ছুটির দিনে

October 14, 2020 0 By jarlimited

কবির কাঞ্চন

ছুটি পেয়ে আজকে আমি ছুটছি ফুলের দেশে
ফুলবাগিচায় হারিয়ে যাব ফুলের মতো হেসে।
আজ সারাদিন কাটব সাঁতার দিঘির জলে নেমে
সাগর নদী ছাড়িয়ে যাব রবো না আর থেমে।

আজ সারাদিন খেলব খেলা প্রজাপতির ঢংয়ে
ইচ্ছেমতো রাঙিয়ে নেব লাল-সবুজের রংয়ে।
গুনগুনিয়ে গাইব আমি আজকে অবিরত
মধুর নেশায় হারিয়ে যাব মৌমাছিদের মত।

তিড়িং বিড়িং ফড়িং হয়ে নাচব রঙিন গায়ে
ঘাসের ডগা নাড়িয়ে দেব লম্বা চিকন পায়ে।
কিচিরমিচির সুর ছড়াব পাখির গানে গানে
তেপান্তরে হারিয়ে যাব মুগ্ধ সুরের টানে।

নেচে নেচে গাইব আমি মধুর সুরে সুরে
পরীর দেশে হারিয়ে যাব হাওয়ায় উড়ে উড়ে।
সকাল দুপুর সন্ধ্যা রাতে দেখে ফুলের মেলা
মনের সুখে হাসব আমি আজকে সারাবেলা।

মুজিব নামে
কবির কাঞ্চন

মুজিব নামে হৃদয় মাঝে ভেসে আসে সুর
দেশের সাথে মিশে আছে নামটা সুমধুর।
অত্যাচারী হানাদারের করতে পরাজয়
মুজিব নামেই বুকের ভেতর রক্তধারা বয়।

মুজিব নামেই বিশ্ব মাঝে বীরের পরিচয়
রক্ত দিয়ে আদায় করে বাংলাদেশের জয়।
শোধ হবে না কোনদিনও তাঁর ত্যাগেরই দাম
মুজিব নামেই মিশে আছে বাংলাদেশের নাম।

মুজিব নামেই দেশের মানুষ যোদ্ধা হয়ে যায়
স্বাধীন দেশে ঘুরেফিরে স্বস্তি ফিরে পায়।
সোনার বাংলা গড়লে হলে করতে হবে কাজ
মুজিব নামেই জাগতে হবে ভেঙে সকল লাজ।

একটি ছেলে
কবির কাঞ্চন

টঙ্গীপাড়ার একটি ছেলে দেশের কথা ভেবে
ঘর ছেড়েছে পণ করেছে স্বাধীনতা দেবে।
দেশের মানুষ এক হয়েছে সেই ছেলেটার কথায়
প্রয়োজনে রক্ত দেবে বাংলা মায়ের ব্যথায়।

সেই ছেলেটি গর্জে ওঠে একাত্তরের দিনে
বঙ্গবন্ধু নামেই তারে বিশ্ববাসী চিনে।
অত্যাচারীর থাবা থেকে স্বাধীন স্বদেশ এনে
গড়তে চাইলেন সোনার বাংলা দেশকে আপন জেনে।

ভাঙাচোরা দেশটা যখন উন্নয়নের দিকে
ঠিক তখনই শকুনের দল বাংলা করলো ফিকে।
সেই ছেলেটার বুকে চালায় কুলাঙ্গারে গুলি
দেশ দেয়া সেই ছেলের কথা কেমন করে ভুলি।

খেঁকশিয়ালের বিয়ে
কবির কাঞ্চন

হঠাৎ রোদে বৃষ্টি পড়ে মিষ্টি দুপুরবেলা
মেঘে ঢাকা আকাশটাতে বিজলি করে খেলা।
হলদে পাখি হলুদ মেখে গায়হলুদে আসে
কনের বাড়ির পাখপাখালি কনের পাশে হাসে।

হাতি-ঘোড়া’র নাচন দেখে নাচছে যে বাঘ মামা
লাগছে দারুণ টিয়ার গায়ের লাল-সবুজের জামা।
বৃষ্টি রোদের মিষ্টি খেলায় খেঁকশিয়ালের বিয়ে
বর এসেছে কনের বাড়ি টোপর মাথায় দিয়ে।

ফুলে ফুলে সাজানো হয় কনের বাড়ির কক্ষ
সিংহ হরিণ ভালুকসহ এলো বরের পক্ষ।
খেঁকশিয়ালের বিয়ে হলো বাজলো কতো বাদ্য
আয়েশ করে খেলো সবাই বিয়ে বাড়ির খাদ্য।

বরের পাশে কনে যখন নাচতে শুরু করে
খেঁকশিয়ালের নাচন দেখে সবার পরান ভরে।
দুপুর শেষে সন্ধ্যা হলো আনন্দ উৎসবে
সবার আশা বিয়ের এদিন স্মৃতি হয়ে রবে।

বানের পানি
কবির কাঞ্চন

বেড়ে গেছে নদীর পানি
ডুবে গেছে সব
চারিদিকে বানের পানি
জলেরই উৎসব।

রাস্তাঘাটে হাঁটু পানি
নৌকা লাগে তাই
দু’চোখ বুঁজে থাকার মতো
কোন উপায় নাই।

জলে গেল মাঠের ফসল
চাষীর মাথায় হাত
ছেলে কাঁদে মেয়ে কাঁদে
ঘরেতে নেই ভাত।

বছর বছর বাড়ছে পানি
ভাঙছে নদী খুব
নিঃস্ব হয়ে দুখ সাগরে
দিচ্ছে মানুষ ডুব।

ভূতের ছেলে
কবির কাঞ্চন

ভূতের ছেলে দন্ত মেলে
নিত্য ঘুরঘুর করে
নিশি রাতে একলা পেলে
যারে তারে ধরে।

এই তো সেদিন সন্ধ্যাকালে
দেখলো কতক ছেলে
ভূতের ছেলে খাচ্ছে গিলে
আস্ত গরু ফেলে।

চোখজোড়া তার আগুন যেনো
চুল যেনো তার দড়ি
তাই না দেখে পালায় তারা
করে তড়িঘড়ি।

সেই কথাটা এই গেরামে
সবার মুখে মুখে
কারবা এমন সাধ্য আছে
ভূতের কাণ্ড রুখে।

সন্ধ্যা হলেই ভূতের ভয়ে
দুষ্টছেলে থামে
ভূতের কথা ভাবতে গেলেই
শীতের দিনেই ঘামে।

দুষ্টছেলে ঘর ছাড়ে না
তোমার ভীষণ জ্বালায়
ভূতের ছেলে ভূতের ছেলে
যাও না এবার পালায়।

স্বাধীনতা
কবির কাঞ্চন

স্বাধীনতা বুঝতে তোমায়
ইচ্ছে করে খুব
দেখতে আমার ইচ্ছে করে
তোমার আসল রূপ।

স্বাধীনতা কেমন করে
হটাও সকল দুখ
কেমন করে বিলাও আবার
সবার মনে সুখ।

স্বাধীনতা কেমন করে
ধরার বুকে রও
কেমন করে এই জগতে
সবার আপন হও।

স্বাধীনতা আবার জাগো
ভাঙতে ওদের হাত
যে হাত দিয়ে করছে ওরা
দিনকে কালোরাত।

স্বাধীনতা এসো তুমি
ধরে আসল রূপ
কারো হাতের পুতুল হয়ে
থেকো না আর চুপ।

দেশটা আমার
কবির কাঞ্চন

দেশটা আমার সবচে’ প্রিয়
দেশটা আমার প্রাণ
দেশের মাঝে পাই খুঁজে পাই
আমার মায়ের ঘ্রাণ।

দেশটা আমার ভালো লাগা
ভালোবাসার গান
দেশের মাঝে পাই খুঁজে পাই
বুকের ভেতর টান।

দেশটা আমার স্বপ্নে ঘেরা
খোদার সেরা দান
দেশের মাঝে পাই খুঁজে পাই
মুগ্ধ সুরের তান।

দেশটা আমার শান্তি সুখের
অনন্য এক স্থান
জীবন দিয়ে রাখবো ধরে
লাল সবুজের মান।

শরতের হাসি
কবির কাঞ্চন

শাপলা শালুক পদ্ম ফোটে ভাদ্র-আশ্বিন এলে
সূয্যিমামা মেঘের সাথে লুকোচুরি খেলে।
স্বপ্ন নিয়ে শরৎ আসে ফুলপাখিদের গানে
সাদা মেঘের ভেলা চলে দূর আকাশের পানে।

শিউলি কামিনী কাশফুল শরৎ এলে ফোটে
উদাসী মনে প্রাণিকূল সবুজ বনে ছোটে।
শিশির ভেজা সবুজ ঘাসে পড়ে মিষ্টি আলো
সেই আলোতে মুক্তো দেখে লাগে কতো ভালো।

ঝিরিঝিরি হাওয়ায় ভাসে আমন ধানের গন্ধ
ঋতুর রাণীর আগমনে প্রাণে আসে ছন্দ।
দিনের শেষে রাত্রিকালে পূর্ণিমা চাঁদ হাসে
সবার মনে উদারতা শরৎ নিয়ে আসে।

মানুষ ভূত
কবির কাঞ্চন

ভূতলি থাকে বোনের সাথে জংলী ভূতের ঘরে
বোন ছাড়া তার স্বজনেরা সবাই গেছে মরে।
মানুষজনে ভয় দেখাতে ঘুরতে চায় সে রাতে
মটকাতে চায় মানুষের ঘাঁড় লম্বা চিকন হাতে।

ভূতলি বলে থাকলে ঘরে এতো বছর পরে
দুষ্ট ছেলে ধরে ধরে মারব কেমন করে?
মানুষ মারার মন্ত্র শেখাও জানা আছে যতো
বিষাক্ত দাঁত ঢুকিয়ে দেব জংলী ভূতের মতো।

ভূতিনি কয় তোর কথাতে হেসে মরি লাজে
মানুষ এখন মানুষ মারে নকল ভূতের সাজে।
কোনটা ভূত আর কোনটা মানুষ বোঝা বড় দায়
মানুষের ঘাঁড় ভূতেরা নয় মানুষেই মটকায়।

Date: October 3, 2020
Time: 9:15 pm