Asif Alam

September 8, 2021 0 By JAR BOOK

 

 কবি ও লেখক পরিচিতি

Asif Alam

Student

Nabinagar, Brahmanbaria

রাতের রুটি খাবে বলে

আসর নামাজটা আদায় করেই বের হয়েছিলেন এই ভেবে যে,
রাতে রুটি বানানোর আটা তো নেই ঘরে, তো রাতে কিভাবে রুটি বানাবো! হয়তো গ্যাসট্রিক/ ডায়াবেটিসের রোগ তার। কিংবা তার স্বামীর। কেননা, সে তো ছিলো, তার স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে করা বউ৷ তাই স্বামীর বয়স ৯০ ছুঁই ছুঁই করছে। অতএব রোগসোগ দুজনেরই হতে পারে। তাই আটার প্রয়োজনীয়তা এক্ষেত্রে সহজে অনুমেয়।

মেয়েটা এসএসসি পরীক্ষায় বসতে পারছে না করোনার হঠাৎ আগমনে। নাহয় হয়তো এতদিনে পাশও করে যেতো। মেয়েকে কড়া গলায় বলে গেলেন, যেনো দ্রুত নামাজ আদায় করে নেয়৷

গন্তব্য তথা বাজারটা খুব যে বেশি দূরে বলা যায় না আবার সে হিসেবে খুব কাছেও না। কেননা, জোড়ে হাটলেও ১৫-২০ মিনিটের পথ। কম কি করে হয়!!
হয়তো অটো ভাড়া ৫ টাকা বাচানোর জন্য তার এভাবে হেটে ক্যালরি পোড়ালেও কিছু আসে যায় না। ৫ টাকার অতিরিক্ত আটা আনতে পারলে তো তার ২ টি রুটির যোগান হয়ে যায়, যা দিয়ে সে একটা রাত পাড় করে দিতে পারবে, সে কি কম কথা!!

মেয়েটার বিয়ের জন্য চিন্তাটাও হয়তো বাউলি দিচ্ছিলো মনে। শোবার ঘরের একটা কোণেই চার পাশ বেড়া দিয়ে হাসের একটা ঘর, সেখানে হাস পেলে, ডিম বিক্রি করে রেগুলার কিস্তি দেয়। মেয়েটার বিয়েতে খরচা আছে না!! হয়তো মুরগিও ছিলো অন্য একটা কোণে, মুরগির ডিম ও কি কম দাম! হয়তো কখনো, একটি ডিম ও চেখে দেখেন নি, এই ভেবে যে, ১০ টাকা নষ্ট করে কি লাভ! কিস্তিতে তো বাকি পড়ে যাবে। কিস্তি বাকি হলে মেয়ের বিয়ে দিবো কি করে! এ গ্রাম সমাজে , গরীব ঘরের মেয়েদের বিয়েতে তো হাড়িভাঙা পণ না দিলে বিয়ের কথা ভাবাই যায় না।

আরো কত শত চিন্তা মস্তিষ্কের তিনটি অংশে ঘুরছিলো কে জানে! মা তো, ঘুরাটাই স্বাভাবিক৷

রোডের ওই পাশেই আটার দোকানটি। বাড়ির পাশের সগীর মিয়ার দোকানে আটার দাম রাখে বেশি, তাই হাজার পা ফেলে এখানে আসা৷ ডান বাম দেখেছিলো কি দেখে নি, হর্নের আওয়াজ কি কানে গিয়ে ছিলো না যায় নি তা এখন বিবেচ্য নয়। কেননা, এখনই তার অগ্রমস্তিষ্কটা মোটর বাইকের চাপায়,নাক দিয়ে বেরিয়ে গেছে! মধ্য আর পশ্চাৎ মস্তিষ্কের কোন অংশ কোথায়, কোন দিক দিয়ে বেরুলো, তা তৎক্ষনাৎ বোঝা গেলো না। মস্তিষ্কে চলমান শত চিন্তার ইতি যে রক্তের প্রবাল স্রোতে ভেসে যাচ্ছে রোডের ওই পাড়ে। হয়তো আটার দোকানটিতে ও গিয়ে ঢুকে ছিলো রক্তের সেই স্রোত, কেননা রক্তের লোহিত কণিকা গুলো তো জানতো, তার গন্তব্য সম্বন্ধে।

হঠাৎ ই সব অন্ধকার৷ সিএনজিতে উঠানো হলো তাকে। মাঝরাস্তায় ই হয়তো দম চলে গিয়েছিলো, কিন্তু তাও তো আশা থেকেই যায়। দেখি না হাসপাতালে গিয়ে!

১০ বছরের সেই অবুঝ ছেলেটা, ১৬ এর সেই মেয়েটার অবুঝ চাহনির মায়ায় হয়তো প্রাণটা যাবে না, হয়তো বুড়ো স্বামীর সেবার জন্য এবারের জন্য বেচে যাবে বেচারী, হয়তোবা কম বয়সের খাতিরেও বেচে যেতে পারে কেননা এত কম বয়সে কেউ কি এভাবে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যেতে পারে!!
তাও আবার, মোটর বাইকের ধাক্কায়!!!

কিন্তু না, প্রকৃতি বড়ই নিষ্ঠুর৷ কোন মায়াই তার নিয়মকে ভাঙতে পারে না৷
সে তাকে নিয়েই চলে গেলো ক্রমাগত ক্রন্দনরত সন্তানদের চোখের অশ্রুর সাগরকে উপেক্ষা করে।

বর্তমানে অপেক্ষা করছে, পোস্ট মর্টেম নামক অঙ্গচ্ছেদকারী অপারেশনের অপেক্ষায়। কেননা, তার বাপের বাড়ির কেউ তো তার জন্য এলো না, আর স্বামীর বাড়ির সবাই মামলার ভয়ে আগেই পোস্ট মর্টেম করিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিচ্ছে।

শীতের এ কনকনে রাতে, রক্ত ভেজা কাপড়েই সে নছিমন এর উপর শুয়ে আছে থানায়, তার পোস্ট মর্টেম এর অপেক্ষায়………..