fbpx
June 27, 2020

ভার্চ্যুয়াল পশুর হাট

কোরবানির ঈদের আগে বিভিন্ন হাটে সকাল থেকে বিকাল, সন্ধ্যা থেকে সারারাত ঘুরে ঘেমেনেয়ে একশা হয়ে পছন্দের গরু কেনা এবং দড়ি ধরে গরু নিয়ে বাসায় ফেরা নিয়মিত দৃশ্য। ধুলোবালি গায়ে মেখে ক্লান্ত পায়ে গরুর সামনে-পেছনে কখনও হেঁটে, কখনও দৌড়ে বাড়ি ফেরার সময় কৌতূহলী মানুষের ‘দাম কত’ বা ‘কত হলো’ প্রশ্নের উত্তর দেওয়াও বড় আনন্দের। এসবের ফাঁকে কবে যেন ডিজিটাল দুনিয়ায়ও কোরবানির হাট বসে গেছে।

কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে খামারিরা পশুর হাটে গিয়ে সেই ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। তাই এবার কোরবানির ঈদে ক্রেতা-বিক্রেতা অনেকেরই ভরসাস্থল হতে যাচ্ছে ভার্চ্যুয়াল পশুর হাট।

ভার্চ্যুয়াল পশুর হাট একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। যেখানে অনলাইনে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কোরবানির পশুর ক্রেতা ও বিক্রেতারা একসঙ্গে মিলিত হবেন। বিক্রেতা গরু, ছাগল বা কোরবানি উপযুক্ত পশুর স্থিরচিত্র বা ভিডিও দেখাবেন। গরুর দাম, বয়স, ওজন, কয়টা দাঁত রয়েছে, কোথা থেকে আনা হয়েছে, এমন সব তথ্য থাকবে। কোরবানির হাটের গিয়ে ক্রেতা যেভাবে গরু যাচাই-বাছাই করে থাকেন, ঠিক সেভাবেই দেখা যাবে। পছন্দ হলে ক্রেতা গরু কিনে নিতে পারবেন। দাম ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডে পরিশোধ করা যাবে। ক্রেতা যেখানে চাইবেন, সেখানেই গরু পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

এই হাটে কোনও ঝক্কিঝামেলা নেই। মোবাইলে বা কম্পিউটারে গরু দেখে, পছন্দ করে অর্ডার করলেই হলো। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ে কোরবানির পশু বাড়ি পৌঁছে দেবে। দাম মেটানোর জন্যও রয়েছে বিভিন্ন মাধ্যম। ডেবিট কার্ড, বিভিন্ন পেমেন্ট মাধ্যমে (মোবাইল ব্যাংকিং) দাম পরিশোধ করা যাচ্ছে। এছাড়া রয়েছে ক্যাশ অন ডেলিভারি বা হাতে বুঝে পেয়ে দাম পরিশোধের ব্যবস্থা। এসব ব্যবস্থার কারণে কোরবানির ডিজিটাল হাট এরইমধ্যে মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। অনলাইনে কোরবানির পশুর হাট দিন দিন বড় হচ্ছে, জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। 

ভার্চ্যুয়াল পশুর হাট এবারের বাস্তবতা। অনভ্যস্ততা সত্ত্বেও আমাদের এটা মেনে নিয়ে পশু ক্রয় করে কোরবানি করা উচিত। ইনশাআল্লাহ করোনা মহামারী কেটে গেলে আগের সেই উৎসবমুখর হাটের দিন আবার ফিরে পাবো আমরা।

সুস্থ ও অসুস্থ গরু সনাক্তের উপায়:

১. রাসায়নিক বা ওষুধ দেয়া গরুর মাংসপেশি থেকে শুরু শরীরের অন্য অঙ্গগুলো অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকে।

২.শরীরে পানি জমায় বিভিন্ন অংশে চাপ দিলে সেখানে গর্ত হয়ে দেবে যাবে, এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে সময় নেবে।

৩. অতিরিক্ত ওজনের কারণে এ সব গরু চলাফেরা বা স্বাভাবিক নাড়াচাড়া করতে পারেনা। শান্ত থাকে।

৪. রাসায়নিকযুক্ত গরু ভীষণ ক্লান্ত থাকবে এবং ঝিমাবে। সুস্থ গরুর গতিবিধি চটপটে থাকে। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বুঝে প্রতিক্রিয়া দেখায়। কান ও লেজ দিয়ে মশা মাছি তাড়ায়।

৫. রাসায়নিক বা ওষুধ খাওয়ানো গরুর শরীরের অঙ্গগুলো নষ্ট হতে শুরু করায় এগুলো শ্বাস প্রশ্বাস দ্রুত হয়। মনে হবে যেন হাঁপাচ্ছে।

৬. অতিরিক্ত স্টেরয়েড দেয়া গরুর মুখ থেকে প্রতিনিয়ত লালা ঝরবে। কিছু খেতে চাইবে না। সুস্থ গরুর মুখের সামনে খাবার ধরলে সেটা টেনে খাবে। না হলে জাবর কাটবে।

৭. সুস্থ গরুর নাকের উপরের অংশটা ভেজা বা বিন্দু বিন্দু ঘাম জমা থাকবে। অন্যদিকে অসুস্থ গরুর নাক থাকবে শুকনা।

৮. সুস্থ গরুর শরীরের রঙ উজ্জ্বল থাকবে। গরুর পিঠের কুজ মোটা, টানটান ও দাগমুক্ত হবে।

৯. সুস্থ গরুর রানের মাংস শক্ত থাকবে। যেখানে রাসায়নিক দেয়া গরুর পা হবে নরম থলথলে।

১০. গরুর শরীরে হাত দিয়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মনে হলে বুঝতে হবে গরুটি অসুস্থ।

১১. সুস্থ গরুর চামড়ার ওপর দিয়ে কয়েকটা পাঁজরেরহাড় বোঝা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

0