বাংলার কারিগর

October 15, 2020 0 By jarlimited

গোলাম মোস্তফা ইমন

সবিতার সনে জাগরিত হয়ে
ছুটি পৃথিবীর বেগে
গগণ যদিও পিঠপোড়া রোদে
কিবা ঢাকা রয় ঘন মেঘে।

লাল পোড়া মরিচে দুমুঠো
পান্তা ভাত ভক্ষি
কখনো ভর্তা,লবণ সহযোগে
জটর জ্বালা রক্ষি।

কাঁধে লাঙ্গল হস্তে ধরি
অপর হস্তে অপরাহ্নের ভোজ
বিপত্তি-বাধা,শোক-রোগ পার্শ্বে ফেলে
ডিঙ্গিয়ে চলি রোজ।

কুয়াশার্দ্র ঘাস,রবি আর
প্রত্যুষ আভার যত গুণন
লভি মোর গাত্রে
অসুর-অলক্ষা হয় দহন।

লম্বা কদমে মেটোপথ-আলপথে
এগি সম্মুখপানে
মোর কাহিনী জ্ঞাত তাহাদের
আর দিবস-নিশিথে জানে।

গলিত হেমের পলিতে
মরা বীজ চারি
স্বদেশের ভোগ-চাহিদা
বৈদেশের সহ তৈয়ারী।

কপোলের ঘাম দেহ গড়িয়ে
আঙ্গুল বেয়ে মাটি ছুয়
আঁখি বৈ কাঁদে সর্বাঙ্গ মোর
কখনো অবশ নই।

মাঠে-ময়দানে কঠোর শ্রমে
সারাটি দিবস কামী
ঘোর আন্ধার নামলে তব
হই নিজঘর গামী।

ঝড় কি তুফান বয়ে সবেগে
হয় যত বাধা-কাল
দমিনা,রক্ষণাবেক্ষণে সাজাই
জাগাই নব সকাল।

তবুও মোর দুঃখ দুঃখ্ রয়
ঘোরেনা তকদির চাকা
এ-জীবন আজীবন বারো মাস
মাটির সন্ধিতে থাকা।

যাহারা মোর ফলিত সোনার
ফসল উদরে ভরে
ধনীর দুলাল তাহারাই আজ
কারিগর ভাঙ্গা ঘরে।

দশের চাহিদা জুগিয়ে মরি
তাহারা অট্টহাসিতে গেলে
উপোসে-হাভাতে চিল্লিয়ে কাঁদে
জোগানদাতার ছেলে।

ন্যায্য পাওনা-ন্যায্যাধিকার
পেয়েছি কখন কবে?
মোর গর্দানে লাঙ্গল বসিয়ে
চড়েছে কেবল সবে।

বৃষ্টিতে ভিজি,শুকাই রৌদ্রে
বক্ষে ধরেছি সবর
কৃষিপ্রধান এই হেমলীভূমে
আমি বাংলার কারিগর।

Date: Oct 14, 2020
Time: 7:50 PM