Anas Ahmed Fazlay Rabbi

September 16, 2021 0 By JAR BOOK

কবি ও লেখক পরিচিতি

Anas Ahmed Fazlay Rabbi

মেরিন একাডেমি 

সীমেন হোস্টেল,সল্টগোলা ক্রসিং,হালিশহর,চট্টগ্রাম ক্যাডেট ( ইন্জিন ডিপার্টমেন্ট), 

বহুকাল কবিকাল ঝিনুকের খোলে পুষে রেখে 

 

বাসনার বিপুল কথনে কবি সাদালাল মুক্ত ফলালে- তুমি আসবে না নিতে?

ছড়িয়ে রেখেছি দেখো তরুণের কোমল গলার গান -কবিয়াল খোলস কিনারে। 

 

সাবালিকা খেয়ালির বশে যত আল্পনা আঁকে সাবালক রাতের আঁধারে 

তারচেয়ে ঢের বেশি সোনালী ময়ূর পাবে কবির ভিতরে

 সুখের হুতুম পাবে চিরকাল,শেষরাত এনেছে যে গীতিকাল- সুরতাল হৃদয়ে নিথরে। 

 

বিকেলের শেষ আলো পাখির ভিতরে গিয়ে ছায়া হয় -কবির ভিতরে গিয়ে মহাকাল লগ্ন নামালে সেই  আলো ঘোলা হবে- নিভে যাবে সান্ধ্য-বিহারে।

 সমস্ত সঞ্চিত জমকালো স্মৃতিরেখা লীন হয়ে গেলে-এক সজল তিথীতে, 

কি করে আবার পাবে জুঁই ফুল, সমুদ্র – এ শেষ পৃথিবীতে?

 

বহুকাল কবিকাল ঝিনুকের খোলে পুষে রেখে 

বাসনার বিপুল কথনে কবি সাদালাল মুক্ত ফলালে- তুমি আসবে না নিতে?

 

আনাস আহমেদ

“”যে ওডিসিটি( odissi)  হৃদয়ের””

 

 

 

“” মানুষের আবেগ দেখি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, 

সম্ভবত–  গ্লাস বদ্ধ ঘরে শীতল হচ্ছে।

হৃদয় ব্যবস্থায়ও দেখি আশ্চর্য শীতলতা!

 বারান্দায় ভেঙে পড়া চাঁদের ষোল টুকরোর

এক টুকরোও তাঁরে উষ্ণতা দিতে পারেনি।

 রিয়েলিস্টিক এয়ার কন্ডিশনে দোল খাওয়া তাপমাত্রায়ও

আবেগের অরুচি —

ওঠে কেবল শূন্য ডিগ্রী থেকে দশে! 

 

মানুষের আবেগ তাহলে মাছ মাংসের মতো!

জঠোর ব্যতীত আর অগ্রসর হতে পারেনি প্রেমাত্মায় অথবা সন্ন্যাসে???

আমি কি তাহলে আর মানুষ  নেই!

এডাম-ইভ শাস্ত্রের বিধান থেকে সরে গেছি দূরে?

 

হৃদয় শাস্ত্রে খুঁজেছি আবেগের প্রকৃত জিজ্ঞাসা – 

বীতরাগ থেকে অনুরাগ,কিঞ্চিৎ প্রকাশিত স্ব-রাগে খুঁজেছি

আনন্দ আর বিরহের পর থেকে উর্বর শোক-

স্বেচ্ছায় সংগত রেখে।

অথচ সবাইকে দেখি উদাসীন,মৃত মাছের মতো মৌসুমি চোখে স্থবির অপলক!!

আমি কি চেয়েছিলাম অথবা অন্য কেউ – 

চৌধারে আবেগ লুন্ঠিত মানব শিতল হোক,মানবী শিতল হোক?

 

আমার আবেগে যে সূর্য গেঁড়েছে- শিকড়

মোহক্ষরা রাতে টের পাই তাতে-আরো টের পাই চন্দ্রসাক্ষাতে–চিরনমস্য সরল চিত্রল লাস্যতা 

নশ্বর জীবনে আমার মতো আর কেউ টের পায় অষ্টপ্রহর? 

অবিনশ্বর অবিকল এইসব প্রহরের উষ্ণতা? “”

 

( মানবের হৃদয়ে শীতার্ত প্রান্তর দেখি)

 

আনাস আহমেদ 

চট্টগ্রাম 

 

 

অণুকাব্য

ক.( প্রেমে প্রাজ্ঞজন)

 

“”যজ্ঞের প্রারম্ভে দেখি ভিতরে বিনাশ,

সহি ক্ষেপণীয় প্রেম সহি ক্ষেপণীয় দাহ-

তবু দূর্লভ রাহুগ্রাস অশ্রুশিবিরে – 

 আজ  বিস্মৃত ঋতুকাল স্মরণ করি,

একদিন মনুষ্য নগরে আমি বিকেল ছিলাম।

কালদেব কালজ্ঞ যতটুকু আমি ততোধিক প্রেমযোগে প্রাজ্ঞ ছিলাম।””

 

খ.””পুতুলের জন্ম ক্ষুধায়,সজ্জায় 

জন্ম তার দারুণ বিভ্রান্তি – মানুষও দেখি আজ পুতুলগ্রন্থী

আহারে মানুষ!  

কি কদর্য শ্রান্তি তাঁর অস্থিমজ্জায়!

কি করে গ্রহের ঘুম তাঁর বালিশ শয্যায়?

 

(মূর্ধন্য ষ – থাকলেই মানুষ হয় না)

 

“” তখন তাঁর পদ্মকলিমুখ থেকে সরে যাবে-শামুকীয় ক্লান্তির দাগ-আমি তাঁকে বোঝাতে চেয়েছি-পুষ্পচায়িকা

পথেও এক বঞ্চনা আছে-এক ক্ষোভ আছে-আছে অমৃতস্বাধ মৈথুনি অনুরাগ- 

প্রণয়াবর্তী বিষ্ময় থেকে সহসা সে মুখ -মুকুলিত হলে

এই পথে-হেঁটে যাব একদিন মেঘ মৌসুমে –

জলের মহার্ঘ শেষে উষ্ণ সারথী হবো একসাথে – সদ্যজাত অনুকূল ঘুমে।””

 

(প্রীত হও,অনুরাগী)

 

 

“” যতোই দুর্ভিক্ষ লিখি,যতোই খররৌদ্র বিষক্রিয়া কবিতায় লিখি,বিরহের নাতিশীতোষ্ণ হৃদপিণ্ডে- পলাতক রক্তক্ষরণ পুনরায় ডালপালা মেলে দিয়ে বৃক্ষ হয়ে যায়। 

ফার্স্ট ক্লাস বনসাই পোড়াচোখে দেখি-বৃক্ষের থার্ড ক্লাস আগাছাও অনতিক্রম্য বিরহের ভয়ে বোকা হয়ে আছে।

কলমের নিব বেয়ে শিকড়ের সতেজ সে বিরহ কাগজে গড়ালে -জল হয় চোখ,ছলছল করে ইহলোক,

ছাই হয় সব।

বসে বসে অদূর নিদ্রায় এভাবেই রজনীর ছাই হওয়া দেখি।

 নস্টালজিক ইজেল ক্যানভাসে  প্রায়সমাপ্ত মানবীর

অন্তরঙ্গ বাসনার চারু মুখ দেখি।

 যতোই বিরহ হৃদস্তম্ভে লিখি,যতোই স্নায়ুক্ষয়ী সংকট সুলভ্য কবিতায় লিখি-

 দুইশ মাইল যন্ত্রণার ততোই গভীরে চলে যাই।

 

তুমি দেখতে- স্বরচিত ব্যাধির এ পথ হেঁটে হেঁটে আমি তিনশ মাইলে গিয়ে থামতাম।

 একখানি পীড়িত গোলাপও যদি তারপর ভালবেসে দিতে,

বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কোথাও না হোক, তোমার ভিতর চারশ মাইল জুড়ে আমি  আছি জানতাম।””

 

——-আনাস আহমেদ

( দু’লাইন বিরহের মহানামা)