সময়-অসময়

October 15, 2020 0 By jarlimited

তন্নী দাশ

ম্যাথমেথিক্সে ফেল করা বন্ধুটিও একসময় পরামর্শের ডায়েরি নিয়ে আসে আমার জন্য-
“আর কত ছেলেখেলা করবি?
এবার তো হিসেব করে চলতে শিখ্!”
আমি স্তব্ধ হয়ে থাকি
নীরবতা আমায় নিয়ে উপহাস করে।

হঠাৎ সেদিন রাস্তায় এক পুরনো বান্ধবীর সাথে দেখা
ক্লাসের সবচেয়ে অগোছালো মেয়ে ছিল সে
চুলের ফিতা,বইয়ের পৃষ্টা,আর পেন্সিলের ঠিক
সে তার ছাত্রজীবনে রাখতে পারেনি।
হাতে অনেকগুলো শপিং ব্যাগ দেখে
আমি অবাক হয়েছিলাম সেদিন।
আমার শিহরণের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে
আচমকা সে বলে উঠল-
“কিরে বিয়ে থা করিসনি এখনো?
এ তোদের বড্ড বাড়াবাড়ি!
বয়স তো আর কম হয়নি
এবার নিজেকে গোছা।”

সারাদিন সুনীল আর রুদ্রে ডুবে থাকা প্রতিবেশী ছেলেটি গতকাল
বাড়ির আঙ্গিনা পরিস্কার করতে করতে বলল- “জীবন কবিতার মতো সুন্দর হয়না;
বৃথাই কবিতায় সময় নষ্ট করবেন না।”
নিশ্চুপ আমি ঠায় দাঁড়িয়ে রই
নির্বাক কথামালা আমায় অবজ্ঞা করে দূরে ঠেলে দেয়!

পারিবারিক নানা বির্পযয়কে তোয়াক্কা না করে
যে মেয়ে একদিন প্রেমের নাম করে পালিয়ে যায়
সেও আমায় তিরস্কার করে-
গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেও পরিবারের হাল ধরতে না পারা শুধু অক্ষমতাই নয়;
অপরাধও বটে!
ব্যর্থতাকে নিজের আত্মীয় ভেবে আলিঙ্গন করি
সময় আমার নামে অপমানের গল্প বানায়!