুজুর দিকে খুব স্নিগ্ধতাপূর্ণ একটা হাসি হাসি নয়ন করে তাকালো এবং কফিতে শেষ চুমুক দিয়ে কাগজের ওয়ান টাইম কাপটা ছুঁড়ে ফেলল।

ডলি তখন রিসোর্টের ভিতরে নির্মিত কৃত্রিম লেকটার দিকে আঙ্গুল উঁচিয়ে জুজুকে বলল,,

চলো না~~ ঐ দিকে যাই একটু।তোমার পাশে বসতে পাড়ার অপূর্ণ ইচ্ছেটা আজ না হয় স্বার্থক~ই হয়ে গেল।

জুজু কোন দ্বিমত না করেই ডলির পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে ঐ কৃত্রিম লেকের পাড়ে পৌঁছে দেখলো ওখানে সাড়িসাড়ি কতগুলো ডিঙ্গি নৌকা বাঁধা রয়েছে।

নৌকাগুলো রিসোর্ট কর্তৃপক্ষই arrange করে রেখেছে এভাবে।এর উদ্দেশ্য হলো রিসোর্টে অবকাশ যাপন করতে আসা বিনোদন পিয়াসীরা যেন নৌকা ভ্রমণের আনন্দ আস্বাদ করতে পারে।

সাড়িবদ্ধভাবে বেঁধে রাখা একটা নৌকায় দুজনে উঠে বসল।

ডলি এখন শারীরিকভাবে অনেক ভাড়ি হয়ে গেছে।নৌকার পাটাতনে পা রেখে নৌকায় উঠার সময় তাই জুজুকে ডলির হাতটা ধরে নৌকায় উঠতে সাহায্য করতে হয়েছিল।

সম্ভবত আজই প্রথমবার একে অন্যকে স্পর্শ করলো।

অথচ টপমোস্ট কোচিং সেন্টারে পড়াকালীন সময়ে ডলি কতই না চেষ্টা ও ট্যাকনিক করত জুজুর সানান্য স্পর্শ,,ছোঁয়া পেতে..!!

কতবার চেষ্টা করেছে জুজু যেই চেয়ারটাতে বসে,,তার পাশের চেয়ারটাতে বসতে,,!!

কিন্তু সেই চেয়ারটাতে ডলির কখনো বসা হয়নি তাদেরই আরেক বান্ধবী রিয়ার কারনে।

কখনো কখনো ডলি অভিনয় করে জুজুর কাছে কলমটা চাইতো এই ছুঁতোয় যে,,তার কলমের কালি শেষ হয়ে গেছে।

অথচ জুজুর নিকট ডলির কলম চাওয়ার পেছনে ডলির এক সাগর এমন তৃষ্ণা থাকত যে,,কলমটা জুজুর হাত থেকে নেবার সময় ইচ্ছা করে জুজুর হাতটা স্পর্শ করবে।

কিন্ত কখনোই জুজু হাতে হাতে ডলিকে কলম না দিয়ে সামনে এগিয়ে কলমটা অথবা খাতাটা দিত,,তাতে তখন ডলির বুকটা ফেটে চৌচির হয়ে যেত।

বাসায় ফিরে গভীর রাতে ডলির স্মৃতিপটে যখন কথাগুলো পুনরোত্থিত হত,,,ডলির চোখ হতে অঝোড়ে অশ্রু ঝড়ত।ডলি ঈশ্বরের প্রতি ফুঁপিয়ে ফুপিয়ে অনুযোগ করত….

হে ঈশ্বর~~হে নিদয়া-নিঠুর ঈশ্বর~~

তুমি কেন আমায় রিয়ার চেয়ে অনেক বেশী সুন্দরী বানিয়ে দুনিয়ায় পাঠালে না..!!

কেন এই জীবনে জুজু আমার হলো না..!!

চন্দন পালক্ষে তাকে ছাড়া শুয়ে কি হবে,,সে~ই যদি আমার না হয়।

সাড়িবদ্ধভাবে বেঁধে রাখা নৌকাগুলো থেকে সুন্দরতম একটা ময়ুরপঙ্খী নৌকায় চড়ে বসলো ডলি আর জুজু ।

ময়ুরপঙ্খী নৌকা হলো একটা ডিঙ্গি নৌকা,,যার outlook টা দেখতে হুবহু কল্পকথার ময়ুরপঙ্খী’র মত।

নৌকায় খুব চমৎকারভাবে বসার ব্যবস্থা করা আছে।মাথার উপরে বড় একটা ছাতার মত সামিয়ানাও টাঙ্গানো রয়েছে,,যেন নৌকায় আরোহীরা রৌদ্রতাপে কস্ট না পায়।

তারা দু’জনে মুখোমুখি বসলো।কিছুক্ষণ দু’জনের কারো মুখেই কোন কথা ফুটলো না।

এভাবে কিছুসময় পার হয়ে গেলে ডলি অকস্মাৎ জুজু’র মুখের দিকে চেয়ে একটা ভুবণমোহিনী হাসিতে চারিদিক উদ্ভাসিত করে ফেলল।

জুজু এই হাসিরও কোন মর্মার্থ উদ্ধার করতে তো পারল~ই না,,,উপরন্ত জুজু তখনও গভীর চিন্তামগ্ন ছিলো,,ডলির পূর্ব-হাসির নেপথ্য-কারন অনুসন্ধানে।

এজন্য এবার জুজু ক্ষানিক বিরক্ত হয়েই ডলিকে প্রশ্ন করলো,,,,এভাবে হাসলে কেন..?

ডলি জুজুর প্রশ্নের কোন প্রত্যুত্তর না দিয়ে হাসির পরিমাণ আরো উর্ধ্বমুখী করল।

জুজু নির্বাক ও মৌন হয়ে বসে রইলো।

কিছুটা সময় কেটে গেলে নির্বাকতা ও মৌনতা ভেঙ্গে ডলি জুজুকে প্রশ্ন করলো…

রিয়ার সাথে কি সংসার চলছে  না separation…??

জুজু প্রশ্নটা শুনলো কিন্তু মূলহীন/অর্থহীন একটা জবাব দেয়ার কোন প্রয়োজনই মনে করল না।

জুজু খালিকন্ঠে চমৎকার ও হৃদস্পর্শী একটা পুরনো দিনের বাংলা ফিল্মের গান গাইতে শুরু করল।ডলি তখন এই ব্রম্মান্ডের সকল মুগ্ধতা তার আঁখি পল্লবদ্বয়ে জড়ো করে একেবারে অপলকভাবে জুজু’র পানে বাকহারা হয়ে তাকিয়ে গানটা শুনছিল।

ভরা ভর্ষায় তটিনীতে যেমন কারনে-অকারনে উথাল-পাতাল ঢেউ উঠে,,ঠিক তেমনি জুজুর খালি গলায়  গীত গানটি ডলির হৃদ-সিন্ধুতে উথাল-পাতাল ঢেউ হয়ে মাতম করছিল।

জুজু দরদী ও দরাজ কন্ঠে গাইতেছিল,,

কারো আপন হইতে পারলি না অন্তর;

আমার ভালোবাসার শূণ্যভিটায় কেউ বাঁধলো না ঘর।

গানের মুখরাটুকু গেয়ে জুজু গান গাওয়া বন্ধ করে দিল।

তখন কিশোরীসুলভ আব্দারে ডলি জুজু’কে বলল,,,

থামলে কেন সখা..??

আমার হিয়া তোমার পিছু নিবে,,এই উৎকন্ঠায়..??

হা~হা~হা~হা~হা~হা~

আমরা এখন বুড়া-বুড়ি হয়ে গেছি,,শীগ্রই শ্বাশুড়ি হব।

সুতরাং সেরকম কোন ভয় নেই।

হা~হা~হা~হা~হা~হা~

in fact,,,

জুজু তখনো চিন্তাক্লিষ্ট ছিল তার নিউরনে কিলবিল করতে থাকা সেই হাসির নেপথ্য-কারন অনুসন্ধানে।

ডলি সেটা বুঝলো।তখন বুদ্ধিমতী ডলি ভাবলো,,,জুজুকে সবকথা খুলে না বললে আজকের এই প্রমোদসফর পুরোই অকারনে মাটি হয়ে যাবে।

সর্বক্ষণই জুজু হাসির নেপথ্য-কারন খুঁজতেই থাকবে,,যতক্ষণ পর্যন্ত না সে নেপথ্য-কারনের উৎস্য find out করতে পারে।

ডলি তখন জুজুকে শুধাল,,

কলেজ লাইফে কে বেশি মোহনীয়া ছিল আমার আর রিয়ার মাঝে..??

যাযাবরের কাঠখোট্টা ও কর্কশ জবাব,,,

I can’t remember at this moment..even more,,answer of this question is meaningless..isn’t it..??

ডলি জুজুর প্রত্যুত্তর শুনে আবারো ভুবনমোহিনী হাসিতে কৃত্রিম লেকটির সমস্ত জলরাশিকে বিমোহিত করল।

শুধু কোনরকম ভাবান্তর পরিলক্ষিত হলো না জুজুর চিন্তামগ্ন মুখায়বে।

ডলি তখন কৌতুকপূর্ণ নয়নে জুজুর দিকে তাকিয়ে বলল,,,,

আমি কিন্ত জনৈক তান্ত্রিক গুরুর দীক্ষা নিয়েছি।

সেই দীক্ষা-সেশন সম্পন্ন করেছি।

এখন আমি যে কারোর মুখ দেখেই বলে দিতে পারি তার অতীত,,বর্তমান,ভবিষ্যৎ।

জুজু কথাটা আমলে তো নিলোই না,,,উপরন্ত টীপ্পনী কেটে বললঃ

সে না হয় মানলাম,,,কিন্তু তোমার নিজের অতীত,,বর্তমান,ভবিষ্যৎ কিভাবে বলতে পারো,,,কেহই তো তার নিজের মুখাবয়ব স্বচক্ষে দেখতে সক্ষম নয়..!!

ডলির ঝটপট উত্তর,,,,

কেন সম্ভব নয়,,,আয়নায় দেখি স্বীয় মুখশ্রী।

হা হা হা….এখনো বুদ্ধুই রয়ে গেলে,,!

ভেবে এখনো বিস্মিত হই যে,,,তোমার মত শিক্ষার্থী কিভাবে ৫ম/৮ম শ্রেনীতে বৃত্তি পেয়েছিলে,,কিভাবে স্ট্যান্ড করে স্টাইপেন্ডও পেয়েছিলে..!!

হা হা হা হা হা হা

তবে তুমি একান্তই আমার নিজের হলে অবশ্য আয়নার কোন দরকারই ছিল না।

তোমার ঐ দেবতাদের মত টলমল আঁখিতেই নিজের অতীত,,বর্তমান,ভবিষ্যৎ প্রত্যহ ক্ষণে ক্ষণে দেখে নিতাম।

এতক্ষণের প্রচেষ্টায় এবার ডলি সফল হলো।

যাযাবর ডলির কথা শুনামাত্রই একটা নিষ্পাপ-নিষ্কলুশ হাসির তুফান তুলল।পরক্ষনেই ডলিকে শুধালো…

তুমি তাহলে এখন অন্তর্যামী হয়ে গেছো..??

হুমম~obviously..!!

তুমি এই মুহূর্তে কোন একটা ইস্যুতে খুবই চিন্তামগ্ন এবং আমি জানি কি ইস্যু নিয়ে তোমার এই মগ্নচৈতন্যতা।

জুজু বিস্মিত হলো না আবার ডলির এই কথাটা পাত্তা না দিয়েও পারল না।

কৌতুহল আর চেপে রেখতে না পেরে যাযাবর শশব্যস্ত  হয়ে বললো….

ঠিক আছে।

আমি মেনে নিলাম যে তুমি অন্তর্যামী হবার কোর্স কোন তন্ত্রগুরুর কাছ থেকে আয়ত্ব করেছে।

তাহলে সেটার প্রমান দাও আমাকে।

আমি এই reunion এ এসে একটা ভাবনায় বিভোর হয়ে আছি….তোমার এই কথাটি সত্যি।কিন্ত যদি সত্যি সত্যিই একদম to the point বলতে পারো,,,,আমার চিন্তাগ্রস্ত থাকার কারনটা,,তবে তোমাকে অন্তর্যামী হিসাবে মেনে নিব।

it’s a promise…!!

ডলি খুব মিষ্টি-রোমান্টিক একটা হাসি হেসে জবাব দিল,,তুমি আমাকে অন্তর্যামী হিসাবে মেনে নিলেই বা কি আর মেনে না নিলেই বা কি…!!

তবে আমি যে অন্তর্যামী~~সেটা তোমাকে আমি প্রমাণ করে দেখাতে পারি একটা শর্তে..!

হা হা হা

জুজু কালবিলম্ব না করে ডলিকে বলল,,

আমি তোমার যে কোন শর্ত মানতে প্রস্তুত,,,সুতরাং প্রমান করে দেখাও।

ধীরে বাছা ধীরে,,,,আগে তো শুনবে কি আমার শর্ত।

জুজু শশব্যস্ত হয়ে ডলিকে বললঃ

বলো শুনি কি তোমার শর্ত..!!

এবার ডলি লজ্জা পেল।তবুও আনতমুখী রমনী ধীরে ধীরে অনুচ্চকন্ঠে জুজুকে বললঃ

শর্ত হচ্ছে,,,

প্রতিমাসে অন্ততপক্ষে একদিনের জন্যে হলেও সমস্তটাদিন আমাকে নিয়ে তোমার ঘোরাফেরা করতে হবে,,,আমাদের সময়ে যেটাকে আমরা ডেটিং করা বলতাম…do you agree..??

অগত্যা জুজু যেন একটা ভূমিকম্প অনুভব করল।

সে আজ,,এই মুহূর্তে বুঝলো,,,কখনো ডলির স্বপ্নপুরুষ ছিল সে,,,সম্ভবত তাও সেটা ছিল ওর first love এবং এত বছর পড়েও ডলি তার first love কে হৃদে আগলে রেখেছে।

জুজুর গৌঢ় মুখশ্রী যেন রক্তশূণ্য হয়ে একেবারে দুধ-সাদা হয়ে গেল।

তুমুল কালবোশেখির তান্ডব শেষে প্রকৃতি যেমন একদম শুনশান-নীরব,,নিস্তব্ধ হয়ে যায়,,তাদের দুজনের মাঝে এখন সেরকম একটা হুমহুম নিস্তব্ধতা।

নিস্তব্দ্ধতা শেষে ডলি বলতে শুরু করলো,,,

সকালে জালাল যখন HSC-তে পাঠ্য THE GIFT OF THE MAGI গল্পটা নিয়ে স্মৃতিচারণ করছিল তখন ত্রিশ বছর পূর্বেকার একটা স্মৃতি আমার মনে পড়ে যায়।সেই স্মৃতি রোমন্থনে আমি পুলকিত হয়ে তোমার পানে তাকিয়ে ক্ষণিক হাসি দেবার পর হতেই তুমি এই চিন্তায় চিন্তাগ্রস্ত হয়ে রয়েছো যে,,,কেন আমি ওভাবে হেসেছিলাম..!!

তাই না জুজু…??

জুজু ডলির কথা শুনে হতবিহ্বল হয়ে গেল।আসলেই তো ডলি সত্যি বলছে।

তখন জুজু ডলিকে বললঃ

তুমি কেন আমা-কর্তৃক জালালকে করা প্রশ্ন শুনে পুলকিত হয়েছিলে আর কেনইবা হেসেছিলে ডলি…??

ডলি জুজুর কথা শুনে আবার তার হাসিতে চারিদিক আলোকিত করলো।

হা হা হা হা হা হা

অতঃপর ডলি চলে গেল ঠিক তিনটি দশক পূর্বের কোন এক মায়াবী অপরাহ্নে।

সেদিন কোচিংয়ে তাদের ক্লাস ছিল।তারা এক ব্যাচে দশজন করে পড়ত।চারজন ছেলে এবং ছয়জন মেয়ে।

কোন একদিন তারা কোচিংয়ে পৌঁছে স্যারের ক্লাসে আসার প্রতীক্ষায় অপেক্ষা করতেছিল।সেদিন কি জন্য যেন স্যারের ক্লাশ নিতে আসতে দেরী হচ্ছিল।সেই সুযোগে সবাই টেবিলের চারপাশে বসে গালগল্প করতেছিল।

ডলি এবং জেবা জিম আর ডেলার প্রেমকাহিনী নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতেছিল।কিন্ত পাঠককুলকে পূর্বেই জ্ঞাত করা হয়েছিল যে,,জুজু তার দুবছরের কলেজ জীবনে সর্বোচ্চ ২ মিনিটও ক্লাসে উপস্থিত হয়নি।

স্বভাবত কারনেই জুজু’র পক্ষে ডেলা আর জিমের ব্যাপারে জানা থাকার কথা নয়..!!

কিন্তু জুজু নির্বাক হয়ে ডলি আর জেবার কথাবার্তাগুলো খরগোশের মত কান খাঁড়া করে শুনছিল।জুজু নায়ক-নায়িকার নাম শুনে আন্দাজ করেছিল যে,,ওরা দুজন নিশ্চয় লেটেস্ট মুক্তিপ্রাপ্ত হিন্দী নয়তো ইংলিশ কোন মুভির কাহিনী একে অন্যকে বলে শুনাচ্ছে।

গল্পের কাহিনী শুনতে শুনতে সিনেমাপাগল জুজু নিজেকে আর সামলাতে না পেরে হঠাৎ করেই উন্মুক্তভাবে প্রশ্ন করে বসলো যে,,,,,

এ্যাই~~তোমরা কোন সিনেমার কাহিনী নিয়ে আলোচনা করছ..?

সিনেমার নামটা বলো,,আজ রাতেই VCP-তে( video cassette player )দেখব।

জুজুর মুখে এই কথা শুনে ব্যাচের সবার মুখ ও ঠোঁঠ যেন তালাবদ্ধ হয়ে গেল এবং কিছুক্ষণ পরে আবার সবাই একত্রে সমস্বরে হো হো হো করে হেসে উঠলো।

জুজু ক্লাশ ফাইভে ও  এইটে বৃত্তি পাওয়া এক মারাত্মকক মেধাবী ছাত্র।তার উপর বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠতম বিদ্যাপীঠ ঢাকা কলেজের তুখোড় ছাত্র।এরকম একজন ছাত্র তার পাঠ্য পুস্তকে উল্লেখিত একটি  গল্পের নায়ক-নায়িকার নামও জানে না,,,,এ ব্যাপারটা ব্যাচের বাকীসব ছাত্রছাত্রীদের নিকট সপ্তমাশ্চর্যেরও অধিক আশ্চর্যজনক মনে হলো।

তবে তাদের ব্যাচম্যাট বান্ধবী রিয়া ব্যাপারটা বুঝতে পারল,,কারন তখন জুজু-রিয়া রাত বারোটার পর থেকে ফজরের ওয়াক্ত হওয়া পর্যন্ত প্রত্যহ ল্যান্ডফোনে কথোপোকথনে মহাব্যস্ত থাকে এবং সপ্তাহে ৩/৪ দিন ঢাকা শহরের বিভিন্ন ডেটিং স্পটগুলোতে আনাগোনা করে,,,চায়নিজ রেষ্টুরেন্টের আলো-আঁধারিতে একে অন্যের বর্ণিল মুখশ্রী দেখে মুগ্ধ হয়।

তখন রিয়া ডলির কানে ফিসফিস করে কিছু কথা বলল এবং রিয়ার কানকথা মোতাবেক ডলি এবং জুজু সরাসরি একটা বিজনেস ডিল করে বসলো।

তবে এটাকে বিজনেস deal না বলে gentleman agreement বলাটাই অধিকতর সমীচিন।।

ডলি বললঃ

ঠিক আছে জুজু।আমি তোমাকে এই সিনেমাটার মাস্টার কপি ক্যাসেট গিফট করব তবে শর্ত হলো আমাদের সবাইকে সনি সিনেমা হলে “”কেয়ামত থেকে কেয়ামত”” সিনেমাটি দেখাতে হবে।আমরা সিনেমা দেখতে গিয়ে ২০ টাকার টিকেট ৫০০টাকা খরচ করেও ম্যানেজ করতে পারিনি।

ঝটপট বলে ফেল রাজী আছো কি নেই…??

অতগুলো মেয়েবন্ধু এবং কয়েকজন ছেলেবন্ধুর সামনে নিজের ইজ্জত আবার পাংচার না হয়ে যায়,,,,সেজন্য অন্য কোন উপয়ান্তর না পেয়ে জুজুকে তাদের শর্তে রাজী হতে হলো।

তখন সবাই ঠিক করলো আগামীকালই তারা সবাই একত্রে কেয়ামত থেকে কেয়ামত সিনেমা দেখবে কলেজ ফাঁকি দিয়ে এবং এই সিনেমা দেখার যাবতীয় খরচ জুজুই বহন করবে,,কারন SSC তে ৮০০+ নম্বর পাওয়াতে সে প্রতিমাসে সরকার-প্রদত্ত এবং তার ব্যাংকে কর্মরতা মায়ের অফিস থেকে স্টাইপ্যান্ড পায়।

এবং আগামীকাল সিনেমা দেখে বাসায় ফেরার সময় ডলি তাকে জীম এন্ড ডেলা অভিনীত ফিল্মটির মাস্টারকপিও তার হাতে পৌঁছে দিবে।

একেবারে give & take যাকে বলে।

যেই কথা সেই কাজ..!!

জুজু ২০ টাকার টিকেট ২০ গুন দাম দিয়ে ক্রয় করে তাদের সকলের জন্য টিকেট কাটলো এবং সবাই একত্রে ডিসি-তে বসে সিনেমাও দেখলো।

অবশ্য সিনেমার টিকেট যেহেতু অতি চড়ামূল্যে কিনে জুজু তাদেরকে সিনেমা দেখালো,,,তাই মানবিক কারনে তারা সবাই মিলে চাঁদা তুলে খোকনের দোকানের চটপটি খেল,,,শুধুমাত্র জুজুকে চাঁদা প্রদান করতে হয় নি।

অতঃপর যখন সকলেরই বাড়ি ফেরার সময় হলো,,তখন জুজু ডলিকে বলল,,,

কথা তো ছিল,,সিনেমা দেখার পরপরই তুমি আমাকে ঐ সিনেমার ক্যাসেটটি গিফট করবে,,,অথচ এখনও সেটা করোনি।

ডলি বললঃ

গিফট করবো যখন বলেছি,,তখন অবশ্যই করব।

কিন্তু জীম আর ডেলা অভিনীত the gift of the magi সিনেমাটি যেদিন আমি কলেজ ভর্তি হয়েছি,,সেদিনই সিনেমাটা মুক্তি পেয়েছে,,!!

মুচকি-মুচকি হাসিতে কথাটা বলে ডলি তার কলেজ ব্যাগের ভিতর থেকে ইংলিশ প্রথম পত্রের বইটি বের করে জুজুর দিকে বড়িয়ে ধরে বলল,,,এই নাও তোমার গিফট।

তখন শুধু জুজু ছাড়া আর বাকী সবাই পাড়লে হাসতে হাসতে ওখানেই কুটি কুটি হয়ে যাবার মত অবস্থা। 

জুজু এখন পঙ্খীরাজ নৌকায় ডলির মুখোমুখি বসা।

জুজু,,,ডলির আঁখিপাতে গভীর দৃষ্টি হেনে বলল,,,,

একটা কথা বলি বন্ধু,…??

ডলি মুখে হ্যাঁ অথবা না কিছুই বলল না,,,,তবে নয়নে সম্মতি দিল।

জুজু বললঃ

১২ ঘন্টা আগেও তুমি আমার এই জীবনে কেহই ছিলে না,,,কিন্তু ঠিক এই নুহূর্ত হতে তুমিহীনা জীবন মানেই আমার মরন। 

এতটুকুই আমার কথা এবং এই ভাষার পরে এই ব্রমান্ডে আর কোন ভাষা নেই..!!

ডলি কিছুই বলল না,,জুজুর দিকেও তাকালো না,,আনমনে কৃত্রিম লেকের স্বচ্ছ জলে নিজের দোদুল্যমান প্রতিচ্ছবির দিকে পলক না ফেলে এক দৃষ্টিতে তাকিয়েই রইলো। 

তারপর দুজনে আরো কিছুক্ষণ নৌকাভ্রমণ করলো,,তারপর আবার আড্ডায় যোগ দিল।

সেখানে তখনও জালাল উপস্থিত ছিল।

জালালকে জুজু তখন জিজ্ঞেস করলো,,,

তোদের ক্যাডেট কলেজের প্রিন্সিপাল স্যারের সাথে জীম আর ডেলাকে নিয়ে আর কি কোন কথোপকথন হয়েছিল….?

জালাল জবাবে বললঃ

hmmm~~হয়েছিল something like this…

No action justifies or proves love. Love itself needs no justification but we human do.We like to see proof of love,a tale of love. the writer gives us that. When you grow up, don’t seek love. You won’t find it. Love will find you. Love will justify you and your lover.

That night I did maths quickly and wrote the first paragraph of my answer to the exam question on Della…!!

জালালের কথার পরিপ্রেক্ষিতে জুজু প্রত্যুত্তরে বলেছিল,,

জুজুঃ

i’ve got what i’m looking for in deed & that is ….

never seek love nor run after love,,,you won’t find while love will find out you by itself..””””…thanks….বন্ধু জালাল….!!”