Adhora alo

September 16, 2021 3 By JAR BOOK

কবি ও লেখক পরিচিতি

Adhora alo

House maker

Block A. Road 5, House 2/2Mirpur 1.Dhaka 1216  

নেপথ্যের নায়ক 

—–অধরা আলো 

নারী তুমি নষ্টা, তুমি বেশ্যা, তুমি রাতের রানী 

তুমি সমাজপতিদের চোখে নোংরা আর্বজনা, 

তোমায় তৈরীতে নেপথ্যের নায়ক যারা, 

তারাই সমাজ সেবক সমাজের উচ্চপদস্থ লোক 

মুখোশ পরা ভয়ানক দানব রূপি অমানুষ। 


যত লাঞ্চনা, যত বঞ্চনা তোমারই প্রাপ্য! 

কারণ তুমি মা হয়ে পরম মমতায় তোমারই গর্ভে 

ধারণ করেছো নষ্ট পাপিষ্ঠ ভ্রুন। 

বোন হয়ে আগলে রেখেছো মায়া বেঁধেছ সারাক্ষণ। 

প্রেয়সী হয়ে তৃষ্ণা জুড়িয়েছো প্রাণ ভালোবেসে। 


দিনশেষে তুমিই অপরাধী পারোনি করতে মানুষ 

জন্ম দিয়ে পৃথিবীর আলোতে দিয়েছো জীবন যাকে। 

ভুলে যায় সমাজ ভুলে যায় জাতি,

 সে জন্মের পিছনেও ছিলো কোন পুরুষ,

 নেপথ্যেরও নায়ক সে অপরাধ তারও সম। 


অথচ, অসাক্ষাতে রয়ে যায় তারা ক্ষমতার বলে 

টাকার কাছে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে তোমার নারী সত্ত্বাকে। 

তোমার লোভাতুর দৃষ্টি, বিলাসিতার মোহ  তোমায় আবদ্ধ করে ফেলে সেই সব মানুষ রূপি দানবের গড়া জালে।। 

অবশেষে তোমার হয় চরম পরিণতি, হয় বদ্ধ কারাগারে, না হয় আত্মহননে মাটির কবরে।। 







তোমাকেই চাই

             ………

তোমাকেই চাই 
  ১ম  

আজকের সকালটা বেশ সুন্দর নিবিড় ছায়ায় ঘিরে আছে, রহিম সাহেব প্রতি ভোরে নামাজ পড়ে অনেকটা পথ হাঁটেন পাড়ার সব বন্ধুরা মিলে,
রহিম সাহেবের ছোট্ট পরিবার দুই ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে, বেশ ভালোই দিন কাটছিলো, রহিম সাহেব ছোট একটা ব্যাবসানেপথ্যের নায়ক
—–অধরা আলো
নারী তুমি নষ্টা, তুমি বেশ্যা, তুমি রাতের রানী
তুমি সমাজপতিদের চোখে নোংরা আর্বজনা,
তোমায় তৈরীতে নেপথ্যের নায়ক যারা,
তারাই সমাজ সেবক সমাজের উচ্চপদস্থ লোক
মুখোশ পরা ভয়ানক দানব রূপি অমানুষ।

যত লাঞ্চনা, যত বঞ্চনা তোমারই প্রাপ্য!
কারণ তুমি মা হয়ে পরম মমতায় তোমারই গর্ভে
ধারণ করেছো নষ্ট পাপিষ্ঠ ভ্রুন।
বোন হয়ে আগলে রেখেছো মায়া বেঁধেছ সারাক্ষণ।
প্রেয়সী হয়ে তৃষ্ণা জুড়িয়েছো প্রাণ ভালোবেসে।

দিনশেষে তুমিই অপরাধী পারোনি করতে মানুষ
জন্ম দিয়ে পৃথিবীর আলোতে দিয়েছো জীবন যাকে।
ভুলে যায় সমাজ ভুলে যায় জাতি,
সে জন্মের পিছনেও ছিলো কোন পুরুষ,
নেপথ্যেরও নায়ক সে অপরাধ তারও সম।

অথচ, অসাক্ষাতে রয়ে যায় তারা ক্ষমতার বলে
টাকার কাছে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে তোমার নারী সত্ত্বাকে।
তোমার লোভাতুর দৃষ্টি, বিলাসিতার মোহ  তোমায় আবদ্ধ করে ফেলে সেই সব মানুষ রূপি দানবের গড়া জালে।।
অবশেষে তোমার হয় চরম পরিণতি, হয় বদ্ধ কারাগারে, না হয় আত্মহননে মাটির কবরে।।

করেন। ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা করে মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন সব সময়।
রহিম সাহেবের বড় ছেলে স্বার্থের পৃথিবী
অধরা আলো

তিমির অাঁধারে ডুকরে  কেঁদেছি ভীষণ,
বুকের ভিতর পুষেছি প্রতিনিয়ত ব্যাথার দহন,
কেউ  আসেনি কাছে সে আধাঁর  সরিয়ে
মুছে দিতে  আঁখি ছলছল  জল ।

স্বার্থের পৃথিবীতে কেউ নয়ত আপন,
কেউতো বুকে বুক চেপে ধরে বলেনি আছিত পাশে,
হাতে রেখে হাত পথ চলবো এক সাথে,
মুছে দিবো যত আছে তিমির আধাঁর আলোর ঝটায়।

যারা এসেছে কাছে হয়েছে আপন সেতো ছিলো
স্বার্থের প্রয়োজন।
কত চাটুকারি, কত তোষামোদ, কত মিষ্টি কথার ছল
স্বার্থের জন্য করেছে বিলীন।
কেউ এসেছে কাছে ভালোবাসার ছলে ভুলতে অতীত
কথার ছলনাতে মিথ্যে মায়াজালে করতে ঘায়েল।

প্রয়োজন শেষে ফেলেছে ছুঁড়ে মিথ্যা কলঙ্কে
দিয়েছে কালিমা লেপে।
তিমির অাঁধারে ডুকরে কেদেঁছি ভীষণ!
গন্ধময় স্মৃতি ধরে  কেটে গেছে  কত গোধুলি বিকেল,
কত যে সন্ধ্যা নেমেছে প্রত্যাখ্যাত মুচড়ে পড়া ঝরা পাতার মতন।
সেসব কথা কেবলই গোপন, কেউ দূর থেকেও ছুঁয়ে দেখেনি স্মৃতির অনল।
কেউ আসেনি প্রদীপ  হাতে, ফোটাতে আলো,
বয়ে গেছে সময়ের স্রোত শুধুই তীব্র শোকে।।
.
বড্ড দুঃসময় কেটেছে আমার উন্মাদ পাগলময় !
কেবল খুজেঁছি একা  পথ হারিয়ে সঠিক পথের দিশা, পৌষের ঘন কুয়াশার মতো জীবন  অাঁধারে গেছে ঢেকে,
অবশেষে বুঝে গেছি; জীবন মানে কেবলই দুঃখভোগ,
বুঝে গেছি সুখের স্বপ্ন দেখা দুঃখের চেয়ে আরও বেশি দুঃখময়।।
তিমির অাঁধারে ডুকরে কেঁদেছি ভীষণ! 
স্বার্থের পৃথিবীতে নিঃস্বার্থে কেউ হয়না তো আপন।
. হাসান, ছোট ছেলে তারেক হাসান এবং মেয়ে নীলা, সবাই খুব মেধাবী।
বড় ছেলে তানভীর হাসান বরিশাল মেডিকেল কলেজের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র। সব সময় পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে, বন্ধু বান্ধবের সাথে আড্ডা হৈ হুল্লোড় কোন কিছুই তার পছন্দ না, সব সময় স্বপ্ন দেখেন একজন বড় ডাক্তার হবে, বাবা মা ভাই বোনের দায়িত্ব নিবে।
বাবাকে মুক্তি দিবে সংসারে দায়িত্ব থেকে। তানভীর  মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান তাই তাকে সব কিছু ভেবেই পথ চলতে হয়, নিরবে জলাঞ্জলি দিতে হয় সব ভালোলাগার ।
একদিন তানভীর কলেজের লাইব্রেরীতে বসে পড়ছিলো, সেখানে খুব মিষ্টি একটা মেয়েও তার পাশের টেবিলে বসে পড়ছিলো। হঠাৎ তানভীরের চোখ তার উপর পরলো কিছুতেই সে চোখ ফেরাতে পারছিলো না, আড়চোখে তানভীর তাকে দেখছিলো, খুব মিষ্টি একটা মেয়ে চোখগুলো টানা টানা, ঠোঁটের কোনে মিষ্টি হাসি, চুলগুলো বাতাসে উড়ছিলো, তানভীর কিছুতেই চোখ ফেরাতে পারছিলো না, মনের অজান্তেই সে মেয়েটাকে দেখছিলো।
সেই থেকে ওর মনের ভিতর ধুক ধুক শুরু হলো, এইতো প্রথম প্রেমের অনুভূতি ওকে স্পর্শ করল।
কিন্তু জীবন আর বাস্তবতা ওকে সব কিছু আড়াল করতে শেখায়। ওরতো এসব ভাবলে হবে না ওর যে অনেক দায়িত্ব।

 ❤❤❤ তোমাকেই চাই  ❤❤❤
 ❤❤❤❤ ২য় পর্ব   ❤❤❤

কিছুদিন পর তানভীর আনমনে কলেজ গেট দিয়ে ঢুকছিলো,
হঠাৎ তমার সাথে তার ধাক্কা লাগে,
তানভীর সরি বলতে চেয়ে দেখে সেদিনের সেই মেয়েটি!
তমাও অবাক হয়ে তাকিয়ে রয় তানভীরের দিকে …
তানভীর কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলে বার বার সরি… বলতে থাকে।
তমা বলে ঠিক আছে..,
তমা বড়লোক বাবার একমাত্র মেয়ে, খুব শান্ত ও মেধাবী, সে মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী, বাবা মায়ের খুব আদরের, সব সময় বাবা তাকে আগলে রেখে বড় করে তুলেছে, সবকিছু চাওয়ার আগেই পেয়ে গেছে,
তানভীরকে প্রথম দেখাতেই তার ভালো লাগে, ওরা একসাথে চার বান্ধবী ছিলো, যেখানে যেতো সবাই একসাথে যেতো,
তমা মনে মনে তানভীরকে খুঁজতে থাকে, সে কোন বর্ষের ছাত্র? নাম কি? আরো বিভিন্ন প্রশ্ন ওর মনে দানা বাধঁতে থাকে। ওরা ক্যান্টিনে যায় খাবার খেতে, সেখানেও গিয়ে দেখে তানভীর আর ওর একটা বন্ধু সেখানে কফি খাচ্ছে, ঠিক তারপাশের টেবিলেই ওরা চার বান্ধবী বসে।
তানভীর ও ওকে দেখে থমকে যায়।
দুজনেই আরচোখে দুজনকে চুপি চুপি দেখে, তমা বুঝতে পারে তানভীরও ওকে দেখছে, তমা ওর পাশের বান্ধবীকে জিজ্ঞাসা করে তানভীরকে চিনে কি না? ও কোন বর্ষের ছাত্র ইত্যাদি ইত্যাদি…
ওর বান্ধবী আয়রা বলে ও হচ্ছে তানভীর, খুব মেধাবী মেডিকেলের শেষ বর্ষের ছাত্র। তানভীর ভাই খুব ভালো একজন মানুষ সব সময় পড়াশোনা নিয়ে ব্যাস্ত থাকে। তমা বলে ওকে আমার ভালো লেগেছে সেই প্রথম দিন থেকেই ওকে আমি খুজঁছি মনে মনে।
আয়রা বলে কোন লাভ নেই, তানভীর ভাই অন্যরকম কখনও কোন মেয়ের দিকে তাকায় না, তমা বলে ওকে তো আমার চাই..।

      ❤❤  তোমাকেই চাই ❤❤
                💞💞  তয়  পর্ব 💞💞

তানভীরের খুব ইচ্ছে করে তমার সাথে কথা বলতে ওর নাম জানতে তবু সে মনের অনুভূতি গুলো কাউকে বুঝতে না দিয়ে ওখান থেকে চলে যায়, তমা অপলক দৃষ্টিতে ওর চলে যাওয়া দেখতে থাকে, তানভীর বুঝতে পারে তমা ওকে দেখছে, ওরা ওকে নিয়ে কিছু বলাবলি করছে,
তমার মনে ঝড় বইতে থাকে কি ভাবে ওর সাথে কথা বলা যায় কি করা যায়।
তানভীর ও নিরবে ভাবতে থাকে অস্হির হয়ে উঠে কোন মেয়ের জন্য ওর কখনও এমন হয়নি তো তবে আজ কেনো তার কোন কিছু ভালো লাগছে না, পড়ায় মন বসছে না, বার বার বইয়ের পাতা উল্টাচ্ছে, আর তমার মুখ টা ওর চোখের সামনে ভেসে উঠে, তানভীরের বন্ধু রাফিন ওকে জিজ্ঞাসা করে তোর কি হইছে পড়ছিস না,, এমন করছিস কেন? তানভীর একটু গম্ভীর প্রকৃতির ও বললো না কিছু হয়নি, পড়ায় মন বসছে না।
তমারো একি অবস্থা বার বার তানভীরের মুখটা মনে পড়ছে, আয়রা কেও পড়তে দিচ্ছে না বিরক্ত করছে বলে
বলে কি করবো বলনা কিছু একটা কর আমার জন্য।
এভাবেই কেটে গেছে তিন টা দিন, তানভীর তমাকে দেখলে এড়িয়ে চলছে, আর তমা ওকে মনে মনে খুঁজে কোথাও দেখে না।
তমা সিঁড়ি বেয়ে নামছে আর তানভীর উঠছে দুজনেই মুখোমুখি, তানভীর তমাকে দেখেও না দেখার ভান করে চলে যেতে থাকে তমা থমকে যায় ওর দিকে তাকিয়ে আন মনে নামতে গিয়ে সিড়ি থেকে পরে যায়, চিৎকার করে উঠে, তানভীর পিছনে ঘুরে তাকায় দেখে তমা পরে গেছে ও নিজেকে সামলাতে পারে না দৌঁড়ে এসে তমাকে ধরে।
রেগে বলে দেখে হাটঁতে পারেন না মন কোথায় থাকে
তমা চুপ করে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে তানভীর হাত বাড়িয়ে দেয় বলে হাতটা ধরেন উঠেন।
তমা ওর হাত ধরে উঠে দাঁড়ায়, মিস্টি সুরে চুপ করে বলে আপনাকে দেখতে গিয়েই তো পরে গেলাম। তমাল অবাক হয়ে যায়, বলে কি বললেন? আমাকে দেখতে গিয়ে মানে,
তানভীরের  মন মনে মনে প্রফুল্লে ভরে উঠে।
ও তমাকে জিজ্ঞাসা করে কোথাও লেগেছে কিনা, তমা বলে হে লেগেছেতো, তানভীর জিজ্ঞাসা করে কোথায় দেখি দেখি, তমা মুচকি হেসে বলে মনে।
তানভীর অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তমার চোখের দিগে,  চুপ করে হেঁটে চলে  যায় তানভীর তমা পিছন থেকে ডাকতে থাকে, ও পিছন ফিরে তাকায় না। কিন্তু মনে মনে ভীষণ কস্ট পায়, আর ভাবে আমাকে এসব মানায় না ক্ষমা করে দিও আমাকে।
তমাও তানভীরের জন্য কস্ট পেতে থাকে, মনে মনে বলে তুমি আমাকে যতই এড়িয়ে চলো তোমাকে তো আমি চাই…………।

                ❤❤ তোমাকেই চাই ❤❤
                    💞💞  ৪র্থ  পর্ব 💞💞

তানভীর নিজের রুমে চলে যায়, তমার কথাগুলো ওর মনে বার বার দোলা দিয়ে যায়, নিজেকে খুব অসহায় মনে হয় কি করবে ভাবতে থাকে,
তমা আয়রাকে বলে যে ভাবেই হোক তানভীরের নাম্বার যোগাড় করে দিতে,,পরের দিন ওরা মাঠে বসে গল্প করতে থাকে, এমন সময় রাফিন আর ওর বন্ধু কে দেখতে পায় আয়রা দৌড়ে গিয়ে বলে রাফিন ভাই আপনার সাথে একটু কথা আছে, একটু এদিকে আসবেন, রাফিন দাঁড়িয়ে পরে, আয়রা বলে ভাইয়া কিছু মনে করবেননা, তানভীর ভাইয়ার নাম্বার টা দেওয়া যাবে, একটু দরকার ছিলো। তখন রাফিন নাম্বার দেয়।
তমা খুশিতে উৎফুল্ল হয়ে উঠে, নাম্বার টা সাথে সাথে ওর মোবাইলে তুলে নেয়।
তমা  আয়রা লাইব্রেরিতে চলে যায় পড়তে, গিয়ে দেখে সেখানে তানভীর ও পড়ছে,  তমা ও আয়রা কিছু না  বলে তানভীরের মুখো মুখোমুখি একটা টেবিলে বসে, তানভীর দেখেও না দেখার ভান করে পড়তে থাকে।
আড় চোখে তমা ও আয়রাকে ফ্লো করে, তমা তানভীর কে লিখে শুভ দুপুর, কেমন আছেন? 
তানভীর মোবাইল চেক করে না, পড়তে থাকে, তমা মনে মনে বিরক্ত হয়।
তানভীর চলে যাওয়ার সময় আয়রা বলে ভাইয়া মোবাইল টা চেক করবেন।  তানভীর কিছু বলে না চলে যায়, যেতে যেতে ম্যাসেজ গুলো দেখে আর চুপটি করে হাসে, কোন উওর দেয় না।
তমা পরের দিন ও শুভ সকাল, শুভ বিকেল, শুভ রাএি ম্যাসেজ টেক্স করতেই থাকে। তানভীর উওর না দিলেও মনে মনে অপেক্ষা করে ওর ম্যাসেজ গুলোর জন্য। এমন করে কেটে যায় কিছুদিন।।
তমা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে, ম্যাসেজও সেন্ড করে না, তানভীর  বার বার মোবাইল চেক করে তমার কোন ম্যাসেজ পায় না, ও তমার ম্যাসেজ গুলো না পেয়ে অস্থির হয়ে উঠে,
তমা কে ম্যাসেজ সেন্ড করে শুভ সকাল টা মিস করছি।
কোন উওর পায় না। তানভীর রাফিনকে সব খুলে বলে,
রাফিন বলে ওকে ঠিক আছে আমি দেখছি, রাফিন আয়রাকে ফোন দিয়ে জানতে চায় তমার কি হইছে ক্যাম্পাসেও দেখছে না। আয়রা রাফিনকে বলে ভাইয়া ও অসুস্থ, রাফিন জিজ্ঞসা করে ও কোথায় আছে, তমার বাবা মা ওকে বাড়িতে নিয়ে গেছে,  রাফিন বলে ও ঠিক আছে তুমি কি ওর বাড়ি চিনো আয়রা বলে হ্যা চিনি,
রাফিন বলে চলো আমরা সবাই মিলে ওর বাড়িতে ওকে দেখতে যাব, ও অবাক হবে আমাদের দেখে, আয়রা রাজি হয়ে যায়। তমা কে কিছু বলে না।
পরের দিন সবাই মিলে তমাদের বাড়িতে যায়,তানভীর এক গুচ্ছ সাদা গোলাপ নেয় ওর জন্য।
তমা সবাই কে দেখে অবাক হয়ে যায় ও ভাবতেই পারেনি এমনটা হতে পারে। তানভীর ওর হাতে ফুলগুলো দিয়ে
বলে খুব মিস করছি শুভ সকাল ম্যাসেজটা।
তমা মুচকি হাসে………….

❤❤তোমাকেই চাই❤❤
                    💞💞    ১ম 💞
             ………

তোমাকেই চাই 
  ১ম  

আজকের সকালটা বেশ সুন্দর নিবিড় ছায়ায় ঘিরে আছে, রহিম সাহেব প্রতি ভোরে নামাজ পড়ে অনেকটা পথ হাঁটেন পাড়ার সব বন্ধুরা মিলে,
রহিম সাহেবের ছোট্ট পরিবার দুই ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে, বেশ ভালোই দিন কাটছিলো, রহিম সাহেব ছোট একটা ব্যাবসা করেন। ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা করে মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন সব সময়।
রহিম সাহেবের বড় ছেলে তানভির হাসান, ছোট ছেলে তারেক হাসান এবং মেয়ে নীলা, সবাই খুব মেধাবী।
বড় ছেলে তানভীর হাসান বরিশাল মেডিকেল কলেজের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র। সব সময় পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে, বন্ধু বান্ধবের সাথে আড্ডা হৈ হুল্লোড় কোন কিছুই তার পছন্দ না, সব সময় স্বপ্ন দেখেন একজন বড় ডাক্তার হবে, বাবা মা ভাই বোনের দায়িত্ব নিবে।
বাবাকে মুক্তি দিবে সংসারে দায়িত্ব থেকে। তানভীর  মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান তাই তাকে সব কিছু ভেবেই পথ চলতে হয়, নিরবে জলাঞ্জলি দিতে হয় সব ভালোলাগার ।
একদিন তানভীর কলেজের লাইব্রেরীতে বসে পড়ছিলো, সেখানে খুব মিষ্টি একটা মেয়েও তার পাশের টেবিলে বসে পড়ছিলো। হঠাৎ তানভীরের চোখ তার উপর পরলো কিছুতেই সে চোখ ফেরাতে পারছিলো না, আড়চোখে তানভীর তাকে দেখছিলো, খুব মিষ্টি একটা মেয়ে চোখগুলো টানা টানা, ঠোঁটের কোনে মিষ্টি হাসি, চুলগুলো বাতাসে উড়ছিলো, তানভীর কিছুতেই চোখ ফেরাতে পারছিলো না, মনের অজান্তেই সে মেয়েটাকে দেখছিলো।
সেই থেকে ওর মনের ভিতর ধুক ধুক শুরু হলো, এইতো প্রথম প্রেমের অনুভূতি ওকে স্পর্শ করল।
কিন্তু জীবন আর বাস্তবতা ওকে সব কিছু আড়াল করতে শেখায়। ওরতো এসব ভাবলে হবে না ওর যে অনেক দায়িত্ব।

❤❤❤ তোমাকেই চাই  ❤❤❤
❤❤❤❤ ২য় পর্ব   ❤❤❤

কিছুদিন পর তানভীর আনমনে কলেজ গেট দিয়ে ঢুকছিলো,
হঠাৎ তমার সাথে তার ধাক্কা লাগে,
তানভীর সরি বলতে চেয়ে দেখে সেদিনের সেই মেয়েটি!
তমাও অবাক হয়ে তাকিয়ে রয় তানভীরের দিকে …
তানভীর কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলে বার বার সরি… বলতে থাকে।
তমা বলে ঠিক আছে..,
তমা বড়লোক বাবার একমাত্র মেয়ে, খুব শান্ত ও মেধাবী, সে মেডিকেল গদ্য কবিতা
৩/৪/২০২১ইং
সময় ১.৪৮ মিঃ

কখনো কি চেয়েছো জানতে
—–অধরা আলো

কখনো কি চেয়েছো জানতে?
কেমন আছি আমি?
কখনো কি মনের ভুলে নিজ থেকে জানতে
চেয়েছো খেয়েছি কিনা?
কখনো কি নিয়েছো খোঁজ?
মনে  কি ব্যাথা আছে লুকানো?
কখনো কি চেয়েছো জানতে কিসে  সুখ?
না চাওনি কভু জানতে! কিন্তু কেনো
ভালোবাসা কি তোমার কাছে?
কেবল , শুধু কি ?  পরম তৃপ্তি খোঁজা নিদিষ্ট কিছুর অন্তরালে! 
হ্যা  দেখেছি তাতেই তোমার তৃপ্তি
মাঝে মাঝে অভিমানে দু-চোখে গড়িয়েছে জল
নিশ্চুপে মুছেছি দু হাতে।
তোমার তৃপ্তিতে খুঁজেছি সুখ!
বলো না একে কি ভালোবাসা বলে?
তোমার কাছে ভালোবাসাতো কেবল ——-
কখনো কি চেয়েছো আনন খানি দেখতে?
কখনো কি  শূন্যতার অনুভবে কেঁপে  ওঠেছে 
তোমার বুক?
নিজেকে প্রশ্ন করে দেখ না, আদো কি ভালোবাস?
যদি জানতে  চাও ভালোবাসা কি?
বলবো ভালোবাসা হচ্ছে,
কারো শূন্যতা অনুভব করা,
কারো মুখটা দেখার অদম্য ইচ্ছা!
কারো সাথে কথা
বলার জন্য প্রতিনিয়ত উম্মাদ হয়ে থাকা!
কিন্তু বিশ্বাস করো, এগুলোর কোনকিছু দেখিনি তোমাতে।
যে বিশ্বাসে  ভালোবাসা সেতো কেবল মরীচিকা!
যে আস্তায়  দুটি হাত ধরা, তা কেবল ধুয়াসা ঘেরা।
আগে খুঁজো মনের গতি বাড়িয়ে হাত ভালোবাসায়,
সেথায় মিলবে পরম সুখ ভালোবাসার উষ্ণতায়।
তানভীরকে প্রথম দেখাতেই তার ভালো লাগে, ওরা একসাথে চার বান্ধবী ছিলো, যেখানে যেতো সবাই একসাথে যেতো,
তমা মনে মনে তানভীরকে খুঁজতে থাকে, সে কোন বর্ষের ছাত্র? নাম কি? আরো বিভিন্ন প্রশ্ন ওর মনে দানা বাধঁতে থাকে। ওরা ক্যান্টিনে যায় খাবার খেতে, সেখানেও গিয়ে দেখে তানভীর আর ওর একটা বন্ধু সেখানে কফি খাচ্ছে, ঠিক তারপাশের টেবিলেই ওরা চার বান্ধবী বসে।
তানভীর ও ওকে দেখে থমকে যায়।
দুজনেই আরচোখে দুজনকে চুপি চুপি দেখে, তমা বুঝতে পারে তানভীরও ওকে দেখছে, তমা ওর পাশের বান্ধবীকে জিজ্ঞাসা করে তানভীরকে চিনে কি না? ও কোন বর্ষের ছাত্র ইত্যাদি ইত্যাদি…
ওর বান্ধবী আয়রা বলে ও হচ্ছে তানভীর, খুব মেধাবী মেডিকেলের শেষ বর্ষের ছাত্র। তানভীর ভাই খুব ভালো একজন মানুষ সব সময় পড়াশোনা নিয়ে ব্যাস্ত থাকে। তমা বলে ওকে আমার ভালো লেগেছে সেই প্রথম দিন থেকেই ওকে আমি খুজঁছি মনে মনে।
আয়রা বলে কোন লাভ নেই, তানভীর ভাই অন্যরকম কখনও কোন মেয়ের দিকে তাকায় না, তমা বলে ওকে তো আমার চাই………….।

          ❤❤  তোমাকেই চাই ❤❤
                💞💞  তয়  পর্ব 💞💞

তানভীরের খুব ইচ্ছে করে তমার সাথে কথা বলতে ওর নাম জানতে তবু সে মনের অনুভূতি গুলো কাউকে বুঝতে না দিয়ে ওখান থেকে চলে যায়, তমা অপলক দৃষ্টিতে ওর চলে যাওয়া দেখতে থাকে, তানভীর বুঝতে পারে তমা ওকে দেখছে, ওরা ওকে নিয়ে কিছু বলাবলি করছে,
তমার মনে ঝড় বইতে থাকে কি ভাবে ওর সাথে কথা বলা যায় কি করা যায়।
তানভীর ও নিরবে ভাবতে থাকে অস্হির হয়ে উঠে, কোন মেয়ের জন্য ওর কখনও এমন হয়নি তো, তবে আজ কেনো তার কোন কিছু ভালো লাগছে না, পড়ায় মন বসছে না, বার বার বইয়ের পাতা উল্টাচ্ছে, আর তমার মুখ টা ওর চোখের সামনে ভেসে উঠে, তানভীরের বন্ধু রাফিন ওকে জিজ্ঞাসা করে, তোর কি হইছে পড়ছিস না কেন?  এমন করছিস কেন? তানভীর একটু গম্ভীর প্রকৃতির ও বললো, না কিছু হয়নি, পড়ায় মন বসছে না।
তমারো একি অবস্থা বার বার তানভীরের মুখটা মনে পড়ছে, আয়রা কেও পড়তে দিচ্ছে না, বিরক্ত করছে বলে
কি করবো বলনা কিছু একটা কর আমার জন্য।
এভাবেই কেটে গেছে তিন টা দিন, তানভীর তমাকে দেখলে এড়িয়ে চলছে, আর তমা ওকে মনে মনে খুঁজে কোথাও দেখে না।
তমা সিঁড়ি বেয়ে নামছে আর তানভীর উঠছে দুজনেই মুখোমুখি, তানভীর তমাকে দেখেও না দেখার ভান করে চলে যেতে থাকে, তমা থমকে যায় ওর দিকে তাকিয়ে আন মনে নামতে গিয়ে সিঁড়ি থেকে পরে যায়, চিৎকার করে উঠে, তানভীর পিছনে ঘুরে তাকায় দেখে তমা পরে গেছে ও নিজেকে সামলাতে পারে না দৌঁড়ে এসে তমাকে ধরে।
রেগে বলে দেখে হাটঁতে পারেন না মন কোথায় থাকে
তমা চুপ করে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে তানভীর হাত বাড়িয়ে দেয় বলে হাতটা ধরেন উঠেন।
তমা ওর হাত ধরে উঠে দাঁড়ায়, মিস্টি সুরে চুপ করে বলে আপনাকে দেখতে গিয়েই তো পরে গেলাম। তানভীর  অবাক হয়ে যায়, বলে কি বললেন? আমাকে দেখতে গিয়ে মানে,
তানভীরের  মন মনে মনে প্রফুল্লে ভরে উঠে।
ও তমাকে জিজ্ঞাসা করে কোথাও লেগেছে কিনা, তমা বলে হে লেগেছেতো, তানভীর জিজ্ঞাসা করে কোথায় দেখি দেখি, তমা মুচকি হেসে বলে মনে।
তানভীর অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তমার চোখের দিগে,  চুপ করে হেঁটে চলে  যায় তানভীর, তমা পিছন থেকে ডাকতে থাকে, ও পিছন ফিরে তাকায় না। কিন্তু মনে মনে ভীষণ কস্ট পায়, আর ভাবে আমাকে এসব মানায় না ক্ষমা করে দিও আমাকে।
তমাও তানভীরের জন্য কস্ট পেতে থাকে, মনে মনে বলে তুমি আমাকে যতই এড়িয়ে চলো তোমাকে তো আমি চাই।   

                ❤❤ তোমাকেই চাই ❤❤
                    💞💞  ৪র্থ  পর্ব 💞💞

তানভীর নিজের রুমে চলে যায়, তমার কথাগুলো ওর মনে বার বার দোলা দিয়ে যায়, নিজেকে খুব অসহায় মনে হয় কি করবে ভাবতে থাকে,
তমা আয়রাকে বলে যে ভাবেই হোক তানভীরের নাম্বার যোগাড় করে দিতে,,পরের দিন ওরা মাঠে বসে গল্প করতে থাকে, এমন সময় রাফিন আর ওর বন্ধু কে দেখতে পায় আয়রা দৌড়ে গিয়ে বলে রাফিন ভাই আপনার সাথে একটু কথা আছে, একটু এদিকে আসবেন, রাফিন দাঁড়িয়ে পরে, আয়রা বলে ভাইয়া কিছু মনে করবেননা, তানভীর ভাইয়ার নাম্বার টা দেওয়া যাবে, একটু দরকার ছিলো। তখন রাফিন নাম্বার দেয়।
তমা খুশিতে উৎফুল্ল হয়ে উঠে, নাম্বার টা সাথে সাথে ওর মোবাইলে তুলে নেয়।
তমা  আয়রা লাইব্রেরিতে চলে যায় পড়তে, গিয়ে দেখে সেখানে তানভীর ও পড়ছে,  তমা ও আয়রা কিছু না  বলে তানভীরের মুখো মুখোমুখি একটা টেবিলে বসে, তানভীর দেখেও না দেখার ভান করে পড়তে থাকে।
আড় চোখে তমা ও আয়রাকে ফ্লো করে, তমা তানভীর কে লিখে শুভ দুপুর, কেমন আছেন? 
তানভীর মোবাইল চেক করে না, পড়তে থাকে, তমা মনে মনে বিরক্ত হয়।
তানভীর চলে যাওয়ার সময় আয়রা বলে ভাইয়া মোবাইল টা চেক করবেন।  তানভীর কিছু বলে না চলে যায়, যেতে যেতে ম্যাসেজ গুলো দেখে আর চুপটি করে হাসে, কোন উওর দেয় না।
তমা পরের দিন ও শুভ সকাল, শুভ বিকেল, শুভ রাএি ম্যাসেজ টেক্স করতেই থাকে। তানভীর উওর না দিলেও মনে মনে অপেক্ষা করে ওর ম্যাসেজ গুলোর জন্য। এমন করে কেটে যায় কিছুদিন।।
তমা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে, ম্যাসেজও সেন্ড করে না, তানভীর  বার বার মোবাইল চেক করে তমার কোন ম্যাসেজ পায় না, ও তমার ম্যাসেজ গুলো না পেয়ে অস্থির হয়ে উঠে,
তমা কে ম্যাসেজ সেন্ড করে শুভ সকাল টা মিস করছি।
কোন উওর পায় না। তানভীর রাফিনকে সব খুলে বলে,
রাফিন বলে ওকে ঠিক আছে আমি দেখছি, রাফিন আয়রাকে ফোন দিয়ে জানতে চায় তমার কি হইছে ক্যাম্পাসেও দেখছে না। আয়রা রাফিনকে বলে ভাইয়া ও অসুস্থ, রাফিন জিজ্ঞসা করে ও কোথায় আছে, তমার বাবা মা ওকে বাড়িতে নিয়ে গেছে,  রাফিন বলে ও ঠিক আছে তুমি কি ওর বাড়ি চিনো আয়রা বলে হ্যা চিনি,
রাফিন বলে চলো আমরা সবাই মিলে ওর বাড়িতে ওকে দেখতে যাব, ও অবাক হবে আমাদের দেখে, আয়রা রাজি হয়ে যায়। তমা কে কিছু বলে না।
পরের দিন সবাই মিলে তমাদের বাড়িতে যায়,তানভীর এক গুচ্ছ সাদা গোলাপ নেয় ওর জন্য।
তমা সবাই কে দেখে অবাক হয়ে যায় ও ভাবতেই পারেনি এমনটা হতে পারে। তানভীর ওর হাতে ফুলগুলো দিয়ে
বলে খুব মিস করছি শুভ সকাল ম্যাসেজটা।
তমা মুচকি হাসে………….

               ❤❤❤  তোমাকেই  চাই ❤❤❤
                             💞💞৫ ম পর্ব 💞💞

তমা শুভ সকাল, ম্যাসেজ দেখে তানভীরের  আনন্দে মন
ভরে উঠে, সমস্ত দ্বীধা ভুলে তমাকে ফোন করে, তমা এখন কেমন আছো? তমা বলে ভালো  আপনি কেমন আছেন
ধীরে ধীরে ফোনে কথা শুরু  হয় ওদের, তমা সুস্থ হয়ে যায়,
পুনরায় আবারবপ্রান চঞ্চল হয়ে উঠে ওর জীবন
একে অপরের প্রতি গভীর ভালোবাসায়  রঙিন হয়ে উঠে ওদের পৃথিবী,দুজনের এক সাথে ঘুড়ে বেড়ায় আনন্দ আর উল্লাসে মেতে থাকে সারাটিদিনময়, এক সাথে হাত ধরে হাঁটে দুজন,  রিক্সায় ঘুরে বেড়ায়,। একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল চাওয়া পাওয়া, ভালো লাগা অনুভূতি গুলো জানতে চায়। তমা তানভীর কে বলে আমি সব সময় চেয়েছি আমার জীবনে এমন একজন মানুষ আসুক যে আমার সকল চাওয়া পাওয়া স্বপ্নগুলোকে তার স্বপ্নের সাথে মিলিয়ে সাজাবে, তানভীর বলে তুমি কি চাও বলে তমা আনমনে বলতে থাকে –
– আমি এমন একটা সম্পর্ক চাই, যেখানে অধিকারের চাইতে একে অপরের প্রতি সম্মানটা বেশি থাকবে।
যে সম্পর্ক হবে পবিত্র হাজার মাইল দূর থেকেও অনুভব করবে একে অপরের ভালবাসা। যে সম্পর্কে শত মান অভিমান থাকলেও বিচ্ছেদের ভয় থাকবে না
যে সম্পর্কে একে অপরকে হাজারটা মিথ্যে প্রতিশ্রুতি না দিয়ে একটা প্রতিশ্রুতি দিবে কখনাে ছেড়ে না যাবার যে সম্পর্কে কোনাে চাওয়া পাওয়ার হিসেব থাকবে না বরং তারা নিস্বার্থ ভাবে ভালবেসে যাবে দুজন দুজনকে।  অন্যসব কিছুর চেয়ে আমাদের সম্পর্কের মূল্য অনেক বেশি হবে
• যে পাশে আছি বলেও মাঝ পথে একা ছেড়ে যাবে না অসংখ্যবার ভালবাসি না বললেও ভালবাসায় কোন। ত্রুটি রাখবে না কখনাে
এমন কেউ আমার জীবনে আসুক যে শুধু স্বপ্ন দেখাতে নয় বরং পাশে থেকে স্বপ্ন গুলােকে বাস্তব করতে আসবে, তানভীর খুব মন দিয়ে ওর কথা গুলো শুনো, এবং ওর হাতটা আকঁড়ে ধরে রাখে। নিবিড় মমতায়,। এভাবেই চলতে থাকে ওদের স্বপ্ন বিলাসী দিনগুলো।

❤❤❤❤❤তোমাকে চাই 💓💓💓❤❤
💞💞💞💞💞 ৬ষ্ট পর্ব  💞💞💞💞💞

তানভীর ফাইনাল ইয়ার শেষ করে মেডিকেলে ইন্টারনি শুরু  করে, তমাও পড়াশোনা করে, দুজনে মিলে আগে ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে অটুট থাকে।
তমা ওর বাবা মাকে তানভীরের কথা জানায়, তমা বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান বাবা মা সব সময় তমার মতামত কে গুরুত্ব দেয়। তানভীরের পরিবার ও মেনে নেয় ওদের পছন্দ কে,  উভয় পরিবার খুশি আনন্দ মেতে থাকে, ওদের বিয়ের উৎসব নিয়ে।
সময় সুযোগ পেলেই ওরা দুজন ধীরে ধীরে বিয়ে শপিং করতে থাকে, তমার ফাইনাল ইয়ার শেষ হলেই ওদের বিয়ের তারিখের আয়োজন করা হবে,, বাবা মা সবাই উল্লাসে মেতে থাকে মেয়ের বিয়েকে  ঘিরে, একটা একটা স্বপ্ন বুনে, কতটা আয়োজনে মেয়ে খুশি হবে, মেয়ের সুখের ঘরটা কতটা সুন্দর করে সাজিয়ে দিবে।

তমার বাবা মা সবাই মিলে তমার বিয়ের গয়না গড়তে দিতে যাবে, তমাকে ডেকে বললো তানভীরকে ডেকে নাও আজ সবাই মিলে শপিং এ যাব। তমা খুশিতে আত্মা হারা,
তানভীর কে ফোন দিয়ে বললো তুমি রেডি হয়ে চলে আসো, আব্বু বলছে আমরা সবাই মিলে বিয়ের গয়না পছন্দ করে  কিনতে যাব।।
তমাল দুষ্টমি করে বলছে আজ ছুটির দিন আমি ঘুমাবো তোমরা যাওনা প্লিজ,, তমা না তুমি ছাড়া যাব না প্লিজ রেডি হয়ে এিশ মিনিটের মধ্যে চলে আস।
তমা তানভীর কে জিগাসা করে আমি কি পরবো বলোতো
আজ তোমার পছন্দ মত সাজবো,
তানভীর দুষ্টমি করে বলছে হঠাৎ আজ আমার পছন্দ মত কেনো সাজবে মেম,? তমা বললো তোমাকে ভালোবাসি তাই,, প্রতিদিন আমি তোমার জন্যই সাজি তোমাকে ভেবেই সাজি, তুমি তো প্রতিদিন প্রতি সময় আমাকে ঘিরেই রও।  তমা এই শুনো আজ আমি সাদা রঙের শাড়ি পরবো, সাদা তো তোমার প্রিয় রঙ,, তুমি কিছু বকুল ফুলের মালা নিয়ে আসবে, খুব যতনে পরিয়ে দিবে আমাকে, আমরা দুজন আজ সারাদিন এক সাথে শপিং করবো আব্বু আম্মুর  সাথে ঘুরে বেড়াবো, তোমার হাত টা চেপে ধরে রাখবো, তুমি আমায় দেখে চোখ ফেরাতেই পারবে না, তুমি বার বার অপলক দৃষ্টিতে দেখবে আমায় 
তোমার দুষ্ট চোখের মিষ্টি ইশারায় আমি বহুবার প্রেমে পরবো তোমার আর বিধাতার কাছে প্রতি নিশ্বাঃসে মনে মনে তোমাকেই চাইবো………

❤❤❤❤৷ তোমাকে চাই ❤❤💓❤
💞💞💞💞  শেষ পর্ব 💞💞💞

তানভীর রেডি হয়ে চলে এলো তমাদের বাসায়, তামার জন্য বেলি ফুলের মালা নিয়ে আসলো, ওর মাথায় গুঁজে
দিলো তমাকে সত্যি অসাধারণ লাগছিলো তানভীর ওর থেকে চোখ ফেরাতেই পারছিলো না, সবাই মিলে বের হয়ে গেলে শপিং করতে, বিভিন্ন শপিং মলে ঘুরে  ঘুরে গয়না কিনলো তানভীরের পছন্দ মত, গয়না পরে তানভীরকে  দেখাচ্ছে আর যেটা  মানাচ্ছে সেটা কিনছে, চোখে কত রঙিন স্বপ্ন, একে অপরে হাত ধরে রেখেছে, নতুন জীবনের আনন্দে দুজনেই মাতোয়ারা কিভাবে ঘর সাজাবে সংসার গুছাবে, তাতে বিভোর দুজনেই। শপিং শেষ করে সবাই মিলে
রেস্টুরেন্ট এ বসলো, সবার পছন্দের খাবার অর্ডার করলো, সবাই খাচ্ছে তমা চুপটি করে বসে আছে, তমার বাবা বললো আম্মু তুমি বসে আছো কেনো খাবার শুরু করো অনেক ক্লান্ত হয়ে গেছি তাড়াতাড়ি ফিরতে হবে।
তমা বললো আমাকে তানভীর খাইয়ে দিবে, তানভীর লজ্জা পেয়ে গেলো, বললো বাবা মায়ের সামনে কেনো পাগলামি করছো, তমার মা, বাবা  দুজনেই হাসলো বললো পাগলি একটা, তমার বাবা বললো দাও খাইয়ে লজ্জার কিছু নেই। সবাই খাওয়া দাওয়া শেষে রওনা হলো বাড়ির পথে। বেশ আনন্দ সবার মনে, গাড়িতে সবাই গল্প করছে,।
হঠাৎ ড্রাইভার বললো স্যার গাড়ির ব্রেক কাজ করছে না সবাই আতংকিত, বলতে বলতেই গাড়ি সামনের একটা বাসের সাথে ধাক্কা লেগে ছিটকে পড়লো রাস্তা থেকে কিছুটা ধুরে, ভেঙে গেলে মুহুর্তে সমস্ত স্বপ্ন গুলো, আশে পাশের লোকজন দ্রুত এসে উদ্ধার করলো সকলকে, তানভীরের হাত পা কেটে গেলো, তানভীর তমাকে খুজতে লাগলো, চোখ ফেরাতেই দেখে তমার মাথা থেকে অঝোরে রক্ত পড়ছে, তানভীর দৌড়ে গিয়ে তমাকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করতে লাগলো, এই তমা কথা বলো, তমার নিথর দেহ, কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারলো না তানভীর চিৎকার করে বলতে লাগলো তোমার কিচ্ছু হবে না, আমাকে ছেড়ে তুমি যেতে পারো না, তোমাকেই আমার প্রয়োজন আমি তোমাকেই চাই, তোমাকে তো বাচঁতে হবে আমার জন্য, সবাইকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলো, তমা, এবং তমার বাবা ততক্ষণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরলো। তানভীরের চীৎকারে আকাশ পাতাল ভারি হয়ে গেলো। ভেঙে গেলো সুন্দর কিছু স্বপ্ন। মৃত্যু হলো একটা পবিএ ভালোবাসার।।
তানভীর ও তমার চলে যাওয়ার আঘাতটা মেনে নিতে পারলো না, ধীরে ধীরে ডীপ্রেশন আর তমার স্মৃতি গুলো ওকে অন্ধকারে বদ্ধ করে দিলো।
হয়ত এক সময় তমাল সুস্থ হয়ে যাবে কিন্তু স্মৃতিগুলো তাকে সারাজীবন পুড়াবে।।।