Dip Das Nishan

September 7, 2021 4 By JAR BOOK

 

কবি ও লেখক পরিচিতি

Dip Das Nishan

Student

Patiya, Chattagram

বৃষ্টির কবিতা

লেখক: দীপ দাশ নিশান

ঝড়ো হাওয়া বইছে বেশ, ঈশাণ কোণে মেঘ,
আকাশের চোখ ছলছল আজ, দুয়ারে দাঁড়িয়ে দেখ।
বজ্রপাতের শব্দে জাগে ঘুমিয়ে ছিল যারা,
এক্ষুণি যে নেমে আসবে, ভীষণ বারিধারা।
শোঁ শোঁ করে বাতাস বয়, বাঁশের পাতা দোলে,
কৈ মাছ ধরতে কিশোর আজ, নেমেছে পাশের বিলে।
কিশোরীরাও দলবল নিয়ে, আম কুড়াতে যায়,
কেউবা আবার মনের সুখে, বৃষ্টির গান গায়।
পুকুর পাড়ের নতুন বৌটি, হাসে কুটকুট করে,
পাড়া পড়শীর মুখে তাই, গালমন্দ বেশ ঝরে।
গগনে দেখি- নেয় তো আর, বর্ণীল আলোকছটা,
হাত বাড়িয়ে বুঝলাম পরে, বৃষ্টি ফোঁটা ফোঁটা।

মনে আজি বসন্ত নাচে, বিজলি ডরাই কে?
টাপুর টুপুর বৃষ্টি পরে, টিনের চালা ঘরে।
চুল খুলেছে নতুন বৌটি, পুকুর পাড়ে বসে,
আচমকা তার জোয়ান তাকে, জাপটে ধরে এসে।
গুড়ুম গুড়ুম শব্দ যেন পাঞ্চজন্য শাঁখ,
আদুল গায়ে ভিজে শিশু, মানে না মায়ের ডাক।
যুবা ভিজে, বুড়া ভিজে, ভিজে গাঁয়ের জেলে,
কত মৎস্য জলের মাঝে বিচিত্র খেলা খেলে।

পুকুরজলে নামেনি বৌ টা, বৃষ্টিতে হলো স্নান,
জোয়ানের সাথে প্রেমে মিশেছে, ভুলে কুল-মান।
কত ভালোবাসা, কত আনন্দ, আবেগের ছড়াছড়ি,
বাদলার জলে কেউবা করে, কাদায় গড়াগড়ি।

নীলখাম থেকে চিঠিটি নিয়ে, বানিয়ে নিলাম নৌকো,
অচীনদেশের কন্যা তুমি, অচীনপুরে থাকো।
এই বাদলে তোমায় দিলাম, নৌকোয় লিখে চিঠি,
লিখে দিলাম বাসনা যত, বেঁচে থাকুক স্মৃতি।
বাঁশের পাতা নুয়ে পরেছে, যেন কল্পলতা,
পাতার উপরে আখর দিলাম, বাদল দিনের কথা।”

নিষ্ঠুর মৃত্তিকা

লেখক- দীপ দাশ নিশান

আমি ক্রন্দসীর অংশ,
আমি ধর্ম কিংবা বিজ্ঞান জানি না,
আমার মাতা-পিতা, আত্মীয়-স্বজন,
কাউকেই আমি চিনিনা।

আমাতে ভর করে দাঁড়িয়ে আছে
বোবা অট্টালিকাগুলো,
দাঁড়িয়ে থাকা বৃক্ষরাজি আজ শুয়ে আছে
বড্ড এলোমেলো।
উত্তপ্ত আমাতে একফোঁটা জল দেয়না কেউ,
খুন-বিদ্রোহে লিপ্ত হয়ে আবার-
মরণকে আলিঙ্গন করে কেউ,
কত কাটাকাটি, ধংসযজ্ঞ আমার উপর চলে!
ওহে মানব সন্তান,
‘পালিয়ে যাস কেন,আমায় দেখে-
প্রতিশোধ নিতে গেলে?’

জন্মের পর অজানা নারীর
উন্মুক্ত বক্ষের উপর,
জোড়া স্তন পান করেছিলাম।
না, তবুও তৃষ্ণার্ত আমি;
স্তন্যপানীর স্তনপানে তৃষ্ণা আজও মেটেনি।

এক, দুই, তিন করে কত জোয়ান এল,
রক্ত মাংস সব খেলাম তাদের-
না, তবুও ক্ষুধার্ত আমি,
মাংসাশীদের ভক্ষণে ক্ষুধা আজও মেটেনি।

যদি প্রশ্ন করো কে আমি?
তবে জেনে নাও- আমি এক অদৃশ্য শক্তি,
কষ্টের চেয়েও কষ্টদায়ক, আমি জগতের মহামারী।
মারণাস্ত্রের চেয়েও ভয়ানক, আমি অহংকারী।

আজকে আমি আবারো ক্ষুধার্ত,
মনে জেগেছে নিষ্ঠুর জিঘাংসা,
বাতাসে আর্তনাদের শব্দ পাচ্ছি,
মৃত্যু পথযাত্রীদের মিছিল হচ্ছে,
রক্তস্নান করে আমি হাড় চিবাবো,
ওহে পৃথিবী, আমি মৃত্তিকা বলছি,
“লাশ পাওয়া যাবে, লাশ?”