Aope Ghosh

September 16, 2021 0 By JAR BOOK

কবি ও লেখক পরিচিতি

Aope Ghosh

student 

Narali zila,kalia Upazila Medical 

অগ্নিকন্য কৃষ্ণা



  আমি যজ্ঞ থেকে উৎপন্ন যাজ্ঞসেনী;

কেউ বা ডাকে পাঞ্চালী;

পাঞ্চাল দেশের রাজকুমারী যে আমি।। 

কিন্তু জগৎ ডাকে, দ্রোপদী;

দ্রুপদ রাজার কন্য যে আমি।।

মাতা কৈকেয়ী ‘র আদেশ পালনে, 

 দেবী সীতা যেমন ;

সর্ব সুখ ছেড়ে শ্রীরামের সাথে গিয়েছিলেন বনবাসে ;

মাতা কুন্তীর আদেশ পালনে, 

 আমিও তো দিয়েছিলাম,

     সর্ব সুখ বিসর্জন ;

 পঞ্চস্বামী করেছিলাম গ্রহণ!

সর্ব নারীর শ্রেষ্ঠা—-

       শ্যামবর্না কৃষ্ণা আমি।

নই’কো তো আমি—-

       অতিখর্বা,অতিকৃষ্ণা,কৃশা বা রক্তবর্না।।

তবুও -আর্যপুএ যুধিষ্ঠির, রাখিলেন দূতে পণ;

কেন! পেলাম না আজও উত্তর তার।।

যুধিষ্ঠির যখন বললেন —

         যিনি     কৃষ্ণকুঞ্চিতকেশী,পদ্মপলাশাক্ষী,পদ্মগন্ধা,

     রূপে লক্ষীসমা,সর্বগুণান্বিতা ;

              সেই দ্রোপদী কে পণ রাখছি।।

সভা তখন নিস্তব্ধ হলো;

   বিদুর,ভীষ্ম, গুরু দ্রোণ হতবাক–

শকুনি পাশা ফেললেন ;

অন্ধরাজা মনোভাব গোপন করতে না পারে, 

    হৃষ্ঠ হয়ে বার বার জিজ্ঞাসা করলেন –

কে;কে;কে জিতলো___


কর্ন,দুঃশাসন আনন্দে মও হ’ল;

বৃদ্ধগনের চক্ষু থেকে -অশ্রুপাত হ’ল;

   কুটিল শকুনি চেচিয়ে বললো—

জিতেছি-

দুর্যোধন যখন তার অনুচর কে বললেন, 

প্রাতিকামি,তুমি দ্রোপদীকে নিয়ে এস!

তখন আমি প্রশ্ন পাঠালাম ;

যাও, তুমি—

        দ্যূতকার যুধিষ্ঠির কে জিজ্ঞাস ক’রে এস__

  তিনি আগে কাকে হেরেছিলেন, নিজেকে না আমাকে?

“”আমি উত্তর পেলাম না””

উত্তর না পাঠিয়ে, তিনি খবর দিয়ে পাঠালেন এক দূত__

  ‘পাঞ্চালী,তুমি এখন রজস্বলা একবস্ত্রা;

এই অবস্থায় কাদঁতে কাদঁতে সভায় এসে শ্বশুরের সম্মুখে দাঁড়াও!’

দুঃশাসন আকর্ষণ করলেন কেশ!

সেই কেশ—

     যা সিক্ত হয়েছিল রাজসূয় যজ্ঞের মন্ত্রপৃত জলে।।

যখন আমাকে বিক্ষিপ্তকেশে সভায় আনা হলো।।

    তখনও আমার বীরযোদ্ধা, আর্যগন নিশ্চুপ__

“”আমি করুসদগনকে প্রশ্ন করলাম —

  কোন ; কোন অপরাধে, আমাকে এই অর্ধস্খলিত বসনে আনিত হ’ল এ সভায়? 

কুরুবৃদ্ধগন এই দারুন অধর্মচার কি দেখতে পাচ্ছেন না¿?

এই সভায় কৌরবগন কুলধর্মের মর্যাদালঙ্ঘন নীরবে দেখছেন!””

 “”আমি উত্তর পেলাম না””

দুঃশাসন ধাক্কা দিয়ে সশব্দে হেসে বললো,দাসী!

    “”দাসী! 

কী প্রকারের আমি দাসী হলাম—–“”

তখনো বোধহয় অধর্মের মধ্যে সব ধর্ম শেষ হয়ে যায় না’ই;

তা-ই -তো বিকর্ন বলে উঠলো __

   যুধিষ্ঠির নিজে হারা’র পর দ্রোপদী কে প’ণ রেখেছিলেন, 

অতএব দ্রোপদী বিজিত হন’নি।

কিন্তু, উল্লাসে মও কর্ন বলে উঠলেন—-

“”স্ত্রী’দের এক পতিই বেদবিহিত, 

  দ্রোপদীর অনেক পতি,অতএব এ বেশ্যা!!””


এরপর_____

                   এরপর যা যা ঘটে— 

তার চর্চা যুগ থেকে যুগান্তর পযর্ন্ত চলছে _

   আমার দুঃখের সাগরে ;

মাতা সীতাও নিমজ্জিত হবেন!

হয়’তো বা নিভৃতির অন্তরালে ক্রদনরত—

বোধহয় বোঝেননি,তারও পরে কাউকে ;

   প্রতিটি পদে দিতে হবে অগ্নিপরীক্ষা ;

রক্ষা করতে হবে পবিত্রা।।

কোথায় এর উৎপত্তি ;কে নিবে এর ভার!

সেই মহাদেব —

      যিনি দিয়েছিলেন পঞ্চ স্বামী’র বর;

নাকি সেই মাতা–

      যার আদেশ পালনে ;হয়েছিলাম পঞ্চপতি’র সর!

নাকি সেই ভাগ্য —

      যে ভাগ্য এ জন্মের সাথে সাথে ‘ই আকাশবানীর মাধ্যমে লেখা হয়েছিল ;

     আর্যবর্তের সম্ভরাগী 

  ও যুগও পরিবর্তনের কারন হবে___ এ কৃষ্ণা!!”