Fellings

অনুভূতি

October 14, 2020 0 By jarlimited

মো: হাফিজুল ইসলাম

আজকে শনিবার,সাপ্তাহিক ছুটির পরের দিন।সপ্তাহের এই একটা দিনই অফিসে আমি দু’চার মিনিট আগে আসি।অন্য দিন ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে যায়,কিন্তু শুক্রবার সারাদিন শুয়ে বসে থাকাতেই শনিবারে আগে আসতে পারি।
কর্পোরেট অফিসের জব,কাজের চাপ একটু বেশিই থাকে।প্রথম দিকে আমরা তিন জন কলিগ থাকলেও পরে আরো দু’জনকে নিয়োগ দিয়েছে।

নতুন দুজনের মধ্যে একজন মেয়ে,নাম আফরোজা মুন্নি।প্রথম দিনই পরিচয়টা জেনে নিয়েছিলাম।পরে পরিবার সম্পর্কেও ধীরে ধীরে জানা হয়ে গেছে।মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান।সদ্য অনার্স শেষ করে চাকরিতে জয়েন করেছে।ইচ্ছে করে যে চাকরি করছে তা নয়,এক রকম বাধ্য হয়েই করছে বলা যায়।

বাবা স্বল্প বেতনের চাকরি করতো।চার সদস্যের সাজানো গোছানো পরিবার ছিল,কিন্তু হঠাৎ করেই মুন্নির বাবা স্ট্রোক করে মারা যায়।পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিল মুন্নির বাবা,মা গৃহিণী আর ছোট ভাইটা ক্লাস নাইনে পড়ছে।
স্বভাবতই পরিবারের উপার্জনের দায়িত্ব মুন্নির ঘাড়ে এসে যায়।মেয়েটা যেমন ভদ্র,দেখতেও অনেক সুন্দরী।প্রয়োজন ছাড়া তেমন কথা বলে না।আমার পাশের ডেস্কেই মুন্নির ডেস্ক।এজন্য কিছু না বুঝতে পারলে আমাকেই একটু আগে ডাকতো।

শুরু থেকেই অফিসের এমডি স্যার শফিক চৌধুরী মুন্নির দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকাতো।গত কয়েকদিন ধরেই দেখছি,মুন্নির কাজে তেমন মনোযোগ নেই।বাসায় তার মা অনেক অসুস্থ।চিকিৎসা করাতে নাকি অনেক টাকার প্রয়োজন।এ কথা শুনে শফিক চৌধুরী মুন্নিকে কুপ্রস্তাব দেয়,বিনিময়ে মায়ের চিকিৎসার টাকা দেবে বলে জানায়।
কিন্তু মুন্নি সেই কুপ্রস্তাবে রাজি হয়নি,এতে শফিক চৌধুরী মুন্নির চাকরি খেয়ে দিবে বলে হুমকিও দেয়।এতেও মুন্নি তার মনোবল হারায়নি,চেষ্টা করে যাচ্ছিল সৎ পথে টাকা রোজগার করে মায়ের চিকিৎসা আর ভাইয়ের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে।
গত শনিবারে আমি স্বাভাবিকভাবেই নির্দিষ্ট সময়ের আগেই অফিসে প্রবেশ করি।দেখলাম এমডি স্যারের রুম খোলা,তিনি স্বভাবতই অফিস শুরু হওয়ার দু’চার ঘণ্টা পরে আসেন।এদিকে পাশের ডেস্কে মুন্নির টিফিন বক্স দেখছি কিন্তু ডেস্কে কেউ নেই।

আমি আগ্রহ নিয়েই এমডি স্যারের রুমের দিকে এগিয়ে গেলাম,গিয়ে যা দেখলাম তা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।মুন্নি আর এমডি স্যার আপত্তিকর অবস্থায় কিন্তু মুন্নির চোখে স্পষ্ট পানি দেখতে পাচ্ছিলাম।আমাকে দেখছে কি না জানিনা,আমি তাড়াহুড়ো করে সেখান থেকে চলে এলাম।এসে বাইরে গিয়ে অফিসের পাশের টং দোকান থেকে এক কাপ চা আর একটা সিগারেট খেয়ে অফিসে পুনরায় প্রবেশ করে দেখি মুন্নি তার ডেস্কে কাজ করছে।
কোনো কথা না বলে আমিও নিজের কাজ শুরু করেছি।মুন্নি আজ নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বের হয়ে গেছে।অফিস শেষ,বাসায় ফিরবো।আমার ডেস্কে ছোট একটা চিরকুট,তাতে লেখা
“এটা ইচ্ছাকৃত সেক্স ছিল না,ব্লাক মেইল করে ধর্ষণ ছিল।”
সকালের কথা প্রায় ভুলেই গেছিলাম।চিরকুটটা দেখে মনে পড়লো।চিরকুটটা হাতে নিয়েই বের হয়ে গেছি।
ছোট দুইটা বাক্য,তার মধ্যে অনেক অভিমান আর অভিযোগ তা বুঝতে বাকি রইলো না।রাতে ঠিক মতো ঘুম হয়নি।রবিবার সকালে উঠে আবার অফিসে গেছি।গিয়ে দেখি দারওয়ান,অন্যান্য কলিগরা বাইরে দাড়িয়ে রয়েছে।কোনো কিছু বলার আগেই একজন বলে উঠলো চলেন,আপনার জন্যই অপেক্ষা করতেছি।কারণ জিজ্ঞেস করতেই শুনলাম,মুন্নিদের বাসায় যেতে হবে,মুন্নি নাকি গতকাল রাতে আত্মহত্যা করেছে।
এমডি স্যার এখনো অফিসে আসেনি,তাকে বাদ রেখেই সবাই গেলাম।মুন্নির লাশের চারপাশে অনেক মানুষ,সাংবাদিক এসেছে,পুলিশও আছে।মুন্নির মা অজ্ঞান হয়ে পড়ে রয়েছে,ভাইটা কান্নাকাটি করছে অনেক।
পুলিশ আলামত সংগ্রহ করতে গিয়ে মুন্নির হাতে ছোট একটা চিরকুট পেলো।তাতে লেখা
“আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়,দায়ী আমার ভাগ্য।”

আজকে আবারও শনিবার,মুন্নির মৃত্যুর এক সপ্তাহ হয়ে গেছে।এমডি স্যারের রুমে তিন জন মেয়ে এসেছে মুন্নির পরিবর্তে চাকরির ভাইভা দিতে।জানি না এদের মধ্যে কে হবে নতুন করে হতভাগা সেই অদৃশ্য ভাগ্যকে দায়ী করা মুন্নি।
আমার কানে বারবার ভেসে আসছে দুটি চিরকুটের বাক্য,
১.”এটা ইচ্ছাকৃত সেক্স ছিল না,ব্লাক মেইল করে ধর্ষণ ছিল।”
২.”আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়,দায়ী আমার ভাগ্য।”
#অনুভূতি
বিঃদ্রঃএটা সম্পূর্ণ কাল্পনিক গল্প।

Date: October 4, 2020
Time: 1:51 pm