রসুনের যত গুন

April 4, 2022 0 By jarlimited

রসুনের অনেক গুণ। চোখ ভাল রাখা থেকে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ— নিয়মিত রসুন খেলে শরীরের বহু উপকার হয়। কিন্তু সবচেয়ে বেশি উপকার হয় সকালে খালি পেটে রসুন খেলে। এক কোয়া রসুন হয় খালি পেটে খাওয়ার গুণ আরও বেশি, এমনই বলছে গবেষণা।

রসুন আমাদের দৈনন্দিন খাবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান; এই রসুনে রয়েছে থিয়ামিন (ভিটামিন বি১), রিবোফ্লাবিন (ভিটামিন বি২), নায়াসিন (ভিটামিন বি৩), প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড (ভিটামিন বি৫), ভিটামিন বি৬, ফোলেট (ভিটামিন বি৯) ও সেলেনিয়াম। সেলেনিয়াম ক্যানসার প্রতিরোধে দারুণ কাজ করে। রসুনের মধ্যে রয়েছে এলিসিন নামে এক জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা ক্যানসারসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দূর করতে কার্যকর। এই এলিসিন নামে যে কম্পাউন্ড রসুনে পাওয়া যায়, তার কারণে রসুনকে সুপারফুডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি

রসুনের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণ একে অনেকটা ওষুধের মতোই তৈরি করেছে, যার দরুন রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। খালি পেটে রসুন খেলে এই উপকার বেশি। বর্তমানে এই অতিমারি পরিস্থিতিতে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিতে খুব জরুরি, তাই প্রতিদিন দুই কোয়া রসুন খেতে পারেন।

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে

উচ্চ রক্তচাপ কমানোর জন্য অনেক পথ্যের অন্যতম রসুন। শরীরের এলডিএল বেড়ে যাওয়ার কারণে রক্তচাপ বেড়ে যায়, প্রতিদিন দুই কোয়া রসুন সকালে খালি পেটে খেলে উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা থাকবে না।

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা সকালে খালি পেটে এক কোয়া রসুন খান, তাঁদের হৃদ্‌রোগের আশঙ্কা অনেকটা কমে যায়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, শরীর চট করে ক্লান্ত হয় না।

• রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে রসুন। বিশেষ করে রোজ যদি কেউ এক কোয়া রসুন খান, তাঁর ডায়াবিটিসের আশঙ্কা কিছুটা কমতে পারে।

• অনেকেই সারা বছর সর্দি-কাশির সমস্যায় ভোগেন। ঠান্ডা লাগা কমতেই চায় না। তাঁরা যদি নিয়মিত সকালে খালি পেটে এক কোয়া রসুন খান, তিন সপ্তাহেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

• সবচেয়ে বড় কথা, শরীরকে দূষণ মুক্ত করতে রসুন খুবই কার্যকর। সকালে খালি পেটে এক কোয়া রসুন খেলে শরীরে জমা টক্সিন দ্রুত সাফ হয়ে যায়। সার্বিক ভাবে সুস্থতা বাড়ে এর ফলে।

তবে রসুনের উপকারিতা অনেক হলেও আমরা অনেকেই কাচা রসুন খেতে পারি না। তাদের জন্যে রসুনের আচার হতে পারে দারুণ সমাধান। রসুনের আচারের উপকারিতা মোটেও কম নয়।

১) উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দূর করে। সেই সঙ্গে যক্ষ্মা রোগের হাত থেকে রক্ষা করে।

২)  রসুনের আচার হজমশক্তি বাড়ায় ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে। পাশাপাশি পরিপাকতন্ত্রের নানা সমস্যা দূর করে।

৩) স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

৪) চোখে ছানি পড়ার হাত থেকে রক্ষা করে।