সেই দিনের কথা (প্রবন্ধ)

October 14, 2020 0 By jarlimited

অনুকা সিদ্ধা 

আজ ভোর রাত থেকেই প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। আমার চোখ থেকে ঘুম সরতেই দেখি,দাদীমা জানালা খুলে অপলক দৃষ্টিতে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে আছে। আমি আস্তে করে গিয়ে জানতে চাইলাম,” কি হয়েছে দাদীমা?”
 দাদীমা বল,”৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন এক দিন হবে,আমার দিন তারিখ মনে নাই।সেই দিন খুব আজকের মত বৃষ্টি হয়েছিল।”আমি জানতে চাইলাম, “কি হয়েছিল সেদিন দাদীমা?”
 দাদীমা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বল,”জানোইতো এই সময় বৃষ্টির সাথে গুড়ুম গুড়ুম শব্দ হলে পুকুরের কৈ মাছ লাফিয়ে ডাঙ্গায় চলে আসে।”–হুম,জানিতো! ভাইয়া ইয়া বড় একটি হাড়ি নিয়ে একটু আগে দৌঁড়ে গেলোতো আমাদের পুকুরের পারে।
–সেদিন ওনি আমাদের যে মাঝারি হাড়িটা আছে না, ঠিক ওই রকম এক হাড়ি ভরতি কৈ মাছ নিয়ে এসে আমায় বল, “লাউয়ের ডোগা পাতা দিয়া মাছ গুলো তাড়াতাড়ি রান্না কর, আজ পেট ভরে কৈ মাছ দিয়া ভাত খাবো, আমি তাড়াতাড়ি গোসল করে আসি।”
আমি রান্না শেষ করে তোর বাবাকে ভাত খেতে দিয়ে ওনার জন্য বসে আছি।এমন সময় সে দৌড়ে এসে বল, “ওঠ! ওঠ!! তাড়াতাড়ি ওঠ!!! মিলিটারিরা পশ্চিমের খাল পার হয়ে গ্রামে ডুকে পরেছে।”
আমি বলাম, “ভাত খাবে না?”– আর ভাত বেঁচে থাকলে  পরে খাবোনে।আমরা দৌঁড়ে বের হয়েছি, তখন সাব উদ্দিন চাচা বল আরে মিয়া এদিকে কৈ যাও? জানোনা মিলিটারিরা মাদবর বাড়ি পৌঁছে গেছে!ওনি খুব চিন্তায় পরে গেলেন কি করা যায়,তখন তোর বাবার বয়স ৭-৮ বছর হবে।ওকে বল, ঘরের পেছনে যে আম গাছটা আছে তার মগ ডালে ওঠে বসে থাকতে। গাছে তখন পাকা পাকা আম ছিল।ওনি নিজের কথা না ভেবে আমাকে নিয়া ব্যস্ত হয়ে পরলেন। কি করবেন বুজে ওঠতে পারছিল না,হঠ্যাৎ করে মাথায় একটা বুদ্ধি  আসল।শুনেছি
মিলিটারিরা গ্রামের যুবতি মেয়ে, বউদের ওপর অত্যাচার করে,তাদের ইচ্ছা মত যাকে ইচ্ছা তাকেই ধরে নিয়া যায়।চৈত্র মাসে হিন্দুদের মেলার সময় আমাদের গ্রামে যাত্রা হয়।ওনি সেই যাত্রা দলে অভিনয় করেন। তাই যাত্রা দলের সাজসজ্জার কিছু পোষাক আমাদের ঘরে রাখা ছিল। ওনি সেগুলো পরে, সেখান থেকে আমায় একটা সাদা সারি দিয়ে পড়তে বল,আমার চুল গুলো সাদা রং দিয়ে পাকা করে দিল। হাতে একটি লাঠি দিয়ে বল, “তুমি আশি বছরের বুড়ির মত করে অভিনয় করবে,আমার যা হয় হক।” সেই মুহূতে মিলিটারিরা এসে ওঠানে হাজির হল। তোর বাবাকে চারদিক দিয়ে ঘিরে ধরলো। একজন এসে বল, “কোথায়, বাড়ির লোক আর কোথায়? একটাকেও জীবিত রাখব না। সমস্ত দেশটাকে পাকিস্তান  করে ছাড়বো।তারা আমাকে মারতে চাইলো। ওনি বল, “না, না আমার মাকে তোমরা মেরোনা,আমি অবাক হয়ে ওনার কথা শুনছি। আর বুঝতে পারলাম সে আমায় ১৮ বছরের যুবতি থেকে কেন ৮০ বছরের বুড়ি বানিয়ে দিয়েছিল।মিলিটারিরা আমাকে প্রায় মেরে ফেলারই সিন্ধান্ত নিল। আল্লাহর কৃপায় তাদের মধ্য থেকে একজন বল, ধূর!এই বুড়িকে মেরে কি হবে সে দুই দিন পরে এমনিতেই মারা যাবে।তখন তোমার খালা আমার পেটে ছিল।কিন্তুু মেলেটারিরা ওনাকে ছাড়ল না,বুকের মাছ খানে গুলি করে, লাথি মেরে ফেলে রেখে চলে গেল,ওনি আমার চোখের সামনে কৈ মাছের মত ছটফট করতে করতে মারা গেল। আমার কিছুই করার ছিল না।দাদীমা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে শাড়ির আচল দিয়ে চোখ দুটো মুছল।আমার চোখের পানিও টপটপ করে পরতে লাগল।সেই সময় ভাইয়া এসে ডাকল দাদীমা দাদীমা দেখে যাও কত কৈ মাছ পেয়েছি,আমরা সবাই গেলাম দেখতে। সত্যি অনেক কৈ মাছ পেয়েছে ভাইয়া। ভাইয়া মাকে ডেকে বল,মা তুমি তাড়াতাড়ি মাছ গুলো লাউয়ের ডোগা পাতা দিয়া রান্না করো,আমি গোসল করে আসছি। আমরা সবাই আজ এক সাথে বসে ভাত খাব।

Date: Sat, Oct 3, 2020
Time: 3:30 PM

সুন্দর পৃথিবী আজ বিষাদ গ্রস্ত
চারিদিকে  নিস্তবতা, কোথাও
কোন জন- সমাগম নেই।
স্বজন হারানোর বেদনাতে-
কান্নার রোল প্রতি ঘরে ঘরে।
আত্নীয় পরিজন কেউ, কারও
কাছে আসেনা,
এমন কিমারা গেলেও ছোঁয়া যাবেনা
কোলের শিশু মায়ের বুকেরদুধ খেতে পারে না,
পিতা সন্তানকে জড়িয়ে ধরেআদর করতে পারে না।
জনগনের বন্ধু পুলিশ,
নার্সসেয়াচ্ছা সেবি বন্ধগণ
জীবনের মায়া ত্যাগ করেআত্ন-মানবতার সেবায় নিবেদীত।
কারণএসেছে এক বিপদ ভারী নামতার মহামারী করোনা,
মানুষ পাইলে ছাড়েনাহাত,
হাঁচি-কাঁসি তারচলাচলের
প্রধান মাধ্যমমানুষের গলার ভিতর পাতে বিছানা
এত এত ওষুধ দিলেও ছাড়েনা
আন্ডা বাচ্চা পারে শত শত
মানুষকে মৃত্যুর দুয়ারে পৌছে দেওয়াতার কাজ।
সৃষ্টিকর্তা ভরসারাখেন যদি মান,
করোনা হবে অবশান

Date: Sat, Oct 3, 2020
Time: 3:30 PM