Jahid Hasan Rana

September 10, 2021 1 By JAR BOOK

কবি ও লেখক পরিচিতি

Jahid Hasan Rana

ছাত্র, সেচ্ছাসেবক, কবি ও লেখক

বিভাগ: রংপুর, জেলা: কুড়িগ্রাম, উপজেলা: ফুলবাড়ী, গ্রাম: নাওডাঙ্গা।  

টোটো

আমার ছোটবেলার বন্ধু বলতে ছিল রাস্তার কুকুর। বিছানা ছিল ফুটপাথের এক কোণে পড়ে থাকা একটুখানি জায়গা। যখন আমার পাঁচ বছর বয়স তখন আমার মা বলেছিল আমাকে নাকি চার বছর আগে রেল লাইনের ধারে পড়ে থাকতে দেখে কোলে তুলে নিয়ে তার সাথে রেখে দেয়। আমি জানতাম না আমার জন্মদাতা পিতা কে! কেই বা ছিল আমার গর্ভধারণী জননী। এই অচেনা পৃথিবীতে আমার একমাত্র আপন বলতে শুধুই এই পালিত মা। মা সারাদিন বোতল টিনের কৌটা কাগজ কুঁড়িয়ে তা বিক্রি করে কিছু খাবার কিনে এনে আমার সামনে দিতো। আমিও পেট পুরে খেতাম আর মাকে দেখতাম দুই-তিনবার মুখে দিয়েই বলতো আমার পেট ভরেছে। আমার যখন ছয় বছর বয়স তখন দেখতাম ফুটপাথের ওপারের খোলা বাগানটা একটা লোক আমার বয়সী অনেকগুলো ছেলে মেয়ে কে কি যেন বলছে আর দেখাচ্ছে। আমি শুধু দূর থেকে দেখতাম। একদিন লোকটা আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, বাবু তোমার নাম কি?
আমি বললাম আমার নাম টোটো। তার কথা বলার আগেই আমি প্রশ্ন করলাম আপনি এখানে ছেলে মেয়েদের কি বলেন? লোকটি আমাকে বললো তোমার মত যারা পথশিশু আছে তাদেরকে পড়াশোনা শেখানো আমার কাজ।
আর আমি তাই করি সেখানে। তুমি করবে ওদের সাথে? উত্তরে আমি বললাম হ্যা। কিন্তু আমার কাছে বই নেই। লোকটা আমায় বলল তোমার বাবাকে আমার সাথে দেখা করতে বলবে। আমি চোখ ছল ছল করে বললাম আমার বাবা নেই। লোকটি বলল,তুমি কার সাথে থাকো? আমি বললাম আমার মায়ের সাথে লোকটি বলল তবে চলো, তোমার মায়ের সাথে দেখা করে আসি। আমি বললাম না তো রাতে আসবে। লোকটি আমার ঠিকানা নিয়ে চলে গেল। রাতে মা খাবার নিয়ে এলো। আজকে খাবার খুব কম ছিল। মা আমাকে খাবার খাইয়ে দিলো। কিন্তু ক্ষুধা যেন পিছু ছাড়ে না। মাকে বললাম, মা আমি পড়তে চাই।
মা অবাক হয়ে আমার দিকে চেয়ে রইল।
তখনই আমাদের ছেড়া পলিথিন এর দরজায় কড়া নাড়লো সেই লোকটি। হাতে বই, খাতা, কলম আর কিছু খাবার। মাকে লোকটি আমাকে পড়ানোর কথা বলল। মা বলল, সারাদিন কাগজ কুঁড়িয়ে যা আয় হয় তা দিয়ে খাবার জোটে না ঠিকমতো। পড়াশোনা করাবো কোথা থেকে? আর আপনি বা কয়দিন এভাবে বই এনে দিবেন? আমাদের মত মানুষের জন্য এসব নয়। ইচ্ছা থাকলে সব কিছু হয় না।
মা এই কথাগুলো যেন বলা শেষ করতে পারে না। শুধু কাঁদছে। মায়ের কান্না দেখে আমার কান্না চলে আসে। আমি বললাম, আপনি চলে যান। আমি পড়তে চাই না।
লোকটি মাকে বলল, চাচি, আপনি এভাবে নিজেকে দুর্বল ভাববেন না। আপনার জন্য যদি একটা ভালো কাজ খুঁজে দেই, আপনি তা করে দিব্যি দিন কাটাতে পারবেন। আপনি আগামীকাল থেকে টোটো কে পাশের বাগানে পাঠিয়ে দেবেন। আর আপনার কাজের ব্যবস্থা আমি করে দেবো।
মা লোকটির কথায় ভরসা পেল। আমার কথা ভেবে রাজি হয়ে গেল।
আমি নিয়মিত বাগানে গিয়ে সবার সাথে পড়াশোনা করছি। বাড়িতে এসে সেগুলো আবার মুখস্ত করি। এভাবে দুই মাস কেটে গেল।
যে লোকটি আমাকে পড়াচ্ছেন তার নাম রানা। আমরা রানা ভাই বলেই ডাকতাম। আজ সকালে রানা ভাই আমাদের ফুটপাথের সেই পলিথিনের অংশ দিয়ে তৈরি করা ঘরে এসে মাকে বললো, আপনি কাল থেকে আমার এক বড় বোনের বাসায় গিয়ে তার সাথে ঘরের কাজ করে দেবেন। তাঁদের নিচতলায় একটা ফাঁকা ঘর আছে। সেখানে আপনি টোটো কে নিয়ে থাকতে পারবেন। প্রতিমাসে ৫০০০ টাকা পাবেন। সাথে সকাল রাতের খাবার।
রানা ভাইয়ের কথা শুনে মায়ের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগল। আমি ভাবলাম, মা মনে হয় কোন কারনে দুঃখ পেয়ে কাঁদছে। কিন্তু নাহ। আমি ভুল ভেবেছি। এটা আনন্দের কান্না।
মা রানা ভাইকে অনেক ধন্যবাদ জানালো। নতুন বাড়িতে গিয়ে আমি খুব খুশি। যে বাড়িতে আমরা থাকি সেই বাড়িতে কোন ছেলে মেয়ে নেই। শুধু একজন মহিলা আর একজন পুরুষ।
যত দিন যেতে লাগল আমার প্রতি তাদের ভালোবাসা যেন বাড়তে থাকল। কেটে গেল দুটি বছর। আমি এখন শহরের ছোটখাটো একটা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ি।
স্কুলের সেরা ছাত্র আমি। সকালে স্কুলে যাই আর বিকেলে সেই ফুটপাথের পাশের বাগানটায় গিয়ে রানা ভাইয়ের কাছে স্কুলের পড়া বুঝিয়ে নেই।
ক্লাস ফাইভে আমি আবার সেরা ছাত্র হলাম। তবে পড়াশোনার খরচটাও বাড়তে থাকলো।
আমরা যে বাড়িতে থাকি সেই বাড়ির মালকিনের অনুমতি নিয়ে মা আরো একটা বাড়িতে কাজ নিলো। সেখানে শুধু সকালে গিয়ে রান্না আর জামা কাপড় ধোয়ার কাজ নিলো। তারা প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা দিতে রাজি হয়। মা এভাবেই পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পেলাম। রানা ভাইয়ের পরামর্শে ভালো একটা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভর্তি হলাম। দুই বছর পার হওয়ার পর বিদ্যালয়ের ফী সময় না দিতে পারায় বিদ্যালয় থেকে আমাকে বের করে দেওয়া হলো। রানা ভাই কথাটা শোনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে অনেক অনুরোধ করেছিলো। স্যার তাকে পরিষ্কার বলে দিলো, টাকা নেই তো পড়াশোনা করার দরকার কি! কাজে লাগিয়ে দিলেই তো পারো। আমি ভেবেছিলাম আমার হয়তো আর পড়াশোনা হবে না।
কিন্তু নাহ। রানা ভাই এসে বললো, স্কুলের স্যার একটা সুযোগ দিয়েছেন। তুই পড়বি।
কিন্তু কি করে কি হবে ভেবে পাচ্ছিলাম না।
রানা ভাই বলল, আমি যেখানে কাজ করি সেখান থেকে খুব অল্প টাকা পাই। আমার তাতে দিন চলে যায়। তবে মাঝে মাঝে তোর বই, খাতা কিনতে সহযোগিতা করতে চেষ্টা করবো। কিন্তু স্কুল ফি, পরীক্ষা ফি! এতসব কি করে হবে আমিও তাই ভাবছি। আমি রানা ভাই কে বললাম, ভাই আমি কাজ করবো। আমার তো দুপুরে স্কুল ছুটি হয়ে যায়। সকালে স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে স্কুলে গিয়ে দুপুরে ফিরেই কোন একটা কাজ করবো।
রানা ভাই জানালো, পাশের একটা হোটেলে লোক নেয়া হবে। আমি কথা বলে দেখছি। হোটেলের মালিকের সাথে কথা হলো। দুপুর দুইটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত তাদের দোকানে কাজ করতে হবে।
সাত দিন পর পর টাকা দেবে। প্রতি সপ্তাহে ৫০০ টাকা। তাহলে মাসে ২ হাজার টাকা। আমার কাছে এটাই অনেক। জীবন চলতে লাগলো…..।
সকাল ছ’টায় ঘুম থেকে উঠতাম। উঠে ফ্রেশ হয়ে পড়াশোনা শুরু করতাম। সকাল ন’টায় স্কুল যেতাম। দুপুর একটায় ফিরে এসে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে হোটেলে যেতাম। দেড়টায় কাজ শুরু করতাম প্রতিদিন। হোটেলের মালিক আব্বাস চাচা এটা দেখে খুব খুশি হতেন। আমায় ভালোও বাসতেন খুব।
সেদিন রাতে মায়ের খুব জ্বর হয়েছিল। আমার কাছে টাকা ছিল না। রানা ভাইও তার কি একটা কাজে দেশের বাড়ি গেছে। আব্বাস চাচার সামনে গিয়ে দাড়াতেই আমার দুচোখ ছল ছল করতে লাগল। চাচা বললো, কিরে বাপ জান, কি হইছে? আমি বললাম, মায়ের খুব জ্বর। চাচা বললো, অহ, তা ডাক্তার ডাকা নাই? আমি না সূচক উত্তর দিলাম মাথা নাড়িয়ে।
চাচা বললো, বুঝছি। আয় আমার লগে। এই বলে আমায় নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেল আব্বাস চাচা। দোকানের বাকিদের দোকান দেখতে বলছে আগেই। ডাক্তার মাকে দেখে কিছু ঔষধ লিখে দিলেন।
আব্বাস চাচা ডাক্তারের সাথে গেল ঔষধ আনতে। আমায় বলল, বাজান তুই তোর মায়ের কাছে থাক। আমি আইতাছি। কিছুক্ষণ পর চাচা ফিরে এসে ঔষধ আর কিছু ফল আমার হাতে দিলো।
আমি চাচার এমন ভালোবাসা দেখে কেঁদে ফেললাম। আর বললাম, চাচা সামনের দুই সপ্তাহের বেতন থেকে টাকাটা কেটে নিয়েন।
এই টাকা দেওয়া লাগবো না। তুই থাক। আমি গেলাম। আর কালকে হোটেলে যাওয়ার কাম নাই তোর। তুই পরশুদিন থাইকা আসিস। দুইডা দিন তোর মায়েরে দেখ।
আমি বললাম, আচ্ছা।
দেখতে দেখতে এসএসসি পরীক্ষা চলে আসলো। পড়াশোনার চাপও বাড়তে লাগল। ভোর ভোর উঠে পড়াশোনা করতে হয়। ঘুমাতে হয় কোন দিন বারোটা, কখনো রাত একটা। মাঝে মাঝে রাতে ঘুমটাই হয় না।
পরীক্ষা শেষ হল। রেজাল্ট এলো। রানা ভাই বলল, তুই ৪.৯৭ পেয়েছিস।
আমি মন খারাপ করে বসে আছি। মা আর রানা ভাই এসে অনেক বুঝালো। এবার না হয় জিপিএ-৫ পাসনি। পরবর্তী সময়ে হবে। রানা ভাই বলল, ৪.৯৭ কি যে কেউ পায় রে পাগলা! এখন একটা ভাল কলেজে ভর্তি হতে হবে। অপেক্ষা কর। আজ বিকেলে হোটেলে গেলাম। আব্বাস চাচা মিষ্টির প্যাকেট থেকে মিষ্টি বের করে আমায় খাইয়ে দিয়ে বললো, বাজান রে আমার পোলা নাই। তোর ভালো হইলেই আমার মন খুশিতে ভইরা ওঠে। নে মিস্টি খা। তোর মায়ের কাছে শুনছি তুই নাকি পরীক্ষায় ভালো করছোস। এহন আর কি! ভাল কলেজে পর দোয়া করি। শহরের একটা সরকারি কলেজে সিলেক্ট করলাম। আলহামদুলিল্লাহ।
সরকারি কলেজ হওয়ায় খরচটা একটু কম। তবে আমার জন্য অনেক। হোটেলে আর সময় দিতে পারছিনা। চাচাকে বললাম। চাচা বললো, তুই পড় ভালো কইরা। দরকার হইলে আসিস কিন্তু।
চাচা কে সালাম করে চলে আসলাম বাড়িতে। মা এখনো কাজ করছে, যে বাড়িতে থাকি সেই বাসায়। রানা ভাই আর কয়েকজন বন্ধুর সহযোগিতায় কয়েকটা বাসায় পড়ালেখার ফাঁকে ফাঁকে টিউশনির ব্যবস্থা করলাম। মাসে এখন দশ হাজার টাকা অনায়াসেই আসে। মাকে বলার পরেও মা বাসায় গিয়ে কাজ করা বন্ধ করেনি। মা শুধু একটা কথাই বলে, যতদিন কাজ করার ক্ষমতা থাকবে ততদিন কাজ করে যাবো। তাতে ঘরের খাবার টা অন্তত কিনতে পারবো। আমি আর মাকে নিষেধ করিনি।
দেখতে দেখতে কেটে গেল অনেক সময়। চলে এলো এইচএসসি পরীক্ষা।
পরীক্ষার দুই মাস আগে খবর পেলাম রানা ভাই রাস্তা পার হতে গিয়ে বাসের সাথে ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখি রানা ভাই আর নেই! বুকটা ফেটে যাচ্ছিল! চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করছিল! যে ভাই আমার জীবনটাকে এই অব্দি এনে দিয়েছে তাকেই কেন আল্লাহ এইভাবে দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নিলো।
কে আমাকে বলবে? তুই চিন্তা করিস না। এবারের পরীক্ষায় খুব ভাল রেজাল্ট করবি!
নিজেকে খুব একা মনে হচ্ছিল। খুব কঠিন ভাবে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করলাম। সরকারি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হলো।
কেটে গেল দুইটা মাস। পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে। রানা ভাইকে খুব মনে পড়ছিল। কিন্তু তাকে কাছে পেলাম না। পরীক্ষা শেষ করে রেজাল্টের অপেক্ষায় থাকলাম। সেই সাথে টিউশনি গুলো চালাতে থাকলাম। মেডিকেলে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে হবে। ভালো কোচিং এ ভর্তি হবো। কিন্তু এত টাকা কোথায় পাবো!
সব সময় যেন মনে হতে থাকে, সবকিছুর উপরে যেন টাকার মূল্য। মানুষ অসহায়ত্ব বোঝে না। বোঝে শুধু টাকা।
একটা নামকরা কোচিং এ গিয়ে ডিরেক্টর স্যারের সাথে কথা বললাম। বিশেষভাবে অনুরোধ করলাম। আমার পড়াশোনার আগ্রহ আর রেজাল্ট এর কথা শুনে ৫০ শতাংশ ছাড়ে ফি প্রদান সাপেক্ষে পড়ার সুযোগ করে দিলেন। কিন্তু বাকি টাকার বন্দোবস্ত করতে হবে। যে বাসায় টিউশনি করাই তাদের কাছে অগ্রিম টাকা নিলাম। মাকে তখন টাকার কথা বলিনি। কারণ, মা চিন্তা করবে। আরো ৫ হাজার টাকা সংকট। আব্বাস চাচার কথা মাথায় এলো। ছুটে গেলাম তার কাছে। আমাকে অনেকদিন পর কাছে পেয়ে খুব খুশি হলো। যদিও মাঝে মাঝে চা খেতে আসতাম। আলাদা একটা ভালোবাসা ছিল তার প্রতি। তাকে সমস্যার কথা বলার সাথে সাথে আমাকে ড্রয়ার থেকে টাকা দিয়ে দিলো। আর বলল, টাকা দিলাম দুইটা শর্তে।
প্রথম শর্ত, মাঝে মাঝে আমার লগে দেখা কইরা যাবি। আর দুই নাম্বারডা হইলো, এই টাকা ফেরত দিতে পারবি না।
আমি তাকে আনন্দে জড়িয়ে ধরলাম।
কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিলাম। রেজাল্ট এখনো দেরি আছে। এখন শুধু টিউশনি করাচ্ছি আর আব্বাস চাচার হোটেলে কাজ করছি। চাচা বললো, বাপজান, তুই দোকানে আসলে আমার ভালো লাগে। তয় তুই শুধু টাকার হিসাব টা দেখ।
লোকজনরে খাবার-দাবার দেয়ার লোক তো আছে। আমি তার কথা না শুনে আমার মত কাজ করে গেলাম। তবে টিউশনি থেকে টাকা নিলেও আব্বাস চাচার কাছে কোন পারিশ্রমিক নেইনি।
এক মাস পর রেজাল্ট। যে বাসায় মাকে নিয়ে থাকি সেই বাসার মালিক বাসা বিক্রি করে চলে যাবে অন্য কোথাও।
চিন্তায় পড়লাম। বৃদ্ধ মাকে নিয়ে যাব কোথায়! ততদিনে মাকে কাজ থেকে মুক্তি দিয়েছি। আব্বাস চাচা তার ছোট্ট ঘরে আমাদের থাকার অনুমতি দিলো। চাচা একাই থাকতো। তার স্ত্রী মারা গেছে অনেক আগেই।
সন্তানও নেই। কেটে গেল এক মাস। ঢাকায় চান্স পেলাম। আব্বাস চাচা মাকে সাথে নিয়ে বস্তির সকল কে মিষ্টি খাওয়াতে লাগল।”