Knowledge

জ্ঞান

October 14, 2020 0 By jarlimited

স স আলম শা্

জ্ঞান কী এবং জ্ঞানের ভূমিকা কী ? এক কথায় এ প্রশ্নের জবাব দেয়া সন্ভব নয় । তবে সাধারণ ভাবে বলা যায় জ্ঞান এমন একটি ভাবগত সত্ত্বা যা বস্তু এবং ভাবজগতের তত্ব এবং তথ্যগত একটা ধারণা মানুষকে দিয়ে থাকে । অর্থাৎ যার মাধ্যমে মানুষ অজানাকে জানতে পারে ।
জ্ঞানের উৎস পরিধি, প্রকৃতি, সীমা এবং স্হায়িত্ব সর্ন্ম্পকে দাশর্নিকদের মধ্যে বির্তকের অন্ত নেই । সত্যিকার র্অথে তাদের বিভিন্ন মূখী চিন্তার মধ্যে সন্মনয় সাধন করা সন্ভব ছিল না । এক দাশর্নিক যেটাকে সত্য বলে মনে করেছেন অন্য দাশর্নিক তার বিরোধীতা করেছেন । যেমন সোফিষ্ট প্রোটা গোরাস বলেছেন, জ্ঞান ইন্দ্রিয় নির্ভরশীল । অন্য দিকে সক্রেটিস ইন্দ্রিয়লদ্ধ জ্ঞানকে প্রকৃত জ্ঞান বলে স্বীকার করেননি । পৃথিবীর বড় বড় দাশর্নিকরা যেখানে জ্ঞান সর্ন্পকে সঠিক এবং স্হিতিশীল ধরণা দিতে পারেনি । সেখানে নতুন কিছু বলা অবশ্য দুঃসাহসের ব্যাপার । আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রসঙ্গে আলোচনা করেছি । নতুন যুক্তির পসরা নিয়ে বির্তকের অবতারনা এর মূল সমস্যা কোথায় এবং তাদের মতবাদ কালজয়ী হিসাবে জনপ্রিয়তা অর্জনে ব্যর্থতার কারণ । আমরা বলে আসছি, বৈজ্ঞানিক মতবাদ যেখানে পরিবর্তিত হচ্ছে সেখানে দাশর্নিক মতবাদ যে কালজয়ী হবে তা বলা যাবে না । সময়ের সাথে সাথে নতুন নতুন তথ্য বা তত্ব উৎঘাটন হচ্ছে বির্বতনের এক মাত্র কারণ । এজন্য কারো মতবাদকে অগ্রাহ্য করা যাবে না । দাশর্নিকদের ইতিহাসে যে কয়টা মতবাদ পাওয়া যাচ্ছে তার মধ্যে বুদ্ধিবাদ বা প্রজ্ঞাবাদ, অভজ্ঞতাবাদ, বিচারবাদ, ও স্বজ্ঞাবাদ বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য । এই মতবাদ গুলো নিয়ে আলোচলানর মধ্যে দিয়ে জ্ঞানের উৎস সর্ন্পকে একটা যুক্তিযুক্ত নির্ভরশীল ধারণা নিবার চেষ্টা করব ।
বুদ্ধিমত্ব জ্ঞানঃ- বুদ্ধিমত্ত হল জ্ঞানেরই একটি শাখা । বুদ্ধিমত্ব থেকেই জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি লাভ করে । এই জ্ঞান মানুষ ও প্রানী জগতের সকল জীবের মধ্যে বিদ্যমান । বস্তুজগতে বা জড়জগতে বসবাস করতে গেলে দেখা যায় কিছু কিছু ঘটনা বা সমস্যা এমন আকার ধারণ করে যাহা সমাধানের কোন পথ খুঁজে পাওয়া না । তখন মনের মধ্যে নেমে আসে এক ধরণের হতাশা । তখন উপস্হিত চিন্তা চেতনা ও প্রজ্ঞাদ্বারা মূখাবেলা করে যদি তাত খনিক সমাধান বাহির করা যায় এবং কারো কোন ক্ষতি বা খারাপ দিক বিবেচনায় না আসে ও সবার মঙ্গল হয় তখন সেটাকে বুদ্ধিমত্ব জ্ঞান বা প্রজ্ঞামত্ব জ্ঞান বলা হয় । এই রূপ জ্ঞানকেই যর্থাথ জ্ঞানের উৎস ধরা হয় । এই জ্ঞান হয় স্বচ্ছ ও সৃষ্ট লবদ্ধ জ্ঞান । এই জ্ঞান আত্মা ও মনের অভ্যন্তরীন ধারনা সমুহের মধ্যে জ্ঞানের সৌধ গড়ে তুলে । প্রাচীনতম দাশর্নিকদের মধ্যে সক্রেটিস এবং প্লেটো ছিলেন প্রজ্ঞাবাদী দাশর্নিক । তাদের মতে যর্থাথ জ্ঞান লাভের একমাত্র উপায় হল প্রজ্ঞামত্ব জ্ঞান । এরা সবাই বলেন যে প্রজ্ঞার সাহায্য যে জ্ঞান অর্জিত হয় বা পাওয়া যায় তা নিশ্চিত বা যর্থাথ । তবে অনেকই মনে করেন ইন্দ্রিয় লদ্ধ জ্ঞান যর্থাথ জ্ঞান । কিন্ত ইন্দ্রিয়লদ্ধ জ্ঞান বস্তুজগতে অনেক সময় বির্তকের সৃষ্টি করে । কারণ বস্তুগত পরিবর্তনশীল । কাজেই ইন্দ্রিয় লদ্ধ জ্ঞান সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন ঘটে । কাজেই ইন্দ্রিয় লদ্ধ জ্ঞান সার্বজনিন জ্ঞান বলে স্বীকৃতি পাওয়া যায় না । মানুষ হল সত্যের মাপকাঠি । তাই একজনের কাছে যাহা সত্য অন্য জনের কাছে তাহা সত্য নয় । একজনের কাছে যা ভাল অন্যজনের কাছে তা মন্দ । কাজেই ইন্দ্রিয় ভাবে যে জ্ঞান দেয় অবস্হান ভেদে তা বদলায় ।
অভিজ্ঞতাবাদঃ- কথায় বলে অভিজ্ঞতার কোন বিকল্প নাই । সকল ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার জ্ঞানের বিচরণ আছে এবং বস্তু ও জড় জগত থেকে অহরণ করতে হয় । অভিজ্ঞতা ছাড়া মানুষ কোন র্কম সুষ্ট ও সুন্দর ভাবে সন্পাদন করতে পারে না । এমন কি স্বামী স্ত্রী জৈবিক সর্ন্পকের ক্ষেত্রেও দাদা দাদী বা নানা নানী ও আপন জনদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে হয় । কাজেই ধর্মীয় দৃষ্টি থেকে হোক, বা দাশর্নিক ও বৈজ্ঞানিক দিক থেকেই হোক, সবর্ক্ষেত্রে প্রযোয্য এই অভিজ্ঞতাবাদ । তাই এই ইংরেজ দাশর্নিক জন লক (১৬-২-১৭০৪) অভিজ্ঞতাবাদের গোড়াপত্তন করেন । তিনি আবার বুদ্ধিবাদের বিরোধিতা করেন । তার মতে মানুষ জন্মগ্রহনের পর থেকেই সর্ন্পূণ অভিজ্ঞতার প্রভাব মুক্ত । তখন তার মধ্যে কোন চিন্তা ভাবনা থকেনা । মানুষ বড় হওয়ার সাথে সাথে বাহিররে জগত থাকে উত্তেজনা করে তুলে এবং তার মধ্যে আত্মসচেতনার সৃষ্টি হয় তখন থেকেই মানুষের মধ্যে আস্তে আস্তে জ্ঞান সঞ্চিত হতে থাকে । তার আগে তার মন সর্ন্পূণ জ্ঞানহীন থাকে । ডের্কাত বলেন, মানুষ কতকগুলো সহজাত ধারণা নিয়ে জন্মগ্রহন করে । এই সহজাত ধারণা প্রক্রিয়া থেকে পরিগণিত অবরোহ পদ্ধতিতে যর্থাথ জ্ঞান লাভ করা হয়ে থাকে । এরকম ভাবে পৃথিবীর অনেক দাশর্নিক কবি বৈজ্ঞানিক গণ অভিজ্ঞতাবাদের জ্ঞানের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দিয়েছেন যার যার মনের মত । সে কারণে অনেক আলোচনা ও সমালোচনার এবং মতবাদের সৃষ্টি হয় । তাই আমার ধারনা সহজাতেই হোক আর কুকাজাতেই হোক অভিজ্ঞতা জ্ঞানকে অস্বীকার করার সাধ্য কারো নাই । এমন কি সকল নবী রাসুল গণও অভিজ্ঞতা থেকে জ্ঞান আহরণ করেন । মন সমস্ত ধারণা লাভ করে অভিজ্ঞতা থেকে । অভিজ্ঞতা আসে দুইটি পথে । একটি হল সংবেদন এবং অপরটি হল অন্তরদর্শন । সংবেদন দ্বারা আমরা বাহিরের জগতের জ্ঞান লাভ করি আর অন্তর দর্শন দ্বারা আমরা ভিতরের জগতের জ্ঞানলাভ করি । অভিজ্ঞতার সিঁড়ি বেয়ে যে ধারনা মনে প্রবেশ করে সে গুলোকে নিস্ক্রিয় ভাবে গ্রহন করা হয় । মনের মধ্যে ধরনা গুলো এসে না পৌছাঁনো পর্যন্ত মনের কোন সক্রিয়তা থাকে না । আর মনের এই র্কাযকর ভূমিকা থেকেই জ্ঞান তার নিজস্ব গতিতে পথ চলে ।
বিচারিকতাবাদঃ- মহাজাগতিক সৃষ্টির উৎস নিয়ে যখনই আলোচলনায় আসি, তখনই যে প্রশ্নটি সর্বাগ্রে আসে সেটা হল বিচার বা মানদন্ডবাদ । যদি কোন কাজের বা কোন বস্তুর মানদন্ড না থাকে তবে সে বস্তু যেমন মূল্যহীন বা অকেজো হয়ে পরে ঠিক তেমনি মানুষের বেলায়ও তাই, যখন কোন মানুষের মধ্যে বিচারিক জ্ঞান না থাকে তখন সে জ্ঞানহীন ব্যাক্তিতে পরিনত হয় । শুধু বুদ্ধিবাদ বা অভিজ্ঞতাবাদ জ্ঞানেই মানুষকে পূর্ণতা জ্ঞান দেয় না । যদি তার মধ্যে বিচারিক জ্ঞান না থাকে । যেহেতু মানুষের মধ্যে দুটো দিকই বিদ্যমান একটা ধনাত্মক আর একটা ঋনাত্মক । এই দুটো সত্ত্বাই সকল মানুষের মধ্যে আছে । যেহেতু এই দুটো শক্তিরই প্রয়োগের ক্ষমতা আছে তাই সেখানে দেখতে হবে জড় জগতে কোনটার প্রয়োগ কতটুকু হচ্ছে, যদি জ্ঞান দ্বারা মনের মধ্যে অনুভব করা যায় তবে মানুষ বুঝতে পারে যে, তার দ্বারা জড় জগতের কল্যান সাধন হচ্ছে না ক্ষতি সাধন হচ্ছে । যদি ক্ষতি বেশী হয় তবে বুঝতে হবে তার মধ্যে ঋনাত্মক শক্তি বেশী কাজ করিতেছে । তখনি মানুষ তার প্রজ্ঞা দ্বারা সংসুদ্ধিত হয়ে ধনাত্মক শক্তিকে বেশী করে প্রয়োগ করবে । এই যে পরির্ব্তন সাধন এটাই বিচারিকতাবাদ জ্ঞান । যদি ভাল মন্দ কে আলাদা ভাবে চিনার, বুঝার, এবং উপলদ্ধি করার জ্ঞান না থাকে তবে সে জ্ঞানী ব্যাক্তিতে পরিনত হতে পারে না । আর সেটা অর্জন করতে হয় বিচারিক জ্ঞানের মাধ্যমে । এই বিচারক জ্ঞান এত উচ্চস্তরের জ্ঞান যার সাথে অন্যকোন জ্ঞানের তুলনা করা যায় না । এ জন্যই বিচারকরা সন্মানিত ব্যাক্তি হয়ে থাকে ।
সঙ্গাবাদী জ্ঞানঃ- সঙ্গা বলতে আমরা বুঝি কোন বিষয় অথবা অজানকে জানার জন্য যখন সহজ ভাবে বোধগম্য না হয় তখন উক্ত বিষয়কে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে যুক্তির মাধ্যমে উপস্হাপন করাকে সঙ্গা বলা হয় । এই সঙ্গাও জ্ঞান তত্ত্বের গুরুত্বর্পূণ বিষয় বস্তু । সঙ্গাবাদী দাশর্নিকরা সঙ্গালদ্ধ জ্ঞান ছাড়া অন্য কোন জ্ঞানকে তারা উপযুক্ত মনে করেন না । এদের মতে একমাত্র সঙ্গার সাহায্যেই যর্থাথ জ্ঞান লাভ করতে পারে । সঙ্গাবাদীরা বলেন যে, বিচার বুদ্ধিই মনের এক মাত্র শক্তি নয় । বুদ্ধি ছাড়াও মনের এমন একটি শক্তি আছে যা দিয়ে সরাসরি সত্যকে উপলদ্ধি করতে পারে । এই শক্তির নামই হল সঙ্গা । এই সঙ্গাবাদ জ্ঞান নিয়েও বহু দাশর্নিকদের মতবেদ আছে । তবে আমরা সেই সকল মতবেদে না যেয়ে সকল দাশর্নিকদের জ্ঞানের যে মতবেদ দিয়েছেন স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু অবদান আছে । যদি শাস্র অনুসারে বলি যে, একটা গাছের শিকর ধরলে যেমন গাছকে ধরা হয়ছে বুঝায়, তেমনি গাছের একটা পাতা র্স্পশ করলেও গাছকে ধরা হয়ছে বুঝায় । সে হিসাবে সব দাশর্নিকের মতবাদকে ফেলে দেয়া যায় না । ধর্মীয় দৃষ্টি কোন থেকেই এই সঙ্গাবাদের জ্ঞানের গুরুত্ব অপরিসীম । কারণ র্ধম যেমন বিশ্বাসের ব্যাপার আবার যুক্তিযু্ক্ত প্রমানেরও দাবীদার । অবাস্তব বা রূপ কথার দ্বারা র্ধমকে বিশ্বাস যোগ্য করা যায় না । প্রয়োজন হয় বাস্তবতা । বাস্তবতাকে মেনে নেয়াই হল র্ধমের কাজ । র্ধম মানা বা পালন করার বিষয় নয় । র্ধমকে ধারণ করে বাস্তবে রূপদান করতে হয় । আর এ কাজটি করার জন্য প্রয়োজন হয় জ্ঞানের । যার কোন জ্ঞান নাই, তার কোন র্ধমও নাই । এটা আল কুরআনেও উল্লেখ আছে । তাই জ্ঞান আহরনের জন্য মানুষ যুগ যুগ ধরে প্রচুর সাধনা করে চলেছে যাতে করে মানুষ তাঁর নিজের সত্ত্বাকে বুঝতে পারে । পৃথিবীতে মূল্যবান সন্ম্পদ বলতে দুটো জিনিসকে বুঝায় । একটি হচ্ছে বস্তুগত অপরটি হচ্ছে ভাবগত । ভাবগত বলতে জ্ঞানের আর কিছুর তুলনা করা চলে না । এই জ্ঞানকে আবার দুটো ভাগে ভাগ করা হয়েছে । একটি সাধারণ বা বৈষয়িক জ্ঞান এবং অপরটি হচ্ছে দাশর্নিক জ্ঞান । সাধারণ জ্ঞান মানুষকে বস্তুজগতের পথর্নিদেশ দিয়ে থাকে । ঘরে খাবার নাই, অতএব প্রয়োজন হলে ছুরি করতে হবে অথবা সরকারী টাকা আত্মসাৎ করে শহরে একটা বিলাস বহুল বাড়ী করতে হবে এ রকম কুচিন্তা বা সুচিন্তা দটোই বস্তুজগতের জ্ঞান । কিন্ত র্দাশনিক জ্ঞান এ থেকে সর্ন্পূন বিপরীত ও ভিন্ন । পৃথিবী হচ্ছে মুসাফির খানা, কয়েক মর্হুতের ব্যাপার । কাজেই অন্যায় ভাবে টাকা উর্পাজন করে লাভ কি হবে ? দার্শনিক জ্ঞান সত্যের সন্ধানী । আর বৈষয়িক জ্ঞান বাস্তবতায় নির্ভরশীল । তবে সময়ের সাথে জ্ঞানেরও পরির্বতন ঘটে । যেমন আজ যেটা দার্শনিক জ্ঞান আগামীতে সেটা সাধারণ জ্ঞানে পরিনত হবে । যেমন, যিনি সর্ব প্রথম বিমান তৈয়ার করেন তখন তার আধ্যাত্মিক সত্ত্বার ভূমিকা ছিল প্রধান । কিন্ত আজ যারা বিমান তৈয়ারী করেছেন তাদের কাছে এখন এটা সাধারণ ব্যাপার এবং সাধারণ জ্ঞান । দাশর্নিক জ্ঞান থেকেই বস্তুবাদ এবং ভাববাদের জন্ম । বিজ্ঞানের জ্ঞান বস্তুবাদ থেকে যেখানে বিজ্ঞানকে একটা পৃথক জ্ঞান হিসাবে মনে করা হয় । বস্তুত বিজ্ঞানের জ্ঞান দাশর্নিক জ্ঞানের পৃথক কোন সত্ত্বা নয় । কারণ দর্শণ থেকেই বিজ্ঞানের আত্ম প্রকাশ । প্রকৃতির দৃশ্য থেকেই ভাবের সৃষ্টি হয় । আর ভাব থেকেই জ্ঞানের সৃষ্টি । পৃথিবীতে যত মানুষ আছে সবাই কিছু না কিছু নিয়ে ভাবে । এ ভাবনার শেষ বলতে কিছু নেই । ঠিক তেমনি জ্ঞানেরও শেষ বলতে কিছু নেই । তাই তো প্রভাত আছে, যত জ্ঞান তত মত । এই জ্ঞান থেকেই মতপার্থক্য সৃষ্টি হয় । কারণ জ্ঞানের যেমন ভিন্নতা আছে, ঠিক তেমনি মতবাদেরও ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক । একজন মানুষের মতের সাথে আর একজন মানুষের কখনো মিল হয় না । এটাই সৃষ্টির বিধান । মানুষের চক্ষু হল রঙ্গিন আয়নার মত । যার যার মত করে রং তুলি দিয়ে সাজিয়ে দেখে । যে যেই রং এর অধিকারী সে সেই ভাবে প্রকৃতিকে দেখে ভাবনার জগতে বিচরণ করে জ্ঞান আহরণ করে । যেমন একজন কবি একজন নারীকে যে ভাবে তার কবিতার মধ্যে রূপ দান করে একজন বিজ্ঞানী কিন্ত সেটা করতে পারে না । অথচ উভয়ই কিন্ত জ্ঞানী ব্যাক্তি এবং তাহারাও বস্তুজগত থেকে জ্ঞান আহরণ করে থাকেন । কাজেই জ্ঞানের পরিধি যত বাড়বে মতবাদের সজ্ঞাও তত বেশী হতে থাকবে । এই মতবাদের যাতা কলে পড়ে সত্য ডাকা পড়ে অসত্য একদিন প্রতিষ্টিতা লাভ করবে । এমনকি সকল দার্শনিক বৈজ্ঞানিক পীর দরবেশদের চুক্ষেও সত্য ধরা পড়বে না । কারণ প্রকৃত সত্যের রূপ ভয়ংকর । যেমন মৃত্যু । মৃত্যুটাকে কেহ অস্বীকার করতে পারবে না । মহান আল্লাহ আল কুরআনে বলেছেন, তুমি যত বড় হও এবং যেস্হানেই থাক মৃত্যু তোমাকে ঝাপটে ধরবেই । তাই বর্তমানে প্রায় সকল ধর্মেই প্রকৃত সত্যকে আড়াল করে অসত্যকে প্রতিষ্টিত করে নিজেদের ব্যাক্তিগত র্সাথ হাসিল করে পৃথিবীতে অশান্তির বিভিষিকা প্রজ্জলিত করিতেছে । এটাও এক ধরনের জ্ঞানের প্রকাশ। যে জ্ঞান মানুষের অকল্যান কাজে নিয়োজিত । এ জ্ঞান প্রকৃত জ্ঞান নয় । তাই বলে এই জ্ঞানকে অবহেলা করে চলা যাবে না । কারণ এই জ্ঞানের মধ্যে থেকেই সত্য সন্ধান করতে হবে । পৃথিবীতে যত নবী, রাসুল, দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক, কবি, পীর, দরবেশ সবাই কিন্ত অসত্য যুগেই আগমন করে অসত্যকে রুখে দিয়ে সত্যের বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন বহু ত্যাগ তিথিক্ষা, দুঃখ, কষ্ট, জেল র্নিযাতন, অত্যাচার সহ্য করে । ব্যাক্তিগত ভাবে আমিও এর কিছু ভাগিদার । মানুষকে সেবাদান করলে কিছু দুঃখত পেতেই হবে ।

Date: October 4, 2020
Time: 10:45 am