অনুরাধা

October 14, 2020 0 By jarlimited

ঝুমা কুন্ডু

গল্পটা না হয় আমার হয়েই থাক,
একটু এলোমেলো, একটু অদ্ভুত,
একটু বেখেয়ালি আর অনেকটা অহেতুক।
আমি অনুরাধা,
হ্যাঁ,গল্পটা আমার।
আমি অনেক ব্যস্ত তো,
শুধু সেই ব্যস্ততায় সময় পাই না নিজের জন্য।
ছোট্ট একটা চাকরি করি,
তাই আমার সকালটা শুরু হয় সূর্য ওঠার একটু আগে।
হাজারো কাজের ভীরে আমার সকালটা সাজে,
বিয়ের পর সাহায্য করার জন্য কেউ না থাকলেও,
সমালোচনা করার জন্য অনেকেই থাকে।
তাই কাজের ভুল,তাও আবার চাকরি করা বাড়ির বউয়ের কাজের ভুল,
না, না, কাজে বোধ হয় ভুল আমার অন্তত করতেই নেই।
সকাল সকাল সবার পছন্দের রান্না করে,
ঘর গুছিয়ে,চা বানিয়ে তবেই তো যেতে পারি আমার কাজে।
আমার বাড়িতে মানে আমার শ্বশুরঘরে সবাই ভাবে,
আমার চাকরি মানেই অফিসে গিয়ে আমার তেমন কাজ থাকে না,
সেখানে নাকি শুধুই শান্তি বিরাজমান!
তবে একবারের জন্যও কেউ বোঝেনি,
বাড়িতে আমার যেমন প্রচুর দায়িত্ব,
অফিসেও থাকে আমার হাজারো দায়িত্ব।
অভিষেক,আমার স্বামী, বড়ই ব্যস্ত তার চিন্তা নিয়ে,
সে ভাবে,পৃথিবীর সকল কাজ থাকে শুধুই তার অফিসে,
তাই আমি আর সে একই সময়ে অফিস থেকে এসেও,
সে বিকেলবেলা নেয় বিশ্রাম,আর আমি কাজ করি রান্নাঘরে।
রান্নাঘরেও এসে শুনি,অভিষেকের মা বলছেন-
“চাকরি করে বাইরে বাইরে না ঘুরে,ঘরের কাজে আরও বেশি মন দেওয়া উচিত “,কাজ তো তেমন কিছুই জানো না, চাকরি করলেই কি আর সব কাজ জানা যায়?”
মূলত,অভিষেক ও একই সময়েই কিন্তু চাকরি করে বাড়িতে আসে,
তবে ওনার কাছে,অভিষেকের কাজটা ব্যস্ত কাজ,
আর আমার কাজটা বাইরে বাইরে ঘুরে বেড়ানোর সমতুল্য।
যায় হোক,আমি কথা না বাড়িয়ে মুচকি হেসে আমার এখন যা কাজ মানে রান্নার যোগাড় করে রান্না করা,
তাই করতে শুরু করলাম।
সন্ধ্যার নাস্তা ও রাতের খাবার তৈরি করে এসে দেখি,অভিষেক বলছে-
” অফিসে হাজারো কাজের প্রেসার।”
আমি হঠাৎ হেসে বলে দেই,”তাই বুঝি?
আচ্ছা! যারা বাড়ি ও অফিসের সকল দায়িত্ব একসাথে পালন করে, যারা কখনো তাদের হাজারো কাজের সমস্যা নিয়ে বলার সুযোগ পায়না,
বা রা শোনার জন্যও কেউ থাকে না,
তখন তাদেরকে কে বুঝবে?”
অভিষেক চুপ করে রইলো।
আমি টেবিলের অগোছালো বই নিয়ে গুছিয়ে রাখতেই,
অভিষেক বলে-” আমার এখন তেমন কাজ নেই,আমি বইগুলো গুছিয়ে দিতে পারবো।”
আমি বলি-“হঠাৎ? “
অভিষেক বলে,” তুমিও চাকরি করো আর আমিও,
অথচ তুমি নিঃশব্দে আমাদের খেয়াল রেখে যাও,
আমাদের কখনো তোমার সমস্যাগুলোর কথা জানা হয়নি তো।”
আমি বলি,”আজ হঠাৎ জানতে চায়লে যে?”
অভিষেক বলে, “আজ শুধু নয়, এরপর থেকে তোমার সমস্যাগুলোও আমার সমস্যা।
আমি তোমার প্রাতিটা কাজে সবসময় পাশে থাকবো। “
আমি হেসে কাজে চলে যাই আবারো।
সেদিনের পর থেকে অভিষেক আমাকে সবকাজে যতোটা পারে সাহায্য করে,
অফিস থেকে এসেও বিশ্রামের ফাঁকেও আমাকে সাহায্য করে।
অভিষেক আজ বুঝতে পেরেছে,
সংসার সুন্দর ও স্বাভাবিক হয় দু’জনের পাশে থাকায়,দু’জনের সহযোগিতায়।
একে অপরের পরিপূরক হয়ে থাকার মাঝেই ভালো থাকা,
একে অপরের পাশে থাকাতেই ভালোবাসার সার্থকতা।

Date: October 3, 2020
Time: 11:50 am